এমপিদের সুপারিশে মাদ্রাসা উন্নয়নে ৬ হাজার কোটি টাকা

প্রত্যেক এমপি ৬টি করে মাদ্রাসার তালিকা দিয়েছেন * একনেকে ১৮ হাজার কোটি টাকার ১৮ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট

এমপিদের সুপারিশে মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। এজন্য ১ হাজার ৬৮১টি মাদ্রাসা উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫ হাজার ৯১৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর সঙ্গে আরও ১১৯টি মাদ্রাসা যোগ হবে। কেননা প্রতিটি আসনের ৩০০ এমপির এলাকায় ৬টি করে মাদ্রাসা অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীকালে বিশেষ প্রয়োজনে সারা দেশে আরও ২০০ মাদ্রাসা যুক্ত হবে এ প্রকল্পের সঙ্গে। সব মিলিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রায় ২ হাজার মাদ্রাসার উন্নয়ন করা হবে। এজন্য নির্বাচিত মাদ্রাসাগুলোর উন্নয়ন নামের একটি প্রকল্পসহ ১৮টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। সবগুলো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৮১৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪২ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৩ হাজার ৯৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পরিকল্পনা সচিব মো. জিয়াউল ইসলাম, শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস এবং আইএমইডির সচিব জিয়াউল ইসলামসহ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার উন্নতি না হওয়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যরা এ বিষয়ে বেসরকারি চাহিদাপত্র (ডিও) দিয়েছেন। তাদের চাহিদার ভিত্তিতে প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রতিজন সংসদ সদস্য ছয়টি মাদ্রাসা নির্বাচন করেছেন। প্রতি এমপির জন্য বরাদ্দ থাকবে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত ১ হাজার ৬৮১ আলিয়া মাদ্রাসার একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৬ লাখ ১২ হাজার আসবাব সংগ্রহ, ৬ হাজার ৭১৪ জনের প্রশিক্ষণ ও সোলার প্যানেল স্থাপন ও সেমিনার কক্ষ নির্মাণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণের কাজ করা হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এমপিরা বলতে পারবেন তাদের এলাকার কোন মাদ্রাসার কি অবস্থা, তাই তাদের কাছ থেকেই তালিকা চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, মাদ্রাসাগুলোতে ধর্ম-কর্ম সবই চলবে। পরবর্তী পর্যায়ে বিশেষ কারণে অর্থাৎ ভালো ফলাফল ও বেশি শিক্ষার্থী সংখ্যাসহ ইত্যাদি কারণে আরও ২০০ মাদ্রাসা এই প্রকল্পের যুক্ত করা হবে। চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর। এটি বাস্তবায়নের ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে, রুরাল ট্রান্সপোর্ট ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট-২, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন পিসি গার্ডার ব্রিজের অসমাপ্ত নির্র্মাণ কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্পের ব্যয় ১০২ কোটি টাকা। ফরিদপুর জেলার আড়িয়াল খাঁ নদীতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিংয়ের ব্যয় ২৯১ কোটি টাকা। নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর কৃষি উন্নয়নে ব্যয় ৬৯ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, চট্টগ্রাম জোনের ব্যয় ১ হাজার ৪২১ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণে ব্যয় ৫১ কোটি টাকা। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ব্যয় ৪৮০ কোটি টাকা। সাভারের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গবেষণা রি-অ্যাক্টর ফ্যাসিলিটির সেফটি সিস্টেমের সমন্বয় সাধন, আধুনিকীকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্ধিতকরণে ব্যয় ৭৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। জামালপুর জেলার ৮টি পৌরসভার ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় ৬১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। রাজশাহী ওয়াসার ভূ-উপরিস্থত পানি শোধনাগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭৮ কোটি টাকা। পুরান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়নে ব্যয় ৬০৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে ব্যয় ৪৪২ কোটি টাকা। পাঁচুরিয়া-ফরিদপুর-ভাঙ্গা রেলপথ পুনর্বাসন ও নির্মাণে ব্যয় ৩৪৭ কোটি টাকা। জামালপুর-ধানুয়া-কামালপুর-রৌমারী-দাঁতভাঙ্গা জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণে ব্যয় ৩৩২ কোটি টাকা। বাংলাদেশের ১৩টি নদীবন্দরের প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার শক্তিশালীকরণে ব্যয় ৮০ কোটি টাকা এবং বরিশাল বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯২০ কোটি টাকা।