উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে অনন্য উচ্চতায় বিপিএল

  মিজানুর রহমান সোহেল ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-২০১৯। এ সফলতার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ করে দুর্দান্ত ভিডিও কাভারেজ। সব দিক দিয়েই গেল পাঁচ আসরকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের বিপিএল। টেনেছে গৌরবময় সমাপ্তি, যা ক্রিকেটপাগল বাংলাদেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। দর্শক সংখ্যায় বিগত আসরগুলোর সব রেকর্ড ভেঙেছে। বরাবর কাভারেজের বিষয়গুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিল সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের হাতে। তবে এ আসরের বিপিএলে দায়িত্বটি নিজেদের হাতেই রেখে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাতে পাল্টে গেছে সব। আকাশচুম্বী সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব পাবে বোর্ডও। চলতি বছর লিগটি নানা মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বিগত আসরগুলোর তুলনায় বিশ্ব ক্রিকেটের একাধিক মহাতারকার অন্তর্ভুক্তি সিজন সিক্সের গ্ল্যামার বাড়িয়েছে অনেকখানি। ধারাভাষ্য ও উপস্থাপনাতে ছিল বৈচিত্র্য। পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ছিল সম্প্রচারে। তাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। মাঠে সময়োপযোগী স্ট্যাম্প ক্যামেরা, স্পাইডার ক্যাম, ড্রোনের ব্যবহার বিশ্বব্যাপী আলাদা করে বিপিএলের আবেদন তৈরি করেছে। আকাশছোঁয়া সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেন, এবারের বিপিএলের ঈর্ষণীয় সাফল্যে আমি খুবই খুশি। যথার্থ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। দেশের ঘরোয়া লিগটির সুনাম বৃদ্ধিতে যারা অবদান রেখেছেন, তাদের অকুণ্ঠ প্রশংসা করি। তিনি বলেন, এ বছরের সাফল্যে আমি রোমাঞ্চিত ও শিহরিত। প্রতিবারই আমরা বিপিএলে উন্নত প্রযুক্তির সমাহার ঘটাতে চাই। এবার নিখুঁত সার্ভিস পাওয়ায় আমরা আনন্দিত, আহ্লাদিত। তবে সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে, স্টেডিয়ামে প্রচুর দর্শক সমাগম। আমাদের আরও বেশি দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মাঠ দরকার। নাজমুল হাসান পাপন বলেন, আমরা যে প্রডাকশন ও উদ্ভাবনগুলো ব্যবহার করেছি, সেসব নিয়ে খুবই সন্তুষ্ট। জিং বেইলস, স্পাইডার ক্যাম বা ড্রোন বর্ণিল সার্ভিস দিয়েছে। আমরা সবসময় ভালো করতে চেয়েছিলাম। তবে ষষ্ঠ আসরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও হাইটেক গেজেটের সদ্ব্যবহার হয়েছে। শুধু মাঠে নয়, টিভি দর্শকও ছিল প্রচুর। সম্প্রচার মান বাড়ায় বহির্বিশ্বে অসংখ্য ক্রিকেটসমর্থক স্বস্তিতে খেলা দেখেছেন। বিপিএল ইতিহাসে এর আগে বাইরে থেকে এমন স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাওয়া যায়নি। শুধু ভেন্যুতে নয়, টেলিভিশন সেটের সামনে বসে থাকা দর্শকশ্রোতাদের মধুর অভিজ্ঞতা হয়েছে। স্ক্রিনে খেলা দেখতে তাদের চোখকে প্রশান্তি দিয়েছে। ব্যবহৃত হয়েছে অসংখ্য ক্যামেরা। বিপিএলের ম্যাচগুলো সুনিপুণ সম্প্রচারের মূলে রয়েছে এশিয়ার নেতৃস্থানীয় টিভি প্রডাকশন কোম্পানি রিয়াল ইম্প্যাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাজিব সাভারওয়াল বলেন, সবার প্রশংসা পেয়ে আমরা গর্বিত। আসছে বছর আরও কিছু উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি নিয়ে হাজির হব। আশা করি, দর্শক বাড়বে। আরও মানুষ বিপিএলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবেন। শুধু দর্শক নয়, বিপিএলে বিদেশি খ্যাতনামা ধারাভাষ্যকরদের নানা রং ও ঢঙের পারফরম্যান্স, দ্বিমুখী স্ট্যাম্প ক্যামেরা, রোবোটিক ক্যামেরা, ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস), হক-আই, হটস্পট ও স্নিকোমিটার, দ্বিমুখী আলট্রা-মোশন ক্যামেরা, বৈচিত্র্যময় গ্রাফিক্স বিপিএলের জৌলুস বাড়িয়েছে বহুগুণ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×