গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫.৭৮ শতাংশ

অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গড় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫.৭৮ শতাংশ

সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। এসময় গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা তার আগের অর্থবছরে (২০১৬-১৭) ছিল ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

এছাড়া বাজেটে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এ লক্ষ্যের চেয়েও বেশি হয়েছে মূল্যস্ফীতি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, পরপর বড় বন্যা, বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটেছে।

তাছাড়া বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার কারণেও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব পড়েছে। এ অবস্থায় বাড়তি মূল্যস্ফীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে নতুন অর্থবছর।

তবে মাসিক ভিত্তিতে জুনে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশে, যা তার আগের মাসে (মে) ছিল ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

এ সময় খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। তবে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী এসব তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি কমে আসছে। এটা ভালো দিক। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি, ডাল ও তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতি কমেছে। চালের দাম বাড়া-কমার মধ্যে আছে।

তবে এবার আমাদের বাম্পার ফসল হয়েছে। চালের স্টক প্রচুর আছে। অর্থবছরের শুরুতে বেড়ে গেলেও সবকিছু মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি কম আছে। গত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়লেও সেটি অসহনীয় নয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে. মুজেরি যুগান্তরকে বলেন, গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে।

এর মূল কারণ বলা যায়, বন্যা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম থাকলেও দেশীয় বাজারে চালের দাম বেশি ছিল। গড় মূল্যস্ফীতি খুব বেশি না হলেও এ প্রবণতাকে আরও কমিয়ে রাখতে হবে। কেননা সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ সময় দ্রব্যমূল্য বেড়ে যায়। প

ণ্য সরবরাহ চেইনও ঠিক না থাকতে পারে। তাই চলতি অর্থবছর সরকারকে পণ্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই রাখতে হবে। বিশেষ করে আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বাড়াতে হবে।

বিবিএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি জুন ও তার আগের মাস মে’তে একই রয়েছে। এ হার ৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। জুনে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

অন্যদিকে জুনে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে হয়েছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×