এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি
jugantor
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি

গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। ফলে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে গ্রামের মানুষ। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ এখন সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা জমা রাখার পাশাপাশি ঋণ পাচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ঋণের অর্থও আদায় করা হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এসব কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। তবে শহরের চেয়ে গ্রামে বাড়ছে বেশি। এ পরিষেবার মাধ্যমে গ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এখন ২৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স পেয়েছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত ছিল ২৩টি। গত এক বছরে আরও ৫টি ব্যাংক লাইসেন্স পেয়েছে। গত বছরের জুনে এজেন্টের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৬৪টি। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯১২টিতে। এক বছরে এজেন্ট বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আউটলেট গত বছরের জুনে ছিল ১২ হাজার ৪৪৯টি। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ১৪৫টি। এক বছরে বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২২ লাখ। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামে বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। ওইসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গত এক বছরের ব্যবধানে আমানত সংগ্রহ বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩৪২ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ।

সূত্র জানায়, শহরে শাখার সংখ্যা বেশি থাকায় গ্রাহকরা শাখা থেকেই ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছে। তবে অনেক বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে। তবে গ্রামে শাখার সংখ্যা কম হওয়ায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসার ঘটছে। গত এক বছরের ব্যবধানে গ্রামে এজেন্ট বেড়েছে ৮৬ শতাংশ। শহরে বেড়েছে ১৪ শতাংশ। আউটলেট গ্রামে বেড়েছে ৮৭ শতাংশ এবং শহরে বেড়েছে ১৩ শতাংশ। গ্রাহকের সংখ্যা গ্রামে বেড়েছে ৮৬ শতাংশ এবং শহরে বেড়েছে ১৪ শতাংশ। হিসাবের মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব সবচেয়ে বেশি। মোট হিসাবের মধ্যে সাড়ে ৮৫ শতাংশ সঞ্চয়ী, চলতি হিসাব আড়াই শতাংশ এবং ২০ শতাংশ অন্যান্য হিসাব। রেমিট্যান্সের মধ্যে গ্রামে বিতরণ করা হয়েছে ৯১ শতাংশ এবং শহরে ৯ শতাংশ। এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ, দ্বিতীয় অবস্থানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২৭ শতাংশ, তৃতীয় অবস্থানে ইসলামী ব্যাংকের ১৪ শতাংশ, চতুর্থ সিটি ব্যাংকের সাড়ে ৭ শতাংশ এবং পঞ্চম অবস্থানে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ আউটলেট রয়েছে। হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার ৩৬ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৩৩ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ১৫ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ এবং অগ্রণী ব্যাংকের প্রায় ৩ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি আমানত সংগ্রহ করে ইসলামী ব্যাংক সাড়ে ৩৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ১৫ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১৫ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১৩ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক ১১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে ব্র্যাক ব্যাংক ৬৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ২০ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১১ শতাংশ, আল-আরাফাহ ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আড়াই শতাংশ।

রেমিট্যান্স বিতরণে এগিয়ে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক ৫৫ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক সাড়ে ২৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার ১১ শতাংশ, আল-আরাফাহ ব্যাংকের সাড়ে ৫ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি

 যুগান্তর প্রতিবেদন 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে চাঙা গ্রামীণ অর্থনীতি
ফাইল ছবি

গ্রামে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটছে। ফলে ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে গ্রামের মানুষ। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামের মানুষ এখন সঞ্চয়ী হিসাবে টাকা জমা রাখার পাশাপাশি ঋণ পাচ্ছে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অর্থও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ঋণের অর্থও আদায় করা হচ্ছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এসব কর্মকাণ্ড বেড়েই চলেছে। তবে শহরের চেয়ে গ্রামে বাড়ছে বেশি। এ পরিষেবার মাধ্যমে গ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য তথা গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে। এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এখন ২৮টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স পেয়েছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত ছিল ২৩টি। গত এক বছরে আরও ৫টি ব্যাংক লাইসেন্স পেয়েছে। গত বছরের জুনে এজেন্টের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭৬৪টি। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৯১২টিতে। এক বছরে এজেন্ট বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আউটলেট গত বছরের জুনে ছিল ১২ হাজার ৪৪৯টি। গত জুনে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ১৪৫টি। এক বছরে বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ২২ লাখ। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে গ্রামে বেড়েছে ৬৫ শতাংশ। ওইসব অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গত এক বছরের ব্যবধানে আমানত সংগ্রহ বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৩৪২ শতাংশ এবং রেমিট্যান্স বিতরণ বেড়েছে ১৫৫ শতাংশ।

সূত্র জানায়, শহরে শাখার সংখ্যা বেশি থাকায় গ্রাহকরা শাখা থেকেই ব্যাংকিং সেবা নিচ্ছে। তবে অনেক বাজারে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম রয়েছে। তবে গ্রামে শাখার সংখ্যা কম হওয়ায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসার ঘটছে। গত এক বছরের ব্যবধানে গ্রামে এজেন্ট বেড়েছে ৮৬ শতাংশ। শহরে বেড়েছে ১৪ শতাংশ। আউটলেট গ্রামে বেড়েছে ৮৭ শতাংশ এবং শহরে বেড়েছে ১৩ শতাংশ। গ্রাহকের সংখ্যা গ্রামে বেড়েছে ৮৬ শতাংশ এবং শহরে বেড়েছে ১৪ শতাংশ। হিসাবের মধ্যে সঞ্চয়ী হিসাব সবচেয়ে বেশি। মোট হিসাবের মধ্যে সাড়ে ৮৫ শতাংশ সঞ্চয়ী, চলতি হিসাব আড়াই শতাংশ এবং ২০ শতাংশ অন্যান্য হিসাব। রেমিট্যান্সের মধ্যে গ্রামে বিতরণ করা হয়েছে ৯১ শতাংশ এবং শহরে ৯ শতাংশ। এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনায় শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ, দ্বিতীয় অবস্থানে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ২৭ শতাংশ, তৃতীয় অবস্থানে ইসলামী ব্যাংকের ১৪ শতাংশ, চতুর্থ সিটি ব্যাংকের সাড়ে ৭ শতাংশ এবং পঞ্চম অবস্থানে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ আউটলেট রয়েছে। হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ব্যাংক এশিয়ার ৩৬ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ৩৩ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ১৫ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ এবং অগ্রণী ব্যাংকের প্রায় ৩ শতাংশ। তবে সবচেয়ে বেশি আমানত সংগ্রহ করে ইসলামী ব্যাংক সাড়ে ৩৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ১৫ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১৫ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১৩ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক ১১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করে ব্র্যাক ব্যাংক ৬৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়া ২০ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১১ শতাংশ, আল-আরাফাহ ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আড়াই শতাংশ।

রেমিট্যান্স বিতরণে এগিয়ে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক ৫৫ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক সাড়ে ২৩ শতাংশ, ব্যাংক এশিয়ার ১১ শতাংশ, আল-আরাফাহ ব্যাংকের সাড়ে ৫ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংকের সাড়ে ৩ শতাংশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন