এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭০ হাজার কোটি টাকা

পাইপলাইনে বৈদেশিক অর্থের পাহাড়

তিন কারণে সহায়তার স্থিতি বাড়ছে- ইআরডির প্রতিবেদন * সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে অনেক, তবে সেগুলোর কাঙ্ক্ষিত ব্যবহার হয় না - ড. জাহিদ হোসেন

  হামিদ-উজ-জামান ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাইপলাইনে বৈদেশিক অর্থের পাহাড়

চলতি অর্থবছরে পাইপলাইনে জমেছে রেকর্ড বৈদেশিক সহায়তা।

গত জুন পর্যন্ত পাইপলাইনে জমা হয়েছে (বৈদেশিক সহায়তার স্থিতি) ৪ হাজার ৪১০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এক বছর আগে ২০১৭ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত পাইপলাইনে জমা ছিল ৩ হাজার ৫৭৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা প্রায় ৩ লাখ ২৮৩ কোটি টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে পাইপলাইন বেড়েছে ৭০ হাজার ২৩২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র।

সম্প্রতি প্রতিবেদনটি তৈরি করে সংস্থাটি। চলতি বছরটি নির্বাচনী বছর হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তবায়ন কম হবে এবং সেক্ষেত্রে পাইপলাইনের অর্থ ব্যয় কমবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রশিয়া থেকে ১ হাজার ১৩৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চীন থেকে পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের জন্য ২৬৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ভারতের সঙ্গে ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি সই হয়।

এই তিন দেশের প্রতিশ্রুতির কারণে পাইপলাইনে স্থিতির পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম এর আগে বলেছিলেন, বৈদেশিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়ার পাইপলাইন বাড়ছে। এটি অত্যন্ত সুখবর। অর্থছাড়ও বেড়েছে অনেক।

তাছাড়া কোনো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বা দেশের সঙ্গে যখন ঋণ বা অনুদান চুক্তি সই হয় তখনই পাইপলাইনে জমা হয়। প্রতিশ্রুতি হলেই তো আর সব টাকা একবারেই ব্যয় হয় না। সুতরাং পাইপলাইন থাকবেই।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুযায়ী ইআরডি বৈদেশিক সহায়তার মবিলাইজেশন কার্যক্রম অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে প্রতিপালন করে আসছে।

এই মবিলাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় বৈদেশিক সহায়তা গ্রহণ ও ব্যয়ের স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, সংগ্রহ, কার্যক্রম বিদ্যমান নীতিমালা মোতাবেক সক্ষমতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।

এই সব কার্যক্রমের ফলে গত ৫ বছরে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিবছর তার আগের বছরের তুলনায় রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত অনুদান ও ঋণের ক্ষেত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন।

অনুদান প্রাপ্তির পরিমাণ ৯৫ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অপরদিকে ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশের কম থেকে বেড়ে বর্তমানে ৯০ শতাংশের উপরে উঠেছে। এই চিত্র স্বাধীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে পরনির্ভরশীলতা কমে যাওয়ার উদাহরণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে বৈদেশিক সহায়তা ব্যয়ে চরম অনীহা বা সক্ষমতার অভাবের চিত্র ফুটে উঠেছে পাইপ লাইনের এ অবস্থায়। বৈদেশিক সহায়তার চেয়ে দেশিও টাকা খরচেই বেশি আগ্রহী হচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। ফলে বৈদেশিক সহায়তার অর্থের পাহাড় জমছে পাইপলাইনে।

ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড.জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সব ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে অনেক। তবে সেগুলোর কাক্সিক্ষত ব্যবহার হয় না। দেখা যায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুত হওয়ার আগেই প্রতিশ্রুতি চলে আসে।

তারপর বাস্তবায়ন পর্যায়ে গিয়ে দেরি হয়। তাছাড়া পুরনো সমস্যা যেমন প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ত্র“টি, ভূমি অধিগ্রহণে সমস্যা, প্রকিউরমেন্ট সদস্যা, সঠিক কর্মপরিকল্পনার অভাবসহ নানা কারণে পাইপলাইন বাড়বে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময়টাতে যদি শান্তি বজায় থাকে তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়তো খুব বেশি বাধাগ্রস্ত হবে না। কিন্তু রাজনৈতিক সহিংসতা থাকলে সেক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমবে এবং পাইপলাইন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরের বৈদেশিক সহায়তার চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু খরচ করতে না পারায় সেখান থেকে চার হাজার ৯৫০ কোটি টাকা কাটছাঁট করে বরাদ্দ বাদ দিতে হয়েছে।

ফলে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দাঁড়ায় ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। অন্যদিকে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা। সেখান থেকে সাত হাজার কোটি টাকা ফেরত দেয় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।

ফলে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সেখান থেকে পাঁচ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা খরচ করতে না পারায় বরাদ্দ কমিয়ে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয় ২৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter