লক্ষ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের উদ্যোগ

উপায় ও কৌশল নির্ধারণে বৈঠক করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

  হামিদ-উজ-জামান ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের উদ্যোগ

সংবিধান অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ প্রেক্ষিতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এর অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের গত ১০ বছরের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কার্যক্রমের অগ্রগতি সাফল্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে জনসাধারণের কাছে সাফল্য প্রচারের উপায় ও কৌশল নির্ধারণী বৈঠক করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র তথ্য অফিসার বা সহকারী তথ্য অফিসার, উপপ্রধান তথ্য অফিসার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদফতর গণযোগাযোগ অধিদফতর এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদফতরের সংশ্লিষ্টরা অংশগ্রহণ করেন।

সূত্র জানায়, সভায় প্রতিনিধিরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয় বা বিভাগের গত ১০ বছরের সাফল্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, জনসাধারণের জন্য প্রচারে উদ্দেশ্যে তৈরি করা উপকরণসমূহের বর্ণনা, চলমান কার্যক্রম এবং সুপারিশমালা জমা দিতে বলা হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বুধবার যুগান্তরকে বলেন, সরকার উন্নয়ন করেছে। সুতরাং সেই সাফল্য প্রচার করবে, সেটিই স্বাভাবিক।

কিন্তু সেগুলো যদি সরকারি টাকায় করা হয় তাহলে নীতি-নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দেবে। কেননা এসব প্রচার-প্রচারণা তো জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব পড়বে। এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গত ১০ বছরের সাফল্যের চিত্র আপডেট করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে গত ১০ বছরে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলো সম্পর্কে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়কালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এডিপির আকার ছিল ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সেটি বেড়ে ২০১৭-১৮ সালে হয় ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা, যা ২০০৯-১০ অর্থবছরের তুলনায় ৪৩৮ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

সরকারের সময় বেশ কিছু মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, এগুলোর উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ, পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর অন্যতম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুনিদিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রথমবারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হিসেবে বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২১) দলিল প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়া ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১১-১৫) বাস্তবায়ন এবং এরই ধারাবাহিকতায় সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (২০১৫-২০) প্রণয়ন করে তা বর্তমানে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করার জন্য জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে।

সেই সঙ্গে যেসব মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সেগুলো ৫টি ক্লাস্টারে বিভক্ত করা হয়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) ২০১৫ সালে শেষ হয়। এক্ষেত্রে অনেক লক্ষ্যেই ব্যাপক সাফল্য রয়েছে।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে (এসডিজি) সরকারের উন্নয়ন রূপকল্প ও নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় নীতি ধারাবাহিকতার দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। তাছাড়া জাতীয় টেকসই উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।

এসডিজি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে বাস্তবায়ন করা শুরু করা হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মাধ্যমে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা করতে দেশের নদ-নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে শত বছরের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০ প্রণয়ন এবং অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×