পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিডের সক্ষমতায় ৬ হাজার কোটি টাকা

একনেকে ১৭ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকার ১৫ প্রকল্প অনুমোদন

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বৃহত্তর কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণ ও সঞ্চালন ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ৫ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থার ৪৭৮ কোটি এবং বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তা হিসেবে ৩ হাজার ৬৪২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। ‘পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং সক্ষমতা বর্ধন’ শীর্ষক এ প্রকল্পটিসহ ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৯৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১১ হাজার ৯৪০ কোটি ৩২ লাখ, বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫ হাজার ৫২৩ কোটি ২২ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৫২৩ কোটি ৬৯ টাকা ব্যয় করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম এবং ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ প্রমুখ। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ আমাদের লাইফলাইন। ছোট-বড়-মাঝারি যে কোনো ধরনের শিল্পায়নের জন্য বিদ্যুৎ দরকার। আবাসিক খাতে বিদ্যুৎ দরকার। কিন্তু যে পরিমাণ বিদ্যুৎ আমাদের জাতীয় গ্রিডে রয়েছে, সঞ্চালন ব্যবস্থার ত্র“টির জন্য তার সবটুকু গ্রাহক পর্যস্ত পৌঁছানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়িয়েছি তিনগুণ, আর এর সঞ্চালন ব্যবস্থা বেড়েছে দুইগুণ। এখন বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতাও বাড়ানো হবে। মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়নের দিকে এগুলোও কৃষিকে বাদ দেয়া যাবে না। কৃষিতে সনাতন কর্ম কৌশলের জায়গায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এটি করতে পারলে উৎপাদন বাড়ানো, সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বর্তমান তরুণ প্রজন্মকেও কৃষিতে আগ্রহী করে তোলা যাবে। মন্ত্রী বলেন, রেলের সব পথ ব্রডগেজে উন্নীত করা হবে। যে সব জায়গায় মিটার গেজ লাইন রয়েছে, সেগুলোকে ডুয়েল গেজের মাধ্যমে ব্রডগেজ করা হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে- বিদ্যুৎ বিভাগের পটুয়াখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্টের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন ও সংরক্ষণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রংপুর অঞ্চলে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন ও সেচ দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি ১৮ লাখ টাকা। ৩২টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ এনভায়রনমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন নতুন সংযুক্ত নাসিরবাদ, দক্ষিণগাঁও, ডেমরা ও মান্ডা এলাকার সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৭৬ কোটি ২৯ লাখ টাকা। কালুখালী ভাটিয়াপাড়া সেকশন পুনর্বাসন এবং কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ-টুঙ্গিপাড়া নতুন রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১১০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বাংলাদেশ রেলওয়ে পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটার গেজ রেলওয়ে লাইনকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি ২১ লাখ টাকা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্য বিভিন্ন বিওপির পরিসীমা বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (বরিশাল জোন) প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। জামালপুর- চেচুয়া-মুক্তাগাছা মহাসড়ক প্রসস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬০ কোটি ৮ লাখ টাকা। শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, গাজীপুর, প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। বাংলাদেশ বীমা খাত প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৩২ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×