৬০৭ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

নতুন রূপে ফিরছে পুরনো কারাগার

  হামিদ-উজ-জামান ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন রূপে সাজছে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার। অর্থাৎ এক সময় যেখানে ছিল বন্দিদের হাহাকার, সেখানে এখন মানুষ যাবে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আনন্দ উপভোগ করতে। এ লক্ষ্যে ‘পুরাতন কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৬০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাঙালি জাতির ইতিহাস তথা বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর এবং ঢাকার মধ্যযুগের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সম্ভভ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া কারা অধিদফতরের আওতায় খাস জমির পরিকল্পিত ব্যবহার, উন্মুক্ত নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সুযোগ সৃষ্টি, গবেষণার সুযোগ এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা যাবে। পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, এরই মধ্যে কারাগারের সব কার্যক্রম কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে এ স্থানটির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। আজ প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে কারা অধিদফতর ও সেনা সদরের ই ইন সিজ ব্রাঞ্চ।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কারা অধিদফতর বাংলাদেশের একটি সুপ্রাচীন প্রতিষ্ঠান। ১৭৮৮ সালে একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণের মাধ্যমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের তথা কারা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীকালে ১৮১৮ সালে রাজবন্দিদের আটক করার জন্য বেঙ্গল বিধি জারি করা হয়। ১৮৩৬ সালে জেলা ও তৎকালীন মহকুমা সদর ঢাকা, যশোর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় কারাগার নির্মাণ করা হয়। এরপর ১৯২৯ সালে ঢাকা ও রাজশাহী কারাগারকে কেন্দ্রীয় কারাগার হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনের পর বাংলাদেশ জেল বা বিডিজির যাত্রা শুরু শুরু হয়। বর্তমানে কারা সদর দফতর, ৭টি বিভাগীয় কারা দফতর এবং ৬৮টি কারাগার নিয়ে বাংলাদেশের কারা অধিদফতর গঠিত হয়। পুরনো কারাগারটি জরাজীর্ণ এবং বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় কেরানীগঞ্জে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ১৯৪ দশমিক ৪১ একর জমির ওপর নতুনভাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সব কয়েদিকে নতুন কারাগারে স্থানান্তরিত করা হয়। ফলে পরনো কারাগারের স্থানটি অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। পুরনো করাগারের ২১ দশমিক ৯০ একর জমির পরিকল্পিত ব্যবহারের জন্য এর আগে দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রেক্ষাপটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেবা সুরক্ষা বিভাগ এবং কারা অধিদফতর যৌথভাবে একটি উন্মুক্ত ডিজাইন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এতে বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের মোট ৯৮টি প্রতিষ্ঠান রেজিস্ট্রিভুক্ত হয়। সর্বশেষ ৩৪টি প্রতিষ্ঠান ডিজাইন ও মডেল জমা দেয়। পরবর্তীকালে ৭ সদস্যবিশিষ্ট জুরি বোর্ড চার দিনব্যাপী কার্য পরিচালনার মাধ্যমে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য দলের ডিজাইন চূড়ান্ত করেছে। সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম হচ্ছে ৬ তলা ভিতের ওপর ৬ তলা মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স নির্মাণ, দুই তলা চক কমপ্লেক্স, ৫ তলা স্কুল ভবন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও চার নেতার স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ, ২৭ হাজার ২৯৮ বর্গমিটার অভ্যন্তরীণ রাস্তা, ফুটপাত ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ, দুই তলা বিশিষ্ট দুটি মসজিদ তৈরি ইত্যাদি কার্যক্রম করা হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter