ঠাকুরগাঁও চিনিকলে লোকসান ৪৫০ কোটি টাকা

অবিক্রীত প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন

  এটিএম সামসুজ্জোহা, ঠাকুরগাঁও ২৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঠাকুরগাঁও চিনিকলে লোকসান ৪৫০ কোটি টাকা
ঠাকুরগাঁও চিকিল

প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনছে ঠাকুরগাঁও চিনিকল। বর্তমানে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা। চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, পরিকল্পনার অভাব, অদক্ষ শ্রমিক, চিনি আহরণের হার হ্রাস পাওয়া, উৎপাদিত চিনি পড়ে থাকা ও ঋণের ঘানি টানাসহ নানা কারণে এ লোকসান দিনদিন বাড়ছে।

জানা গেছে, ১৯৫৬ সালে প্রায় দুই কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ একর জমি উপর চিনিকলটির নির্মাণ শুরু হয়। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যায় ১৯৫৯ সালে। শুরুতেই চিনি আহরণের হার ছিল শতকরা ৮-৯ ভাগ। কিন্তু বর্তমানে জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতি জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকমে চলছে কারখানাটি। হ্রাস পেয়েছে চিনি আহরণের হার। উৎপাদন শক্তিও হারিয়ে ফেলেছে ৬০ বছরের প্রাচীন কারখানাটি। কাঁচামাল সংকট ও যান্ত্রিক ত্র“টির কারণে এখন বছরে মিল সচল থাকে মাত্র ২ মাস। তার ওপর দক্ষ জনবলের অভাব তো আছেই।

অব্যবস্থাপনা, শ্রমিক নেতাদের দৌরাত্ম্য, কেনাকাটায় দুর্নীতি, চুরি, কাজে ফাঁকিসহ বিভিন্ন কারণে লোকসান গুনচ্ছে এই মিলটি দাবি স্থানীয়দের। আখ চাষী নেতা তোজ্জামেল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাথাভারি প্রশাসন, পরিকল্পনার অভাব, অপচয় ও দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে এ প্রতিষ্ঠানটি অলাভজনকে পরিণত হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও সুগারক্রপস গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকতা ড. শরিফুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলোতে যে পদ্ধতিতে চিনি উৎপাদন হচ্ছে, এতে প্রতি কেজি চিনি উৎপাদনে খরচ হয় ২শ’ টাকা। আর বিক্রি করছে ৫০-৬০ টাকা দরে। মিলগুলোতে লোকসান বৃদ্ধির এটি একটি কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি। চিনি আহরণের হার প্রসঙ্গে এই কৃষি বিজ্ঞানী বলেন, সম্প্রতি ই-৪৬ জাতের একটি নতুন আখ উদ্ভাবন হয়েছে। এই জাতের আখ চাষ করে কৃষক লাভবান হবেন। অন্যদিকে চিনি আহরণের হার শতকরা ১০-১২ ভাগ বৃদ্ধি পাবে।

মিলের সমীক্ষায় জানা গেছে, এটির ওপর ঋণের বোঝা রয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবছরে ২৪ কোটি টাকা সুদ দিতে হয়। গত মৌসুমে ১ লাখ ৩ হাজার মেট্রিক টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু মাড়াই হয় সাড়ে ৮৪ হাজার মেট্রিক টন, যা থেকে চিনি উৎপাদন হয় সাড়ে ৪ হাজার মেট্রিক টন। বেসরকারি কল ও আমদানি করা চিনির প্রভাবে বিক্রি হচ্ছে না। মিলের গুদামে পড়ে আছে দীর্ঘদিনের ৬ হাজার ৯৪৩ মেট্রিক টন চিনি।

আখের আবাদ সম্প্রসারণে নানা কর্মসূচি নিলেও কৃষকের তেমন সাড়া মিলছে না। স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক ফসল উৎপাদনে ঝুঁকে পড়ছে এলাকার কৃষক। ফলে কাঁচামালের অভাবে চিনি উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে কলটি। আখের আবাদ বাড়তি ঝামেলা মনে করছে কৃষকরা। আগামী মাড়াই মৌসুমের জন্য ৮ হাজার একর জমিতে আখ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। তবে আবাদ হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার একর। আর এর মধ্যে শ্রমিক কর্মচারীরা আবাদ করেছে ৬শ’ একরে।

লোকসান বিষয়ে চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুস শাহী বলেন, ব্যবস্থাপনার খরচ বেশি, কাঁচামালের সংকট, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি, এনালগ পদ্ধতিতে চিনি উৎপাদন, মুক্তবাজার অর্থনীতির রাহুগ্রাস ও উৎপাদিত চিনি ভর্তুকিতে বিক্রির ফলে লোকসান গুনছে এ মিল। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি আর্থ-সামাজিক ও জাতীয় উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। প্রতিবছর সরকারকে কোটি কোটি টাকা দেয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৮৪ কোটি ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.