কেরানীগঞ্জের পোশাক পল্লীতে পাইকারদের ভিড় বাড়ছে

ঈদ মৌসুমে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেনের আশা

  ইয়াসিন রহমান ২২ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদকে সামনে রেখে জমে উঠছে কেরানীগঞ্জের পাইকারি পোশাক মার্কেট। বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষা তৈরি পোশাক পল্লীতে প্রতিদিন পাইকারদের ভিড় বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা খুচরা বিক্রেতারা ঘুরে ঘুরে কিনছেন পছন্দসই ঈদ পোশাক। এছাড়া নাওয়া-খাওয়া ভুলে সেখানকার পোশাক কারখানার কারিগররা রাত-দিন বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কারও যেন একটু দম ফেলার ফুরসত নেই। মেয়েদের থ্রি-পিস, ছেলেদের প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট থেকে শুরু করে ছোটদের পোশাক- সবকিছুই তৈরি ও পাইকারি বিক্রি হচ্ছে এ পল্লীতে।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে প্রায় আট হাজার পোশাক কারখানা আছে। বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা দশ হাজারের বেশি। আর এ ঈদ মৌসুমে দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেনের টার্গেট রয়েছে ব্যবসায়ীদের। এছাড়া সারা বছর যে ব্যবসা হয় তার ৬০-৭০ শতাংশই দুই ঈদকেন্দ্রিক। সে জন্য গত কোরবানির ঈদের পর থেকেই পোশাক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে কারখানাগুলো। আর শবেবরাতের পর বেচাবিক্রি পুরোদমে শুরু হয়েছে।

রোববার সরেজমিন কেরানীগঞ্জের পাইকারি পোশাক মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সেখানকার প্রতিটি মার্কেট ও দোকানে ভিড় করছেন পাইকাররা। কেউ জিন্স প্যান্ট কেউবা আবার মেয়েদের থ্রি-পিস কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দোকানিরাও ব্যস্ত বেচাবিক্রিতে। কারও যেন দম ফেলার সময় নেই। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ পূর্ব আগানগর জেলা পরিষদ মার্কেটের আল-ফাহিম গার্মেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. নূরে আলম যুগান্তরকে বলেন, শবেবরাতের পর থেকে পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছে। তখন থেকেই পাইকাররা আসতে শুরু করেছেন। তবে রমজানের এক সপ্তাহ আগে থেকে বেচাবিক্রি ভালো হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে এ বেচাবিক্রি, যা শেষ হবে ১৫ রোজার পর।

কেরানীগঞ্জ গুদারাঘাট সংলগ্ন আলম টাওয়ার মার্কেটের এ আর গার্মেন্টের পাইকারি পাঞ্জাবি ব্যবসায়ী মো. আবিদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শবেবরাতের পর থেকে পাঞ্জাবির পাইকারি বাজার জমে উঠেছে। গত বছরের তুলনায় এবার বেশি বিক্রি হবে বলে জানান তিনি। শহিদুল আলম সুপার মার্কেটে ঈদ ফ্যাশনের ম্যানেজার মো. আবদুল করিম বলেন, এবার ঈদের বাজার ধরতে আমরা দুই-তিন মাস আগে থেকেই পাঞ্জাবি তৈরি করতে শুরু করেছি। কারণ ঈদের ব্যস্ততায় পাঞ্জাবি তৈরি করলে এর মান নষ্ট হয়ে যায়। তাই গুণগতমান ঠিক রাখার জন্য সময় নিয়ে পাঞ্জাবি তৈরি করছি এবং আশা করি বিক্রিও ভালো হবে।

পূর্ব আগানগরের শহীদুল আলম সুপার মার্কেটের মা গার্মেন্টের মালিক মো. আরী হোসেন রানা বলেন, দেশের ঈদের পোশাকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ছোটদের পোশাক, মেয়েদের থ্রি-পিস কেরানীগঞ্জ থেকে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আর এ বছরও এর ব্যতিক্রম হবে না। তিনি বলেন, ঈদকে ঘিরে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছেন। আর গত বছরের চেয়ে এবার বিক্রি ভালো হবে বলে তিনি আশা করেন। জানতে চাইলে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমবায় সমিতির কোষাধ্যক্ষ শেখ কাওসার যুগান্তরকে বলেন, বছরের প্রতিদিন কেরানীগঞ্জের পোশাক কারখানাগুলো সচল থাকে। তবে ঈদকে ঘিরে কেরানীগঞ্জের পোশাক পল্লীর কারখানাগুলোর ব্যস্ততা বহুগুণ বেড়ে যায়। দেশে এখনও স্বল্পআয়ের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রেখেই কেরানীগঞ্জের কারখানাগুলোতে পোশাক তৈরি হয়। আর সন্তোষজনক মান ও কম দামের কারণেই এখানকার পোশাকের চাহিদা সব সময়ই বেশি। তিনি বলেন, এবার ঈদকে টার্গেট করে কেরানীগঞ্জের পাইকারি বেচাকেনায় প্রায় এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা লেনদেন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.