টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তরুণদের ডিজিটাল উদ্যোগ

  সাইফ আহমাদ ১৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশে বিগত কয়েক বছরে প্রযুক্তিতে যে অভাবনীয় উন্নয়ন ঘটেছে তার পেছনে তরুণ প্রজন্মের একটি বড়ো ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া বহুসংখ্যক মেধাবী তরুণ দেশকে এগিয়ে নিতে প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করে নিজেদের প্রচেষ্টাতেই গ্রহণ করছেন বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগ। মেধাবী এ তরুণের অনেকেই প্রযুক্তিকে শুধু পেশা হিসেবে গ্রহণের জন্য এসব উদ্যোগ গ্রহণ করছেন না, বরং তাদের এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্য।

সম্ভাবনাময় এ তরুণদের ডিজিটাল উদ্যোগের মাধ্যমে এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) সংক্রান্ত আর্থ-সামাজিক সমস্যার সমাধানে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে ‘বাংলালিংক এসডিজি হ্যাকাথন কোড ফর এ কজ’ নামক একটি অভিনব আয়োজন করা হয় বাংলালিংকের উদ্যোগে। প্রযুক্তিতে আগ্রহী তরুণ-তরুণী, দক্ষ প্রোগ্রামার এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উৎসাহীরা ২৪ ঘণ্টা প্রোগ্রামিং ও বিভিন্ন ধরনের সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান প্রদান করে বিশেষ এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে। আয়োজন শেষে তিন সদস্যের তিনটি দলকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। চ্যাম্পিয়ন, প্রথম রানারআপ ও দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছে যথাক্রমে ‘টিম এক্সসেলসিওর’, ‘ইনসেপশন’ ও ‘টিম গুফি’। বিশেষ এ আয়োজনে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন দেশের প্রথম সারির কয়েকজন আইটি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলালিংকের কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা।

চ্যাম্পিয়ন দল ‘টিম এক্সসেল সিওর’-এর লৈঙ্গিক সমতা বিষয়ক প্রজেক্টের নাম ‘আরোহী’। এ দলের তিন সদস্য ইমতিয়াজ ইবনে আজাদ, জুনায়েদ কারিম এবং তাহমিদ তারেক বুয়েটের ছাত্র। তাদের তৈরি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে গ্রামে বসবাসকারী নারী উদ্যোক্তারা তাদের তৈরি পণ্য সরাসরি বিক্রি করতে পারবেন ক্রেতাদের কাছে। তাদের পণ্যের তালিকায় থাকতে পারে জামদানি শাড়ি, মাটির তৈরি পণ্য, বেতের সামগ্রীসহ বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হওয়ার কারণে এ প্লাটফর্মে পণ্যের মূল্য হবে অনেকাংশে কম। এছাড়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগসহ পাবেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগের সুবিধা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এনজিওকে সম্পৃক্ত করা হবে উদ্যোগটির সঙ্গে।

‘বাংলালিংক এসডিজি হ্যাকাথন কোড ফর এ কজ’-এর প্রথম রানারআপ হয়েছে বুয়েটের আরেকটি দল ‘ইনসেপশন’। ইনসেপশনের জলবায়ু বিষয়ক প্রজেক্টের নাম ‘প্লাস-ট্রিক’। দলের তিনজন সদস্য হলেন ফারিয়া হক, কাজি সাজিদ মেহরাব এবং ফারহান তানভির উৎস। পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক বর্জ্যরে ক্ষতিকর প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তারা তৈরি করেছে একটি অ্যাপ। প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেলের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করে সেগুলো বিক্রয় করা হবে এ অ্যাপে। দরিদ্র নারীদেরএ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।

দ্বিতীয় রানারআপ দল ‘টিম গুফির’ তিন সদস্য হলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শরিফ এম তারেক ও সীমান্ত হক এবং অ্যামেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইশমাম ইসলাম। তাদের লৈঙ্গিক সমতা বিষয়ক প্রজেক্টের নাম ‘বিজয়া’। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ একটি অ্যাপ তৈরি করেছেন তারা। এই অ্যাপে নারীরা নিজস্ব প্রোফাইল তৈরি করতে পারবেন এবং নিজেদের যে কোনো পণ্য অথবা সার্ভিস বিক্রয় করতে পারবেন ক্রেতাদের কাছে। পণ্য ও সেবা ক্রয়ের পর মূল্য পরিশোধের সুযোগও থাকছে এই অ্যাপে। ‘বিজয়া’ এমন একটি প্লাটফর্ম যেটির মাধ্যমে একজন নারী উদ্যোক্তা ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন সহজে। বিজয়ী দলগুলোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিরূপণ করার পর তাদের বাংলালিংকের সঙ্গে পার্টনারশিপের বিশেষ সুযোগ দেয়া হবে বলেও জানা যায়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×