চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে
jugantor
এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে
বিসিসিসিআই-ইপিবি ওয়েবিনার

  যুগান্তর প্রতিবেদন  

১৫ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের উচিত চীনে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে আরও সংক্রিয়ভাবে কাজ করা। কারণ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি অতি সামান্য।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত ‘চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সম্ভাবনা : অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা কীভাবে কাজে লাগানো যায়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে শনিবার বক্তারা এ কথা বলেন।

ইপিবির মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বিআইডিএসর রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট শিবান শাহানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।

এ সময় রিসার্স অ্যান্ড পলিসি ইন্টারগেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আবু ইউসুফ বলেন, শীর্ষ রপ্তানিকারক হওয়ার পাশাপাশি চীন নিজেও বড় আমাদনিকারক দেশ। চীনের রয়েছে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের স্থানীয় বাজার। বাংলাদেশ যদি চীনের এই বাজারের এক শতাংশও অর্জন করতে পারে, তাহলে কেবল চীনেই ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন রপ্তানির সুযোগ আসতে পারে। আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের একটি মসৃণ গ্র্যাজুয়েশনের জন্য চীনের এই বাজারকে টার্গেট করা উচিত।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণটা মসৃণ করতে বাংলাদেশের উচিত হবে চীনের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাজারের দিকে সমানভাবে ফোকাস করা। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য একটি ট্রাম্পকার্ড হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বলেন, বাংলাদেশকে চীনের দেওয়া প্রবেশাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমাদের রপ্তানি বাস্কেটকে বৈচিত্র্যময় করার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য চীনের সাংহাইয়ে একটি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রের জন্যও সরকার কাজ করছে বলে জানা তিনি। ড. মাহফুজ কবির বলেন, ৮ হাজার ২৫৬টি পণ্যের জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া চীনের প্রবেশাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা গত বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের কার্যকারিতার সঙ্গে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় পণ্যের প্রস্তুতির অভাব ও করোনা মহামারির কারণে তা ব্যাহত হয়েছে।

বিসিসিআইয়ের যুগ্ম-সাধার সম্পাদক আল মামুন মৃধা বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন দ্রুত গতিতে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় একমুখী, যা প্রবলভাবে চীনের পক্ষে গেছে। চীনের প্রবেশাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা কম ব্যবহার হওয়ার কারণে এই বাণিজ্য ব্যবধান ক্রমাগতভাবে বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে চীনের উচিত সহায়তা করা, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে কমাতে সহায়তা করবে।

এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

চীনে রপ্তানি বাড়াতে হবে

বিসিসিসিআই-ইপিবি ওয়েবিনার
 যুগান্তর প্রতিবেদন 
১৫ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
ফাইল ছবি

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের উচিত চীনে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে আরও সংক্রিয়ভাবে কাজ করা। কারণ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আমদানিকারক চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি অতি সামান্য।

বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) আয়োজিত ‘চীনা বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সম্ভাবনা : অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা কীভাবে কাজে লাগানো যায়’ শীর্ষক ওয়েবিনারে শনিবার বক্তারা এ কথা বলেন।

ইপিবির মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও বিআইডিএসর রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট শিবান শাহানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।

এ সময় রিসার্স অ্যান্ড পলিসি ইন্টারগেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‌্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. আবু ইউসুফ বলেন, শীর্ষ রপ্তানিকারক হওয়ার পাশাপাশি চীন নিজেও বড় আমাদনিকারক দেশ। চীনের রয়েছে প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের স্থানীয় বাজার। বাংলাদেশ যদি চীনের এই বাজারের এক শতাংশও অর্জন করতে পারে, তাহলে কেবল চীনেই ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন রপ্তানির সুযোগ আসতে পারে। আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের একটি মসৃণ গ্র্যাজুয়েশনের জন্য চীনের এই বাজারকে টার্গেট করা উচিত।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণটা মসৃণ করতে বাংলাদেশের উচিত হবে চীনের বিনিয়োগ এবং রপ্তানি বাজারের দিকে সমানভাবে ফোকাস করা। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য একটি ট্রাম্পকার্ড হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান বলেন, বাংলাদেশকে চীনের দেওয়া প্রবেশাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমাদের রপ্তানি বাস্কেটকে বৈচিত্র্যময় করার দিকে মনোনিবেশ করা উচিত। বাংলাদেশি পণ্য প্রদর্শনের জন্য চীনের সাংহাইয়ে একটি স্থায়ী প্রদর্শনী কেন্দ্রের জন্যও সরকার কাজ করছে বলে জানা তিনি। ড. মাহফুজ কবির বলেন, ৮ হাজার ২৫৬টি পণ্যের জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া চীনের প্রবেশাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা গত বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন শুল্কমুক্ত বাজারে প্রবেশের কার্যকারিতার সঙ্গে চীনে বাংলাদেশের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুযায়ী বৈচিত্র্যময় পণ্যের প্রস্তুতির অভাব ও করোনা মহামারির কারণে তা ব্যাহত হয়েছে।

বিসিসিআইয়ের যুগ্ম-সাধার সম্পাদক আল মামুন মৃধা বলেন, বাংলাদেশ ও চীন ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উপভোগ করে আসছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়ন দ্রুত গতিতে উন্নীত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় একমুখী, যা প্রবলভাবে চীনের পক্ষে গেছে। চীনের প্রবেশাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধা কম ব্যবহার হওয়ার কারণে এই বাণিজ্য ব্যবধান ক্রমাগতভাবে বাড়ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে চীনের উচিত সহায়তা করা, যা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে কমাতে সহায়তা করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন