ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে পানি সরবরাহ প্রকল্প

তিন বছরে খরচ অর্ধেকের কম

ফের ব্যয় বাড়ছে ৮৩ কোটি টাকা * পিইসি সভায় উঠছে রোববার

  হামিদ-উজ-জামান ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে পানি সরবরাহে ২০১৫ সালের মার্চে একটি প্রকল্প হাতে নেয় ঢাকা ওয়াসা। গত মার্চ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ শীর্ষক এ প্রকল্পের অনুকূলে ব্যয় হয়েছে মাত্র ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত তিন বছরে মোট অনুমোদিত ব্যয়ের বিপরীতে আর্থিক অগ্রগতি মাত্র ৪১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এরকম ধীর গতির পরেও ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে ৮৩ কোটি টাকা। তবে এ ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে পরিকল্পনা কমিশন। আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় নতুন করে বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ের প্রস্তাব যুক্ত করার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হবে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, পরিকল্পনা কমিশনে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হবে পিইসি সভা। ওই সভায় প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়িয়ে এত কম সময়ের মধ্যে কিভাবে নতুন কাজ যুক্ত করে আগের বাকি অর্ধেকেরই বেশি কাজসহ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে- এসব বিষয় জানতে চাওয়া হবে। সন্তোষজনক উত্তর পাওয়ার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

সূত্র জানায়, পানি শোধনাগার নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৫২ কোটি টাকা। মেয়াদ ধরা হয় ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু পরবর্তীতে দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় বাড়িয়ে প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৬১২ কোটি টাকা। সে সময় এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। বর্তমান পানি সরবরাহ ব্যবস্থা অটুট রাখতে অন্তর্বর্তী সময়ে ভূ-গর্ভস্থ ৯০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা ওয়াসা। পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা ওয়াসার মডস জোনগুলোর চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত আরও ১০০টি গভীর নলকূপ স্থাপন এবং ৮০ গভীর নলকূপ রি-জেনারেশন করা প্রয়োজন। এছাড়া আনুষঙ্গিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ পর্যায়ে মেয়াদ ঠিক রেখে প্রকল্প প্রায় ৮৩ কোটি টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

পিইসি সভার জন্য তৈরি কার্যপত্রে দেখা যায়, প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। এ পর্যায়ে প্রকল্পটি ৮৩ কোটি টাকা বৃদ্ধিসহ সংশোধনের কারণ বিস্তারিতভাবে সভায় উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় নতুনভাবে ১০০টি নলকূপ ক্রয় ও স্থাপনের বা প্রতিস্থাপনের যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। সেই সঙ্গে ৮০টি নলকূপ রি-জেনারেশনের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা পিইসি সভায় আলোচনা করা হবে।

প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রকল্পভুক্ত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর বর্তমান পানির উৎপাদন ও চাহিদা ২ হাজার ৪০০ এমএলডি। অর্থাৎ বর্তমানে দুটি শহরে পানি সরবরাহে ঘাটতি না থাকলেও প্রতিবছর গড়ে ৫ শতাংশ হারে নলকূপে পানি উৎপাদন হ্রাস এবং ৫ শতাংশ হারে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী ২০১৯ সালে পানির চাহিদা পূরণে ২৪০ এমএলডি ঘাটতি হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি হিসেবে এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা ৯০০ এমএলডি পানির পরিবর্তে ১ হাজার ১৪০ এমএলডি পানি সরবরাহের সংস্থান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে ৩৭৫টি গভীর নলকূপ স্থাপন বা প্রতিস্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে- যা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। গত চার বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, প্রতিবছর গড়ে ঢাকা ওয়াসার মডস জোনগুলোর চাহিদা অনুসারে ১০০টির অধিক গভীর নলকূপ স্থাপন বা প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ১২০টি গভীর নলকূপের রি-জেনারেশন কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন মডস জোনের চাহিদার প্রেক্ষিতে আরও ৮০টি গভীর নলকূপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে ঢাকা মহানগরীতে জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটি এবং পানির চাহিদা প্রায় ২৪০ কোটি লিটার। প্রতিবছর যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে এতে ২০২০ সাল নাগাদ ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছবে। জনগণের জীবনযাত্রার মান বেড়ে যাওয়ায় পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০২০ সাল নাগাদ পানির চাহিদা হবে ৩০০ কোটি লিটার। এ পরিপ্রেক্ষিতে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি সরবরাহের নির্ভরতা কমাতে ইতিমধ্যেই তিনটি বড় আকারের পানি শোধনাগার নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এসব শোধনাগার থেকে প্রতিদিন ১৪০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কিন্তু এসব পানি শোধনাগার থেকে পানি সরবরাহে কমপক্ষে ৫ বছর সময় লাগবে। তাই অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য এ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter