চীন-বাংলাদেশ শেয়ারবাজার সম্মেলনে বক্তারা

উন্নত প্রযুক্তিই আর্থিক খাতের নিরাপত্তা দিতে পারে

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহায়তা দেবে চীন

  মনির হোসেন, শেনঝেন চীন থেকে ফিরে ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ; কিন্তু মোট জনশক্তির মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ারবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তিক দিক থেকেও সন্তোষজনক অবস্থানে নেই। মাত্র কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউস অনলাইন সুবিধা দিচ্ছে। আর ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারীই লেনদেন করেন সরাসরি গিয়ে অথবা টেলিফোনে। নিয়ন্ত্রক সংস্থায়ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নেই। এ অবস্থায় বাংলাদেশ শেয়ারবাজারে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি। সম্প্রতি চীনের বিখ্যাত শহর শেনঝেনে অনুষ্ঠিত ‘চীন-বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ও টেকনোলজি কনফারেন্সে’ এসব বিষয় উঠে আসে। চীনের বিখ্যাত আইটি কোম্পানি কিংডম এবং শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। এক্ষেত্রে সহায়তা করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স। উভয় দেশের শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস অংশ, আইটি কোম্পানি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন। এ সময়ে বক্তারা ভি-নেক্সট প্ল্যাটফর্মের (একাধিক দেশের বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগকারী মাধ্যম) মাধ্যমে শেয়ারবাজারের উন্নয়নের কথা বলেন। এছাড়াও সম্মেলনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন কিংডম চায়নার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ঝু মিনমো এবং শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের বিদেশবিষয়ক পরিচালক লিউ ফুঝং।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভি-নেক্সট প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে একাধিক দেশের (ক্রসবর্ডার) সঙ্গে সংযোগকারী মাধ্যম। এ মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে উদ্যোক্তারা তথ্য প্রচার, অনলাইনে রোড শো, সভা-সেমিনারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন। বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চীনসহ অন্য দেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ডিএসই এসএমই ও ভি-নেক্সট নামে দুটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সম্প্রতি চালু করেছে ঢাকা ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ। কিংডম চায়নার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ঝু মিনমো বলেন, ৩০ বছর আগে চীন আর্থিক খাতে উন্নত প্রযুক্তির উদ্ভাবন করে। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারসহ আর্থিক খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষেত্রে আমাদের বড় ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যবহৃত প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও আমাদের বড় ধরনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা কাজ করেছি। স্থানীয় অংশীদার হিসেবে আমরা এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চাই। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটি বেশি দূরে নয়। তার মতে, ভার্চুয়ালভাবে সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। এটাকে উৎসাহিত করছে কিংডম। আইটি কোম্পানিগুলোকে এদিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছি। আর ভার্চুয়াল জগতের উন্নয়নে কিংডম প্রযুক্তিক সহায়তা দেবে।

ডিএসইর চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল হাশেম বলেন, অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, এ সম্মেলনের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বাড়বে। বিশেষ করে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে এর প্রভাব পড়বে। এ সময়ে বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে চীনকে আরও সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ও আর্থিক খাতে প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় কিংডমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বাংলাদেশকে প্রযুক্তিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। বিশেষ করে অনলাইন ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম, তথ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য সহায়তা দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাহিদার আলোকে আইটি পণ্য তৈরি করবে প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে যেসব খাতে সহায়তা দিতে চায় এর মধ্যে রয়েছে- রিয়েল টাইম ট্রেডিং এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সিস্টেম, মার্জিন ট্রেডিং সিস্টেম, স্টক অপশন, অটোমেটিক টেস্টিং অ্যান্ড অপারেশন্স। কিংডমের গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়াও ৩৫৫ জন ব্রোকারের মধ্যে মাত্র কয়েকটি হাউস অনলাইনে লেনদেন করার সুবিধা দিতে পেরেছে। ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারী লেনদেন করেন টেলিফোন বা সরাসরি উপস্থিত থেকে। ফলে এখানে প্রযুক্তির উন্নয়নের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু চীনে ৯৫ শতাংশ বিনিয়োগকারী মোবাইলের মাধ্যমে নিজেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। ইন্টারনেটের মাধ্যমে শতভাগ লেনদেন হয়। তারা বলেন, চীনে ১৩১টি ব্রোকারেজ হাউসের ১৫ কোটি ৪০ লাখ এবং হংকংয়ে ৮ শতাধিক ব্রোকারেজ হাউসের ১ কোটি ৫০ লাখ গ্রাহক কিংডম প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেন করছেন।

এছাড়াও আইটি বিষয়ক এক সেশনে কিংডমের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপস্থাপনায় জানানো হয়, পুরো বিশ্বকে পরিবর্তন করে দিয়েছে টেলিকম খাত। বিশেষ করে যোগাযোগ এবং পেমেন্টের ক্ষেত্রে এটি বিপ্লব এনেছে। আর ৫জির (পঞ্চম জেনারেশন) প্রযুক্তির সঙ্গে চলতে গিয়ে ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজির (ফিনটেক) বিকল্প নেই। তারা বলেন, বিভিন্ন খাত একই প্ল্যার্টফর্মে আনার ক্ষেত্রে কাজ করে ফিনটেক। চীনের আজকের উন্নয়নে ফিনটেকের ভূমিকা রয়েছে। এ সময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের পাশাপাশি নিরাপত্তায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অনেকে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেন কিন্তু ওই প্রযুক্তির নিরাপত্তা আরও বেশি জরুরি।

কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে গত বছরের ১৪ মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডিএসই। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনবে। এজন্য প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ২১ টাকা দরে মোট ৯৬২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে চীনা জোট। এছাড়াও স্টক এক্সচেঞ্জের কারিগরি সহায়তার জন্য আরও ৩০৭ কোটি টাকা দেয়ার চুক্তি করেছে চীন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×