জাতিসংঘে যাচ্ছে এসডিজির প্রতিবেদন: েদারিদ্র্য নিরসনসহ ১১ লক্ষ্যমাত্রায় অগ্রগতি

জিইডির প্রতিবেদনটি একনেকে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে * শোভন কর্মসংস্থানসহ ৬ লক্ষ্যে পিছিয়ে, সতর্ক হওয়ার তাগিদ

  হামিদ-উজ-জামান ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এসডিজি

নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও এসডিজির (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) ১৭টি লক্ষমাত্রার মধ্যে ১১টিতে অগ্রগতি হয়েছে। বাকি ৬টির ক্ষেত্রে নানা উদ্যোগ থাকলেও এখনও কিছুটা পিছিয়ে থাকায় সতর্ক হওয়ার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রত্যেক লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাসহ সার্বিকভাবে এসডিজি বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও তথ্য প্রাপ্তির সংকটও রয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদেনে উঠে এসেছে এ চিত্র। এ প্রতিবেদন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ২২-২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের অধিবেশনের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেবে এ প্রতিনিধি দল। এ দলের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিবেদনটি অবহিত করা হয়।

প্রতিবেদনটি তৈরির দায়িত্বপ্রাপ্ত জিইডির সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে ২০২০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে ফেলেছে। কিছু সূচকের অগ্রগতি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঠিক পথেই রয়েছে। আবার কিছু সূচকের অগ্রগতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আনতে বিশেষ নজর দিতে হবে। এসডিজির ২৩২টি সূচকের মধ্যে দেশে এ যাবৎ প্রাপ্ত ৮৩টি সূচকের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। তবে এসডিজি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে বিশেষ করে অভীষ্ট ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ সূচকের অগ্রগতি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে উপাত্তের অভাব এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

এটি একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে অবহিত করা হয়েছে। সূত্র জানায়, যেসব লক্ষ্যের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ভালো হয়েছে সেগুলো হল সর্বত্র সব ধরনের দারিদ্র্য অবসান, ক্ষুধা অবসান, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, জেন্ডার সমতা অর্জন, সবার জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, সবার জন্য আধুনিক জ্বালানি সহজলভ্য করা, অভিঘাতসহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ-অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই শিল্পায়নের প্রবর্ধন, অন্তঃ ও আন্তঃদেশীয় অসমতা কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব মোকাবেলায় জরুরি কর্মব্যবস্থা গ্রহণ, সামুদ্রিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব উজ্জীবিতকরণ ও বাস্তবায়নের উপায়গুলো শক্তিশালী করা।

অন্যদিকে যেসব লক্ষ্য অর্জন অগ্রগতি এখনও পিছিয়ে সেগুলো হচ্ছে- সবার জন্য পূর্ণাঙ্গ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান ও শোভন কর্মসুযোগ সৃষ্টি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন। এছাড়া সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক গুণগত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক-নিরাপদ-অভিঘাতহীন এবং টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলা, পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন ধরন নিশ্চিত করা, জীববৈচিত্র্য হ্রাস প্রতিরোধ করা এবং শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ব্যবস্থার প্রচলন করা।

জিইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দারিদ্র্যের হার কমানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি রয়েছে। এক্ষেত্রে ১৯৯১-৯২ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১০ সালে তা কমে হয়েছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে এটি আরও কমে হয়েছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া চরম দারিদ্র্য বা অতিদারিদ্র্য হার ৯১-৯২ সালে ছিল ৪১ শতাংশ। ২০১০ সালে এসে কমে দাঁড়ায় ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ ও ২০১৮ সালে হয়েছে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এক্ষেত্রে বলা হয়েছে দারিদ্র্য দূর করার প্রত্যয় নিয়ে সরকার বহুবিস্তৃত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা খানা ও সুবিধাভোগী উভয় ক্ষেত্রে বিস্তৃতি লাভ করেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×