চার নদী রক্ষায় ব্যয় হবে ৮৪৮ কোটি টাকা

পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটি নির্মাণ

  হামিদ-উজ-জামান ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চার নদী রক্ষায় ব্যয় হবে ৮৪৮ কোটি টাকা
বুড়িগঙ্গা নদী

রাজধানীর প্রাণ বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদী রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে পিলার স্থাপন সংক্রান্ত প্রকল্পটি। এর মাধ্যমে নদীগুলোর তীর ভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটি নির্মাণ করা হবে।

ফলে অবৈধ দখল রোধ করাসহ নদীর তীরের সৌন্দর্য বাড়বে এবং পরিবেশগত উন্নতি নিশ্চিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের সচিব কাজী ওয়াকিল নেওয়াজ রোববার যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন এই নদীগুলোকে পানির আধার তৈরি করতে। তাই এই চারটি নদীর তীর সংরক্ষণ করা হলে নদীগুলো অন্তত সংকুচিত হবে না।

দখলমুক্ত রাখা সম্ভব হবে। ফলে পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে নদীর পাড়ে ওয়ার্কওয়ে তৈরি হলে জনগণের হাঁটাচলার মতো সুবিধাজনক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। কমিশন সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়াকরণ শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অনুমোদন পেলে আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকা বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা এই ৪টি নদী দিয়ে বেষ্টিত। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য নদীগুলোর তীরে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গীতে ৩টি অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর রয়েছে।

কিন্তু এসব নদীর তীরভূমির বিভিন্ন জায়গা অবৈধ দখলদারদের কবলে রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা ব্যবসা পরিচালনার জন্য আরসিসি কাঠামো তৈরি করেছেন। ফলে নদীগুলোর প্রশস্ততা এবং নৌ চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় গভীরতা কমে যাচ্ছে।

যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের মাপকাঠিতে ঢাকা নদীবন্দর, যা বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ঘেঁষে অবস্থিত। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নদীবন্দর। বন্দরটির আওতায় বুড়িগঙ্গা নদী ও তুরাগ নদের প্রায় ৪২ কিলোমিটার তীরভূমি রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর শীতলক্ষ্যার তীরে অবস্থিত, যা প্রাচ্যের ড্যান্ডি হিসেবে খ্যাত। বড় নদীবন্দরগুলোর মধ্যে অন্যতম এই নদীবন্দরটির পোর্ট লিমিট ২৭ কিলোমিটার।

অন্যটি টঙ্গী অভ্যন্তরীণ নৌ বন্দর, যা তুরাগ নদের তীরে অবস্থিত এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও ব্যবসা কেন্দ্রকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই বন্দরের পোর্ট লিমিট প্রায় ৩৮ কিলোমিটার, যা টঙ্গী ও ডেমরার মাঝে অবস্থিত তুরাগ ও বালু নদীর তীরভূমির অন্তর্ভুক্ত।

অনুমোদিত ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। প্রশাসনিকভাবে তীরভূমির সংরক্ষণ এবং নদী ও নৌপথ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ পালন করে। এজন্য বিআইডব্লিউটিএ বিভিন্ন সময় নদীর তীরভূমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেয়।

এ পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং এখনও বিআইডব্লিউটিএ নিয়মিতভাবে এ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সংস্থাটি বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীরভূমিতে বিদ্যমান অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও উচ্ছেদকৃত তীরভূমি পরবর্তীতে দখলদারদের হাত থেকে সংরক্ষণ করা কষ্টকর হয়।

ঢাকা মহনগরীর চারদিকে নদী তীরবর্তী স্থানগুলো ওয়াকওয়ে (হাঁটার রাস্তা) নির্মাণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের সভাপতিত্বে ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার অন্যতম সিদ্ধান্ত হলো ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দু-পাশ অবৈধ দখলমুক্ত রাখার জন্য তীরভূমিতে ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ চলমান রাখতে হবে।

ওয়াকওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি তীরবর্তী জায়গায় জনগণের জন্য বসার বেঞ্চ, ইকো পার্ক, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি কাজ হাতে নেয়া যেতে পারে। এজন্য ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌ-পথের মোট ১২০ কিলোমিটার তীরভূমির মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২০ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫২ কিলোমিটার অংশ অন্তর্ভুক্ত করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করেছে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অংশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।

এ বিষয়ে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ একনেকের জন্য তৈরি সার-সংক্ষেপে উল্লেখ করে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকাকে বেষ্টিত করে রাখা চারটি নদীর তীরভূমির অবৈধ দখলরোধ, পরিবেশ উন্নয়ন সাধন, সৌন্দর্য বর্ধন ও জনসাধারণের চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter