শেয়ারবাজারে তারল্য সংকট কাটছে না

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নানা উদ্যোগের পরও শেয়ারবাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়ছে না। সোমবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন ছিল ৫শ’ কোটি টাকার নিচে। অর্থাৎ নতুন পুঁজি আসছে না। অন্যদিকে বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৈঠকে শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বাজারের উন্নয়নের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ৪টি পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইতে সোমবার ৩৫৩টি কোম্পানির ৯ কোটি ৫ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৩৮৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৬১টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১৩৬টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৫৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ ১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

শীর্ষ দশ কোম্পানি : ডিএসইতে সোমবার যেসব কোম্পানির শেয়ার বেশি লেনদেন হয়েছে সেগুলো হল- মুন্নু স্টাফলার, ন্যাশনাল টিউবস, স্টাইল ক্র্যাফট, মুন্নু সিরামিকস, বিকন ফার্মা, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল, জেএমআই সিরিঞ্জ, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, লিগেসি ফুটওয়্যার এবং ভিএফএস থ্রেড। সোমবার ডিএসইতে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেশি বেড়েছে সেগুলো হল- জিকিউ বলপেন, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ, ভিএফএস থ্রেড, জেমিনী সি ফুড, স্টাইল ক্র্যাফট, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, স্ট্যান্ডার্ন্ড সিরামিকস, মুন্নু স্টাফলার এবং এমএল ডাইং। অন্যদিকে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দাম বেশি কমেছে সেগুলো হল- এসইএমএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড, এসইএমএল আইবিবিএল শরীয়াহ্ ফান্ড, উসমানিয়া গ্লাস, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল টিউবস, কন্ডিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এটলাস বাংলা এবং প্রিমিয়ার ইন্স্যুরেন্স।

মির্জ্জা আজিজ বলেন, পুঁজিবাজারে দেশি-বিদেশি ভালো কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের যে অভাব রয়েছে, তা দূর করতে হবে। তিনি বলেন, সমন্বয়ের অভাবে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বর্তমানে যেমন বিটিআরসি ও গ্রামীণফোনের দ্বন্দ্ব রয়েছে, এগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। এই দ্বন্দ্বের কারণেও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ঢালাওভাবে কোম্পানির আইপিও অনুমোদন দেয়া ঠিক নয়। কারণ আইপিও অনুমোদনের সময় কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে বাস্তব চিত্র না দেখিয়ে একটি সাজানো প্রতিবেদন দেয়া হয়। এতে লেনদেনের প্রথমদিকে দাম বাড়লেও কিছুদিন পর দাম কমে যায়।

এছাড়া ব্যাংকিং খাতের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে সঠিক পদক্ষেপ নেয়ার প্রস্তাবও অর্থমন্ত্রীকে দিয়েছেন বলে জানান মির্জ্জা আজিজ। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতের প্রভাব পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক খায়রুল হোসেন এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী প্রমুখ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×