আস্থা সংকটে অস্থির শেয়ারবাজার

৩৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে সূচক * প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫২ কমে ৪,৮১০ পয়েন্টে নেমেছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজার

দরপতন চলছেই শেয়ারবাজারে। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৫২ পয়েন্ট। অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮১০ পয়েন্টে, যা প্রায় ৩৪ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান।

এর আগে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর সূচকটি কমে ৪ হাজার ৮০১ পয়েন্টে নেমে এসেছিল। অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪৮ পয়েন্ট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান বাজারের যে অবস্থা তাতে বলা যায়, বাজারের ওপর আস্থা প্রতিনিয়ত হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আর তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সূচকে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে। আর আস্থা সংকট না কাটলে বাজার ইতিবাচক হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। তিনি বলেন, প্রণোদনা দিলে বাজার সাময়িকভাবে উপকৃত হয়। এটি স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, শেয়ারবাজার অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে প্রণোদনার পরিবর্তে এখানে আইন-কানুন সংস্কার জরুরি। না হলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে ফেলে। তিনি বলেন, এ অবস্থার উত্তরণে কৃত্রিমভাবে সূচক না বাড়িয়ে বাজারকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেয়া উচিত।

শেয়ারবাজারে প্রতিনিয়ত দরপতনের কবলে পড়ে পুঁজি হারাচ্ছেন লাখ লাখ বিনিয়োগকারী। এতে দিশেহারা বিনিয়োগকারীদের আর্তনাদ বেড়েই চলছে। পতনের ধকলে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বিনিয়োগকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, যেভাবে শেয়ারবাজারে দরপতন হচ্ছে, তাতে আমরা বাকরুদ্ধ। আমাদের প্রতিবাদ করার ভাষা নেই। সবকিছু চুপচাপ মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে। আর প্রতিদিন বিনিয়োগ করা পুঁজি হারাতে হবে। এটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বেশকিছু ছাড় দিলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। উল্টো পতনের বাজারে লেনদেন খরা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও ডিএসই এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সবকটি মূল্য সূচকের পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে চলতি সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসেই দরপতন হল। টানা দরপতন হলেও শেয়ারবাজারে গতি ফেরাতে সম্প্রতি বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারল্য বাড়াতে রেপোর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহের সুযোগ দিয়েছে বাাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু শেয়ারবাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। উল্টো বেড়েছে তারল্য সংকটের মাত্রা। চলতি মাসে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া সাত কার্যদিবসেই লেনদেনের পরিমাণ তিনশ’ কোটি টাকার ঘরে আটকে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩২৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩২০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ছয় কোটি ৯০ লাখ টাকা।

লেনদেন খরার সঙ্গে ডিএসইতে অংশ নেয়া সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া ৫৯ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার বিপরীতে দরপতন হয়েছে ২৭১টির। ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫২ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ ১২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

এদিকে লেনদেন খরার বাজারে গত কয়েক দিনের মতো টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ন্যাশনাল টিউবসের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৪ কোটি ১৩ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের ১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওয়াটা কেমিক্যাল। এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- অ্যাটলাস বাংলাদেশ, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যাল, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, মুন্নু জুট স্টাফলার্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল এবং বঙ্গজ লিমিটেড।

অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১৪৮ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৬৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৪টির দাম বেড়েছে। কমেছে ১৮৩টির। আর ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×