দ্বারপ্রান্তে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব

কী হতে যাচ্ছে, কতটুকু প্রস্তুত আমরা

  আইটি ডেস্ক ১৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কী হতে যাচ্ছে, কতটুকু প্রস্তুত আমরা

প্রতিদিন সকালে বাসাবো থেকে অফিসের পথে রওনা হন শারমিন শিলা। গন্তব্য গুলশান-১। প্রথমে বাসে লিংক রোড, এরপর হেঁটে বাকি পথটা। বাসে কখনও উঠার সুযোগ হতো, কখনও হতো না। এত ভিড়, জ্যামের এই শহরে নারীর অফিসযাত্রা যে কতটা ঝক্কিময় তা সবারই জানা।

ইদানীং রাইড শেয়ারিং অ্যাপ চলে আসায় রোজ সকালে শারমিন মাত্র বিশ মিনিটে অফিসে পৌঁছান। বলেন, আমাদের দেশেও এখন উবার আর পাঠাও অনেক পরিচিত। এসবের অভিজ্ঞতা নিয়ে একজন এরই মধ্যে শুরু করেছে ট্রাক লাগবে মানে ট্রাক শেয়ারিংয়ের উদ্যোগ।

ফেসবুককে কেন্দ্র করে দেশে সহস্রাধিক ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। সেগুলোর উদ্যোক্তাদের পক্ষে ১০ বছর আগেও নিজের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ার ব্যাপারটা শুধু স্বপ্ন ছিল। এ রকম উদাহরণ আরও দেয়া যায়। তবে মোদ্দা কথা হল, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক সম্পর্কের বিকাশ যে নতুন বিপ্লবের সূচনা করেছে তার ছোঁয়া এদেশেও এসে পড়েছে।

শিল্প বিপ্লবের পর একটি জটিল সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠেছিল নকশা থেকে উৎপাদন, পণ্য বিতরণ, আমদানিকারক, পাইকারি আর খুচরা বিক্রেতার সমন্বয়ে। এর ফলে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে শত কোটি ধরনের পণ্য উৎপাদনের, বিপণনের এবং তা পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তার দুয়ারে।

ইন্টারনেটের আবির্ভাব এবং বহুমুখী ব্যবহারের ফলে এ ব্যবস্থারই এক অভাবনীয় পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। হাভাস মিডিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট টম গুডউইন পরিবর্তিত ব্যবস্থাকে বর্ণনা করেছেন। বলছেন যে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্যাক্সি কোম্পানি উবারের নিজের কোনো ট্যাক্সি নেই, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক কোনো কনটেন্ট তৈরি করে না, পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাইকার আলীবাবার কোনো গুদাম নেই এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রভাইডার এয়ারবিএনবির নিজেদের কোনো রিয়েল এস্টেট নেই। আর এসব কারণে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস সোয়াব প্রযুক্তির এই পরিবর্তনকে দেখছেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হিসেবে। তিনি একে প্রগতি বলছেন না, বলছেন বিপ্লব।

তিনি বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারকে প্রথম শিল্প বিপ্লব বলে চিহ্নিত করেছেন। পানি আর বাষ্পের ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব হল বিদ্যুৎ ব্যবহার করে গণ-উৎপাদন। তৃতীয় শিল্প বিপ্লব হলো ইলেক্ট্রনিকস আর ইনফরমেশন টেকনোলজির বিস্তার। গেল শতকের মাঝামাঝি সময়ে ট্রানজিস্টার আবিষ্কারের মাধ্যমে এ বিপ্লবের সূচনা হিসেবে দেখিয়েছেন। আর এই তৃতীয় বিপ্লবের ওপর ভর করেই বর্তমান ডিজিটাল বিপ্লব তথা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছে।

এটিকে তিনি তৃতীয় বিপ্লবের এক্সটেনশন হিসেবে মানতে নারাজ। কারণ গতি বলেন, স্কোপ বলেন কিংবা প্রভাব বলেন কোনোটাই তৃতীয়টির ধারেকাছে নেই। একেবারে অন্য রকম। বর্তমানের এই যে উলম্ফন, এটির কোনো ঐতিহাসিক উদাহরণ নেই। বলা যায় এ পরিবর্তন হচ্ছে জ্যামিতিক হারে। আর এ পরিবর্তন প্রভাবিত করতে শুরু করেছে আমাদের জীবনের অলিগলি, বলা যায় জীবনের ৩৬০ ডিগ্রিকেই।

এটুকু পড়ে মুগ্ধতা কি কাটে! দেশে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাব পড়েছে অথচ তা আমরা অনেকেই জানি না বা অনুধাবন করছি না। সহকর্মী অরুপ, সামিয়াকে বললেন বিষয়টা। অরুপ বললেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আমাদের জীবনমানকে উন্নত করবে। অরুপের কথাটি বেশ পছন্দ হল শারমিন শিলার।

তিনি ওয়েবসাইটে ঢুকলেন বাংলাদেশে এই বিপ্লব নিয়ে কোনো বড় আয়োজন হয়েছে কিনা। ঢুকেই চোখের সামনে পড়ল- Industry 4.0। ঢুকে দেখলেন বেসিস সফটএক্সপো ২০১৯-এর প্রদর্শনী এলাকার দশটি জোনের মধ্যে একটি Industry 4.0। এটি সারাবিশ্বের ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের সূচনা সম্পর্কে ধারণা দেবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সক্ষমতাকে সবার সামনে তুলে ধরবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×