বাড়ছে ৪ জির গ্রাহক : কল ড্রপ হলে ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি
jugantor
বাড়ছে ৪ জির গ্রাহক : কল ড্রপ হলে ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি

  আইটি ডেস্ক  

২১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বাড়ছে ৪ জির গ্রাহক : কল ড্রপ হলে ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি

মোবাইলে কথা বলার সময় ১০০ কলে ২ বারের বেশি কল ড্রপ হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানা করতে পারবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালা অনুযায়ী এ জরিমানা করতে পারবে বিটিআরসি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কিওএস নীতিমালা অনুযায়ী ফোরজি প্রযুক্তিতে (এলটিই) ইন্টারনেটের গতি হতে হবে সেকেন্ডে সর্বনিম্ন ৭ মেগাবিট, থ্রিজিতে ২ মেগাবিট ও টুজিতে ১৬০ কিলোবিট।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, কিওএস নীতিমালার অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে মন্ত্রণালয় তার কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন বিষয়টির দেখভাল করবে বিটিআরসি।

তার মতে, এ নীতিমালার মধ্য দিয়ে মোবাইল অপারেটর ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএসপি) মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি দূর হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসেই অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে কল ড্রপ, ডাটা স্পিডসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ জমা পড়ে তাদের কাছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মোট পাঁচটি কল ড্রপসংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে বিটিআরসিতে। এছাড়া ইন্টারনেটের গতি সম্পর্কিত গত তিন মাসে ৪৬টি অভিযোগ জমা পড়ে।

এগুলোসহ মোট এক হাজার ৪৯৬টি অভিযোগের মধ্যে তারা এক হাজার ৩৬৬টির নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের করা ১৩০টি অভিযোগ সমাধানের পথে। দেশের নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেটসহ টেলিযোগাযোগসংক্রান্ত গ্রাহকদের যে কোনো অভিযোগ বিটিআরসিকে জানানো যাবে ‘১০০’ নম্বরে কল করে।

এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ইন্টারেনেট সেবা চালুর পর থেকে তৃতীয় প্রজন্মের গ্রাহক সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন থ্রিজির নতুন গ্রাহক পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে অবশ্য অনেক গ্রাহক থ্রিজি থেকে ফোরজিতে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে থ্রিজির মোট গ্রাহক সংখ্যা পড়তির দিকে।

অপারেটরগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ প্রবণতাকে খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের বলছে, জুন পর্যন্ত টানা চার মাস দেশে থ্রিজি ইন্টারনেট সংযোগের পরিমাণ একটু একটু করে কমেছে।

অর্থবছরের শেষে থ্রিজি সংযোগ ছিল ছয় কোটি ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার। ফেব্রুয়ারি মাসে ফোরজি চালু হওয়ার সময় এ সংযোগ ছিল ছয় কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজারের ওপরে।

এদিকে জুনের শেষে ফোরজি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। এখন যা এক কোটির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশে চতুর্থ প্রজন্মের সেবার যুগ শুরু হয়।

এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে আসতে ফোরজি সংযোগ ২৫ লাখে পৌঁছায়। এরপর থেকে আরও দ্রুতগতিতে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং গ্রাহক আগের চেয়েও বেশি আসছে ফোরজিতে-এমনটাই জানান কমিশনের কর্মকর্তারা।

থ্রিজিকে ব্যবসা সফল না করতে পারলেও ফোরজি নিয়ে অপারেটরগুলোর স্বপ্ন অনেক বড়। গ্রাহককে ফোরজির প্রতি আকৃষ্ট করতে তারা নানা ধরনের অফারও দিচ্ছে।

বাড়ছে ৪ জির গ্রাহক : কল ড্রপ হলে ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি

 আইটি ডেস্ক 
২১ অক্টোবর ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
বাড়ছে ৪ জির গ্রাহক : কল ড্রপ হলে ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি
বাড়ছে ৪ জির গ্রাহক : কল ড্রপ হলে ব্যবস্থা নেবে বিটিআরসি

মোবাইলে কথা বলার সময় ১০০ কলে ২ বারের বেশি কল ড্রপ হলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জরিমানা করতে পারবে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া কোয়ালিটি অব সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালা অনুযায়ী এ জরিমানা করতে পারবে বিটিআরসি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কিওএস নীতিমালা অনুযায়ী ফোরজি প্রযুক্তিতে (এলটিই) ইন্টারনেটের গতি হতে হবে সেকেন্ডে সর্বনিম্ন ৭ মেগাবিট, থ্রিজিতে ২ মেগাবিট ও টুজিতে ১৬০ কিলোবিট।

এ বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, কিওএস নীতিমালার অনুমোদন দেয়ার মাধ্যমে মন্ত্রণালয় তার কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন বিষয়টির দেখভাল করবে বিটিআরসি।

তার মতে, এ নীতিমালার মধ্য দিয়ে মোবাইল অপারেটর ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর (আইএসপি) মধ্যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং গ্রাহকদের অসন্তুষ্টি দূর হবে।

বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসেই অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে কল ড্রপ, ডাটা স্পিডসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ জমা পড়ে তাদের কাছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মোট পাঁচটি কল ড্রপসংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে বিটিআরসিতে। এছাড়া ইন্টারনেটের গতি সম্পর্কিত গত তিন মাসে ৪৬টি অভিযোগ জমা পড়ে।

এগুলোসহ মোট এক হাজার ৪৯৬টি অভিযোগের মধ্যে তারা এক হাজার ৩৬৬টির নিষ্পত্তি করতে পেরেছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের করা ১৩০টি অভিযোগ সমাধানের পথে। দেশের নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেটসহ টেলিযোগাযোগসংক্রান্ত গ্রাহকদের যে কোনো অভিযোগ বিটিআরসিকে জানানো যাবে ‘১০০’ নম্বরে কল করে।

এদিকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ইন্টারেনেট সেবা চালুর পর থেকে তৃতীয় প্রজন্মের গ্রাহক সংখ্যা কমতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন থ্রিজির নতুন গ্রাহক পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে অবশ্য অনেক গ্রাহক থ্রিজি থেকে ফোরজিতে বেরিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে থ্রিজির মোট গ্রাহক সংখ্যা পড়তির দিকে।

অপারেটরগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ প্রবণতাকে খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনের বলছে, জুন পর্যন্ত টানা চার মাস দেশে থ্রিজি ইন্টারনেট সংযোগের পরিমাণ একটু একটু করে কমেছে।

অর্থবছরের শেষে থ্রিজি সংযোগ ছিল ছয় কোটি ৪৮ লাখ ৬৯ হাজার। ফেব্রুয়ারি মাসে ফোরজি চালু হওয়ার সময় এ সংযোগ ছিল ছয় কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজারের ওপরে।

এদিকে জুনের শেষে ফোরজি গ্রাহকের সংখ্যা ছিল ৬০ লাখ। এখন যা এক কোটির খুব কাছাকাছি চলে এসেছে বলে জানিয়েছে বিটিআরসি। ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশে চতুর্থ প্রজন্মের সেবার যুগ শুরু হয়।

এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে আসতে ফোরজি সংযোগ ২৫ লাখে পৌঁছায়। এরপর থেকে আরও দ্রুতগতিতে নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ হচ্ছে এবং গ্রাহক আগের চেয়েও বেশি আসছে ফোরজিতে-এমনটাই জানান কমিশনের কর্মকর্তারা।

থ্রিজিকে ব্যবসা সফল না করতে পারলেও ফোরজি নিয়ে অপারেটরগুলোর স্বপ্ন অনেক বড়। গ্রাহককে ফোরজির প্রতি আকৃষ্ট করতে তারা নানা ধরনের অফারও দিচ্ছে।