জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে চাপে পড়বে অর্থনীতি
jugantor
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে চাপে পড়বে অর্থনীতি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

৩১ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। করোনার প্রকোপ কমার কারণে ইতোমধ্যে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকার কারণে এ খাতে আমদানি বাবদ ব্যয়ও বাড়বে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ছিল ৪৯ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৫৩ ডলারে ওঠে। মার্চে আরও বেড়ে ওঠে ৬০ ডলারে। এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাম দাড়ায় ৬৫ ডলার। মে মাসে সামান্য কমে ৬৪ ডলারে নেমেছিল। কিন্তু জুন মাসেই এর দাম আরও বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৬ ডলারে ওঠে। জুলাইতে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ ডলার। আগস্টে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৭৪ ডলার।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর দাম আরও বাড়তে পারে। কেননা করোনা মহামারি কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বড় বড় ইভেন্ট ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদা আরও বাড়বে। চাহিদা বাড়লে দামও আরও বাড়তে পারে। করোনার গত প্রায় দেড় বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা কম থাকায় তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের উত্তোলন কমিয়ে মূল্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন চাহিদাজনিত কারণে তেলের উত্তোলন যেমন বেড়েছে। তেমনি দামও বাড়তে শুরু করেছে। গত আট মাসে প্রতি ব্যারেলে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

এদিকে বাংলাদেশেও করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে এখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সরকার থেকে এমন সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে করোনার বড় ধরনের কোনো সংক্রমণ না হলে আর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোদমে সচল করা হবে। অচিরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে অচিরেই বেসরকারি খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এতে দেশের ভেতরেও জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। বর্তমানে বিদ্যুতের একটি অংশ জ্বালানি তেল দিয়ে উৎপাদন হচ্ছে। তখন জ্বালানি আমদানিও বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, করোনাকালীন জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কম থাকায় এ খাতে আমদানি ব্যয় কম হয়েছে।

গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪২৯ কোটি ডলার। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ৪৫২ কোটি ডলার। এক বছরে আমদানি ব্যয় কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। একই সময়ে এলসি খোলার হার কমেছে ৮ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে জ্বালানি তেলের আমদানি ও এলসি খোলার হার বাড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম আরও বাড়লে এ খাতে ব্যয়ও বেড়ে যাবে। সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালনি তেল ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে আমদানি ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনার মধ্যে গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। একই সময়ে এলসি খোলা বেড়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে চাপে পড়বে অর্থনীতি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
৩১ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। করোনার প্রকোপ কমার কারণে ইতোমধ্যে আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। চলতি অর্থবছরে এ ব্যয় আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকার কারণে এ খাতে আমদানি বাবদ ব্যয়ও বাড়বে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্র জানায়, গত জানুয়ারি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ছিল ৪৯ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ৫৩ ডলারে ওঠে। মার্চে আরও বেড়ে ওঠে ৬০ ডলারে। এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ব্যারেলপ্রতি দাম দাড়ায় ৬৫ ডলার। মে মাসে সামান্য কমে ৬৪ ডলারে নেমেছিল। কিন্তু জুন মাসেই এর দাম আরও বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৬ ডলারে ওঠে। জুলাইতে বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ ডলার। আগস্টে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৭৪ ডলার।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর দাম আরও বাড়তে পারে। কেননা করোনা মহামারি কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বড় বড় ইভেন্ট ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদা আরও বাড়বে। চাহিদা বাড়লে দামও আরও বাড়তে পারে। করোনার গত প্রায় দেড় বছর জ্বালানি তেলের চাহিদা কম থাকায় তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোর সংগঠন ওপেকের উত্তোলন কমিয়ে মূল্য ধরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু এখন চাহিদাজনিত কারণে তেলের উত্তোলন যেমন বেড়েছে। তেমনি দামও বাড়তে শুরু করেছে। গত আট মাসে প্রতি ব্যারেলে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

এদিকে বাংলাদেশেও করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে এখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সরকার থেকে এমন সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে করোনার বড় ধরনের কোনো সংক্রমণ না হলে আর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে না। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোদমে সচল করা হবে। অচিরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও খুলে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সচল হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। আশা করা হচ্ছে অচিরেই বেসরকারি খাত আবার ঘুরে দাঁড়াবে। এতে দেশের ভেতরেও জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যাবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়বে। বর্তমানে বিদ্যুতের একটি অংশ জ্বালানি তেল দিয়ে উৎপাদন হচ্ছে। তখন জ্বালানি আমদানিও বাড়াতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, করোনাকালীন জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে কম থাকায় এ খাতে আমদানি ব্যয় কম হয়েছে।

গত অর্থবছরে জ্বালানি তেল আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪২৯ কোটি ডলার। গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছিল ৪৫২ কোটি ডলার। এক বছরে আমদানি ব্যয় কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। একই সময়ে এলসি খোলার হার কমেছে ৮ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে জ্বালানি তেলের আমদানি ও এলসি খোলার হার বাড়তে শুরু করেছে। তেলের দাম আরও বাড়লে এ খাতে ব্যয়ও বেড়ে যাবে। সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালনি তেল ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। এ কারণে আমদানি ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। করোনার মধ্যে গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় বেড়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। একই সময়ে এলসি খোলা বেড়েছে সাড়ে ১৯ শতাংশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন