দেশের বাজারে আসছে আমাজন ওয়ালমার্ট

আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয় প্রতিষ্ঠান

  যুগান্তর রিপোর্ট ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের বাজারে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন ও ওয়ালমার্ট। আগামী দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে অনলাইনে বেচাকেনার কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে উভয় প্রতিষ্ঠান। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের ই-কমার্স খাতের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে দারাজ। চীনের ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা এটা কিনে নিয়েছে। দারাজ শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজোয়ানুল হক জামি সম্প্রতি জানান, আমাজন বাংলাদেশে আসার জন্য বেশ সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু সরাসরি হয়তো দেশের বাজারে এখনই ঢুকছে না। আমাজন বাংলাদেশে গার্মেন্টস সেক্টরে যারা উৎপাদক আছেন, তাদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ করতে চাচ্ছেন। যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশ থেকেই তাদের প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে চায়। আর বাংলাদেশে বহু বছর ধরেই ওয়ালমার্টের সোর্সিং অফিস আছে। এছাড়াও চীনে আলিবাবার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী টেনসেন্ট, তারাও আগ্রহী বাংলাদেশ নিয়ে। তারা বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের মার্কেট যাচাই করছে।

পূর্ব ইউরোপের একটি বড় ই-কমার্স কোম্পানি সম্প্রতি বাংলাদেশে ঢুকেছে। এর নাম কুভি। এরা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। ই-কমার্সে এরপর যারা আছে তারা সবাই বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান। যেমন আজকের ডিল, বাগডুম, প্রিয় শপ, রকমারি, পিকাবু এবং অথবা। তবে দেশে ই-কমার্সের এক নম্বর জায়গাটি এরই মধ্যে চীনের আলিবাবার দখলে।

দেশের বাজারে আমাজন আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে ই-ক্যাব প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট রাজীব আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে ই-কমার্স বাড়ছে খুবই দ্রুত। গত তিন বছর ধরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি প্রায় শতভাগ। এ অবস্থায় বিদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দেশে আসা স্বাভাবিক। এজন্য স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

ইক্যাবের হিসাব অনুযায়ী এ খাতে মাসে এখন প্রায় ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। অর্থাৎ বার্ষিক লেনদেন এখন ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। একশ’ ভাগ প্রবৃদ্ধির হার অব্যাহত থাকলে সামনের বছর এটি হবে ১৬ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা। দেশে এ মুহূর্তে সাড়ে সাতশ’র মতো প্রতিষ্ঠান ই-কমার্সের সঙ্গে যুক্ত। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমাজন ও ওয়ালমার্টের মতো প্রতিষ্ঠান দেশের বাজারে প্রবেশ করলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা হুমকিতে পড়বে। তারা বলছেন, আমরা বিদেশি বিনিয়োগের বিরুদ্ধে নয় কিন্তু সরকারের উচিত দেশি উদ্যোক্তাদের রক্ষা করা। ১৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সভায় ডিজিটাল কর্মাস নীতিমালা-২০১৮ পাস হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নামে এবং বিদেশি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ৪৯ শতাংশ সীমা কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ থাকবে ৫১ শতাংশ। কিন্তু যখন বিদেশি বড় ই-কমার্স জায়ান্ট দেশের বাজারে প্রবেশ করতে চাইবে তখন এ সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। স্থানীয় উদ্যোক্তারা শঙ্কিত এ কারণে।

ইক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, এ কারণে বাংলাদেশে ই-কমার্স এখনও অন্য ব্যবসার তুলনায় খুব সস্তায় সেবা দিতে পারছে না। তাদের ব্যবসার খরচ এখনও সেভাবে কমিয়ে আনা যায়নি। কিন্তু তারপরও এর যে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, তার কারণ বড় বড় শহরে বাইরে গিয়ে কেনাকাটার যে ঝক্কি, তার চেয়ে বাসায় বসে অনলাইনে কেনাকাটার স্বাচ্ছন্দ্যটা পছন্দ করছেন অনেকে।

দেশে ই-কমার্স প্রসারে মূলত তিনটি সমস্যা রয়েছে বলে জানান রেজোয়ানুল হক জামি। প্রথমত, এখনও পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুরোপুরি আস্থায় নিতে পারছেন না মানুষ। দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশে নির্ভরযোগ্য ডেলিভারি ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সম্প্রতি চেষ্টা শুরু করেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত তারা সারা বাংলাদেশে ই-কমার্স ডেলিভারির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি। আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে, কোনো নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট সিস্টেমও নেই। বড় বড় শহরগুলোতে সীমিত পরিসরে ই-কমার্স চালু করা গেলেও দেশের ৭০ ভাগ গ্রামীণ মানুষ এর আওতার বাইরে।

দেশে সব ধরনের পণ্যই এখন অনলাইনে কেনাবেচা হয়। এর মধ্যে পচনশীল দ্রব্য ফলমূল শাকসবজি যেমন আছে, তেমনি কাপড়, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক পণ্যও আছে। তবে উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ই-কমার্স এখনও একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে। অনলাইনে অর্ডার দেয়া গেলেও এখনও নগদ অর্থেই লেনদেন বেশি। এটাকে বলা হয় ক্যাশ অন ডেলিভারি। অর্ডার অনলাইনে দেয়া হলেও কল সেন্টার থেকে ফোন করে সেটি আবার নিশ্চিত করা হয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পণ্য কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিয়ে ক্যাশ টাকায় পেমেন্ট নিয়ে আসে। কাজেই পূর্ণাঙ্গ ই-কমার্স বাংলাদেশে এখনও সেভাবে চালু হয়নি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter