বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ

ধীরগতির প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ২৩৫ কোটি টাকা

একনেকে উঠছে আজ

  হামিদ-উজ-জামান ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাস্তবায়নে ধীরগতি বিরাজ করছে বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র প্রকল্পে। অনুমোদন পাওয়ার প্রায় সাড়ে ৪ বছর পেরিয়ে গেলেও গত জুন পর্যন্ত বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ। শুরু থেকে এতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ১১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩০ দশমিক ০১ শতাংশ। এ অবস্থায় নতুন করে ব্যয় বাড়ছে ২৩৫ কোটি টাকা। এর পেছনে দেখানো হয়েছে নানা কারণ। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন হচ্ছে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন সোমবার যুগান্তরকে জানান, একনেকের জন্য তৈরি করা নোটিশের এক নম্বরে রয়েছে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ (এমডিএসপি) প্রকল্পটি। এ ছাড়া আরও ৫টি প্রকল্পসহ মোট ৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা বাইরে আপাতত টেবিলে কোনো প্রকল্প উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেই।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে ২৩৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে করা হচ্ছে ৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ৩ হাজার ১৬০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। বাকি ১০ কোটি টাকা ব্যয় হবে সরকারের তহবিল থেকে। তবে মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় নির্বাচিত জেলাগুলোর জনগোষ্ঠীকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করা যাবে এবং স্বল্পমেয়াদি কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা, সাইক্লোন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষের জীবন, সম্পদ, আশ্রয়স্থল, গবাদি পশু এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। তাই উপকূলীয় জনগণের সুরক্ষার প্রয়োজন। এ জন্য এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৯টি জেলায় ৫৫৬টি নতুন বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ এবং ৪৫০টি বিদ্যমান আশ্রয় কেন্দ্র মেরামতের জন্য ২ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারি হতে ২০২১ সালে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। কিন্তু ধীরগতির কারণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ভৌত কাজের প্যাকেজ অনেক বড় এবং তা মূল্যায়নসহ অন্যান্য কাজ অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেক সময়সাপেক্ষ হওয়ায় নির্মাণ কাজের অগ্রগতির বিলম্ব হয়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন, আগাম বৃষ্টিপাত ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর অবস্থান প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় মালামাল পরিবহন কষ্টসাধ্য। প্রকল্পের ৩টি প্যাকেজে সাইক্লোন শেল্টারের ক্রয় প্রস্তাব চলতি বছরের ২৭ মার্চ ক্যাবিনেট কমিটি অন গভর্নমেন্ট পার্সেসে উত্থাপন করা হলে প্রতিটি শেল্টারের প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে অধিক হওয়ায় হালনাগাদ রেট সিডিউলের সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধন করে সিসিজিপিতে উত্থাপনের সুপারিশ করে। এই সুপারিশ ও প্রকল্পের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অন্য কারণগুলো হচ্ছে, এলজিইডির রেট সিডিউল পরিবর্তন, বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে টাকার বিনিময় হারের তারতম্য হওয়ায় সহায়তার পরিমাণ বেড়েছে। তাই বিভিন্ন অংশের ব্যয় সমন্বয় করে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প সংশোধনের ক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, ডিপিপি তৈরির সময় ২০১২-এর রেট সিডিউল অনুযায়ী সাইক্লোন শেল্টারের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। বর্তমানে ২০১৮ সালের রেট সিডিউলের জন্য সাইক্লোন শেল্টারের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে শেল্টারের মূল ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন এবং কিছু আইটেম সংযোজন হওয়ায় প্রতিটি শেল্টারের ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের তারতম্যও ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে টাকার বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প সাহায্যে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাইক্লোন শেল্টারের মেরামত ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বলা হয়, বাস্তবতার নিরিখে বিদ্যমান ৪৫০টি সাইক্লোন শেল্টারের মেরামত ও পুনর্বাসন ব্যয় কমানো হয়েছে। সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যয় কমেছে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট খাতে কম অর্থ প্রকল্পের পূর্তকাজে অন্তর্ভুক্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন অংশের ব্যয় কয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রকল্পের ডিজাইন ও সুপারভিশন, মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশন পরামর্শক অংশ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, ওয়ার্কশপ, প্রকিউরমেন্ট প্যানেল পরবর্তী সময়ে প্রকল্প প্রণয়ন অংশের ব্যয় কমানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×