স্বর্ণ ব্যবসায় মন্দা কাটছে না
jugantor
লোকসানে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা
স্বর্ণ ব্যবসায় মন্দা কাটছে না
ভরিতে কমল ১৫১৬ টাকা

  ইকবাল হোসেন  

০২ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশে স্বর্ণের ব্যবসায় মন্দাভাব কাটছে না। বেচাবিক্রি অত্যন্ত কম। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ৫১৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন এ দাম শুক্রবার কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানায়, করোনাকালীন বিশ্ব অর্থনীতির নানা জটিল সমীকরণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিুমুখী। তাই দেশীয় জুয়েলারি বাজারের অচলাবস্থা কাটাতে ও ভোক্তা সাধারণের কথা চিন্তা করে বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান কম হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে মন্দাভাব এসেছে। তবে দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম মন্দা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি কম হওয়ায় মাস শেষে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বিগত বছরগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে স্বর্ণের ব্যবসা কমবেশি বিক্রি হলেও রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি বাড়ে। কিন্তু চলতি বছরের আট মাস সামাজিক অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ ও ঈদকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ বিক্রি কয়েকগুণ কমেছে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, নিউ মার্কেট ও পান্থপথ বসুন্ধরা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় স্বর্ণের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাশূন্য বেশিরভাগ দোকান। নিউ মার্কেটের সবচেয়ে বড় দোকান সানন্দা জুয়েলার্সেও অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারিতে স্বর্ণ ব্যবসায় বিক্রি বাড়েনি। মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মাত্র বিক্রি হচ্ছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের খরচ, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ বাবদ যে টাকা খরচ হয় বিক্রি থেকে তাও উঠছে না। অর্থাৎ এখন দোকান খোলা রাখলেই প্রতিদিন লোকসানে পড়ছেন মালিকরা। করোনার কারণে দেড় বছর ধরে দেশ ও বিদেশে সোনার বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত বছরের ৬ আগস্ট দেশে সোনার দাম ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা ভরি হয়েছিল। সেটিই ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম।

এদিকে বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর কথা জানানো হয়। নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হয়েছে ৭১ হাজার ৯৬৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৬৮ হাজার ৮১৮ ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬০ হাজার ৭০ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমে হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৪৭ টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভরিপ্রতি এ দাম ছিল ২২ ক্যারেটের ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭০ হাজার ৩৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬১ হাজার ৫৮৬ এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম ৫১ হাজার ২৬৩ টাকা।

স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার আগের নির্ধারিত দামই বহাল রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২২ আগস্ট সব মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ৫১৬ টাকা করে বাড়ানো হয়।

লোকসানে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা

স্বর্ণ ব্যবসায় মন্দা কাটছে না

ভরিতে কমল ১৫১৬ টাকা
 ইকবাল হোসেন 
০২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশে স্বর্ণের ব্যবসায় মন্দাভাব কাটছে না। বেচাবিক্রি অত্যন্ত কম। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ৫১৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন এ দাম শুক্রবার কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানায়, করোনাকালীন বিশ্ব অর্থনীতির নানা জটিল সমীকরণে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা নিুমুখী। তাই দেশীয় জুয়েলারি বাজারের অচলাবস্থা কাটাতে ও ভোক্তা সাধারণের কথা চিন্তা করে বাজুস দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জানা গেছে, করোনা মহামারির কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান কম হওয়ায় স্বর্ণের বাজারে মন্দাভাব এসেছে। তবে দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম মন্দা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিক্রি কম হওয়ায় মাস শেষে দোকান ভাড়া ও কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। বিগত বছরগুলোতে স্বাভাবিক সময়ে স্বর্ণের ব্যবসা কমবেশি বিক্রি হলেও রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি বাড়ে। কিন্তু চলতি বছরের আট মাস সামাজিক অনুষ্ঠান প্রায় বন্ধ ও ঈদকে কেন্দ্র করে স্বর্ণ বিক্রি কয়েকগুণ কমেছে।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম, নিউ মার্কেট ও পান্থপথ বসুন্ধরা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট-বড় স্বর্ণের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাশূন্য বেশিরভাগ দোকান। নিউ মার্কেটের সবচেয়ে বড় দোকান সানন্দা জুয়েলার্সেও অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা।

বায়তুল মোকাররম মার্কেটের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, করোনা মহামারিতে স্বর্ণ ব্যবসায় বিক্রি বাড়েনি। মার্কেটের অধিকাংশ দোকানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মাত্র বিক্রি হচ্ছে। দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের খরচ, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য খরচ বাবদ যে টাকা খরচ হয় বিক্রি থেকে তাও উঠছে না। অর্থাৎ এখন দোকান খোলা রাখলেই প্রতিদিন লোকসানে পড়ছেন মালিকরা। করোনার কারণে দেড় বছর ধরে দেশ ও বিদেশে সোনার বাজারে অস্থিরতা চলছে। গত বছরের ৬ আগস্ট দেশে সোনার দাম ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা ভরি হয়েছিল। সেটিই ছিল দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম।

এদিকে বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান ও সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানোর কথা জানানো হয়। নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম হয়েছে ৭১ হাজার ৯৬৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৬৮ হাজার ৮১৮ ও ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬০ হাজার ৭০ টাকা। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমে হয়েছে ৪৯ হাজার ৭৪৭ টাকা। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভরিপ্রতি এ দাম ছিল ২২ ক্যারেটের ৭৩ হাজার ৪৮৩ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭০ হাজার ৩৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬১ হাজার ৫৮৬ এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি দাম ৫১ হাজার ২৬৩ টাকা।

স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার আগের নির্ধারিত দামই বহাল রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৫১৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম এক হাজার ৪৩৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক হাজার ২২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৯৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২২ আগস্ট সব মানের স্বর্ণের দাম ভরিতে এক হাজার ৫১৬ টাকা করে বাড়ানো হয়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন