অ্যাপল-আমাজন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই

এক মাসের ব্যবধানে উভয় প্রতিষ্ঠান এক ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে

  যুগান্তর ডেস্ক ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ও আমাজন এক ট্রিলিয়ন ডলার (এক লাখ কোটি মার্কিন ডলার) বাজার মূল্যের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। এ আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৪ লাখ কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ২০টিরও বেশি অর্থবছরের বাজেটের সমান। আগস্টে প্রথম অনন্য এ উচ্চতায় উঠে মার্কিন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। এরপর গত সপ্তাহে (মঙ্গলবার) দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ট্রিলিয়ন ডলার ক্লাবে প্রবেশ করে ই-কমার্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আমাজন। গত কয়েক বছর ধরে উভয় কোম্পানির ব্যবসা বেড়ে চলেছে, সে সঙ্গে বাড়ছে পণ্যের বাজার ধরে রাখা নিয়ে ঠাণ্ডা লড়াই। খবর বিবিসির।

আপেল ও কমলা যতটা ভিন্ন ফল, অ্যাপল এবং আমাজনও ঠিক তেমনই একে অপর থেকে ভিন্ন। অ্যাপল হচ্ছে প্রযুক্তি কোম্পানি এবং ট্রেন্ডি কনজিউমার ব্র্যান্ড হয়ে গেছে। অন্যদিকে আমাজন হচ্ছে সেই জায়গা, যেখানে লোকজন অপেক্ষাকৃত সস্তা জিনিসের খোঁজে যায়, যা আরও সহজে এবং দ্রুত পাওয়া যাবে। ২০০৭ সালে যখন প্রথম আইফোন বিক্রি শুরু করে তখন অ্যাপলের শেয়ার ১ হাজার ১০০ শতাংশ টাকায় উঠে যায় এবং আগের বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লাফিয়ে ওঠে। আমাজনের ক্ষেত্রে এর বাজার মূল্য লাফ দিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ বিলিয়ন ডলারে উঠেছে কেবল মাত্র ১৬ দিনে। বিপরীতে একই ঘটনা অ্যাপলের ক্ষেত্রে ঘটে ৬২২ দিনে। যদিও অ্যাপল এবং আমাজন বিভিন্ন পণ্য এবং সেবা প্রদান করে, তারা উভয়ই প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান, বাজারে প্রচলিত পাঁচটি শ্রেষ্ঠ পারফর্মিং প্রযুক্তিগুলোর দুটো তারাই উৎপাদন করে। ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে আমাজনের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির হার অনেক বেশি ছিল। ঐতিহ্যগতভাবে অ্যাপলের বেশিরভাগ আয় আসে ডিভাইস বিক্রির অর্থ থেকে। বিশেষ করে আইফোন, আইপ্যাড, আইম্যাক এবং আইপড থেকে। বিশ্বের স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের কেবলমাত্র ১৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে, তবে এর আয় ক্রমাগতভাবে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে খাটো করে দিচ্ছে।

স্ট্র্যাটেজি অ্যানালিটিকসের তথ্য অনুসারে, ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে অ্যাপল ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে; যেখানে স্যামসাং মাত্র ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং হুয়াই ৮ বিলিয়ন ডলার আয় করে তৃতীয় অবস্থানে আছে।

জুনিপার রিসার্চের প্রধান পরামর্শ উপদেষ্টা উইন্ডসর হোল্ডেন বিবিসিকে বলেন, আইওএস ডিভাইসের ওপর অ্যাপলের নির্ভরশীলতা এর শক্তির দিক; কিন্তু তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- এটার ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, আয় কমবে বলে আমরা মনে করি না, তবে সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন আয় বাড়ানোর পরিমাণ কমবে, যেহেতু অ্যাপল বিদ্যমান গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য তৈরির ওপর নির্ভরশীল। গত পাঁচ বছরে ডিভাইসের দিক থেকে আমাজন প্রত্যাশার চেয়ে কম সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে, কিন্ডল ই-রিডার্স, কিন্ডল ফায়ার ট্যাবেলট এবং ইকো-ভয়েস নিয়ন্ত্রিত স্পিকার ইত্যাদি। তবে বিশ্লেষকরা বলেন, এর পক্ষে সম্ভব। জুনিপার রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, আমাজন সার্ভিস এবং কন্টেন্ট থেকে বেশি উপার্জন করে। ২০১৭ সালে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন স্মার্টফোন শিপমেন্ট করেছে বিশ্বজুড়ে। তবে পরবর্তী পাঁচ বছরের শিপমেন্ট চালান ধীরগতিতে চলবে, কারণ পশ্চিমা বিশ্বে বেশিরভাগ ভোক্তা এরই মধ্যে স্মার্টফোনের মালিক।

অ্যাপল চীনের তৈরি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের দ্বারা সর্বত্র বিশাল প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। তারা বিভিন্ন ফিচার দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ফোন বাজারে ছাড়ছে, যা অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের ডিভাইসের চেয়ে সস্তা।

ব্যবসায় অগ্রগতির একটি প্রধান দিক হচ্ছে সংযুক্ত বিশ্ব। অ্যাপল ও আমাজন উভয়ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সম্পন্ন ভার্চুয়াল ব্যক্তিগত সহকারী এবং তারবিহীন স্মার্ট স্পিকার তৈরি করেছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে স্পষ্ট সুবিধা রয়েছে আমাজনের। অ্যাপলের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি, আমাজনের ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যালেক্সা। অ্যালেক্সার জন্য অ্যাপ তৈরি করা তৃতীয়পক্ষের জন্য খুব সহজ, যেখানে তার আইওএস ইকো সিস্টেমের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে রক্ষণাÍক।

গ্লোবাল ডেটা রি-টেইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিল স্যান্ডার্স মনে করেন, উভয়েরই অগ্রগতি চলবে তবে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে। অ্যাপল এবং আমাজনের সম্পদ প্রায় ২৫টি বৃহৎ মার্কিন কোম্পানির সম্মিলিত মূল্যের সমান। কিন্তু অ্যাপেলের চেয়ে আমাজন বড় মার্কেট প্লেয়ার। অ্যাপেল থেকে বছরে একজন হয়ত একটি পণ্য কিনতে পারবে। সেক্ষেত্রে আমাজনের আরও বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নেতিবাচক দিক হল, দুটো প্রতিষ্ঠানই ব্যাপক রূপ নেয়ায় তারা এখন কয়েকটি সরকারের পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণের হুমকির মধ্যে রয়েছে। যেখানে তাদের অতিরিক্ত কর দিতে হচ্ছে। তবে যদি অ্যাপল ও আমাজনের সরাসরি লড়াইয়ের কথা আসে তাহলে বলতে হবে আমাজনের কিছু শক্তিশালী দিক রয়েছে।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter