সরকারের ব্যাংক ঋণ বেড়েছে

প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

বিদায়ী অর্থবছরে গত এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট ঋণ ২৫ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা কমে স্থিতি দাঁড়ায় ৭১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকায়। তবে সর্বশেষ দুই মাসে ঋণস্থিতি ২৬ হাজার ৬৩০ কোটি বেড়ে ৯০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা হয়েছে।

এতে গত অর্থবছর ব্যাংক খাতে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ৯২৫ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছরের বেশিরভাগ সময়ে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার তুলনায় পরিশোধ করছিল বেশি। কিন্তু শেষের দিকে ঘটছে উল্টো ঘটনা।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে সরকার ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১৯ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা করা হয়। শেষ সময়ে সরকারের ঋণ বাড়লেও এবারও লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছে যায়নি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংক থেকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছিল, পরিশোধ করেছিল তার চেয়ে ১৮ হাজার ২৯ কোটি টাকা বেশি। তবে সামনের দিনে ব্যাংক থেকে সরকার যে ঋণ বাড়াবে, তার আগাম ধারণা বাজেটে অর্থমন্ত্রী দিয়েছেন।

নতুন অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৪৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।

গত মে পর্যন্ত নিট ৪৬ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা নিয়েছে সরকার। এর আগের অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে নিট ৫২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা ঋণ নেয় সরকার।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতি অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার একটি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কয়েক বছর ধরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সঞ্চয়পত্র থেকে অনেক বেশি ঋণ পাওয়ায় ব্যাংক থেকে সরকার ঋণ নেয়ার যে লক্ষ্যমাত্রা ধরছে, তার ধারে কাছেও যেতে হচ্ছে না।

ফলে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণস্থিতি কমলেও বাড়ছে সঞ্চয়পত্রে। ব্যাংক খাতে সরকারের সবচেয়ে বেশি ঋণ ছিল ২০১৪ সালের জুনে। ওই অর্থবছর শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ এক লাখ ১৭ হাজার ৫২৯ কোটি টাকায় ওঠে।

একই সময়ে সঞ্চয়পত্রে স্থিতি ছিল মাত্র ৭৬ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। এরপর থেকে ব্যাংক ঋণে সুদহার ব্যাপক কমলেও সঞ্চয়পত্রে খুব একটা কমেনি। এতে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ বেড়ে যায়। ফলে মে শেষে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ স্থিতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৩৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।