বাংলা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুগল-ফেসবুক ভাষাকে বিকৃত করছে

  সাইফ আহমাদ ২১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলা প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুগল-ফেসবুক ভাষাকে বিকৃত করছে

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা নিয়ে বাঙালির আর পেছনে তাকানোর সময় নেই। যারা বাংলা ভাষাকে সঠিক ও শুদ্ধভাবে প্রয়োগ করবে না তাদের কে সরকার ছাড় দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলমান বেসিস সফটএক্সপো-২০১৯ এ ‘বাংলা যান্ত্রিক অনুবাদক, তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার ব্যবহার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, গুগল-ফেসবুক বাংলা প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাকে বিকৃত করছে, যারা বাংলা ভাষাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করবে না তাদের সরকার ছাড় দেবে না। কিছুদিন আগে স্পেনে ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে।

আমি বলেছি বাংলাকে সঠিকভাবে প্রয়োগ না করলে কখন বাংলাদেশে ফেসবুক নিষিদ্ধ হয়ে যাবে তার গ্যারান্টি আমি দিতে পারি না। একই কথা মাইক্রোসফটকেও বলেছি। বাংলাকে বাংলা ভাষার নিয়মেই ব্যবহার করতে হবে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বদৌলতে বাংলা ভাষার মৌলিক প্রমিতকরণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে উল্লেখ করে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘পৃথিবীতে নানা কারণে বহু দেশ তার মাতৃভাষাকে হারিয়ে ফেলেছে, মাতৃভাষায় ব্যবহৃত হরফকে হারিয়ে ফেলেছে। উর্দু ভাষা তার নিজস্ব বর্ণমালা হারিয়েছে। মালয়েশিয়া তার ভাষায় ইংরেজি বর্ণমালা ব্যবহার করছে।

এক সময় কম্পিউটার ছিল ইংরেজি ভাষার দখলে। প্রযুক্তির বদৌলতে এখন তা পাল্টে যাচ্ছে। ইন্টারনেটে এখন সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় চাইনিজ ভাষা, বাংলা ভাষাও পিছিয়ে নেই, বাংলাদেশে ৯ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। সারা দুনিয়ায় বাংলা ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটি। বাংলা পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মাতৃভাষা। বাংলা হরফ ব্যবহার করছে আরও ৫ কোটিরও বেশি অন্য ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী উল্লেখ করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবে বাংলাদেশ বৈশ্বিক নেতৃত্বের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে। বঙ্গবন্ধু অপটিমা মনির বাংলা টাইপরাইটার প্রথম চালু করে ছিলেন।

১৯৮৭ সালে দেশে কম্পিউটারে প্রথম বাংলা পত্রিকা প্রকাশে মন্ত্রী তার নিরন্তর সাধনা তুলে ধরে বলেন, প্রযুক্তির বদৌলতে মোবাইলসহ কম্পিউটার ডিভাইসে ইংরেজিতে কথা বললে তা বাংলায় রূপান্তর হবে। বাংলায় কথা বললে ইংরেজি, জাপানিজ কিংবা কোরিয়ান ভাষার শ্রোতারা নিজ নিজ ভাষায় তা রূপান্তর করে শুনতে সক্ষম হবেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিশেষ কোনো ভাষার দাপটের দিন শেষ হয়ে আসছে।

প্রযুক্তি আমাদের সেই সক্ষমতা তৈরি করে দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণে আইসিটি বিভাগ কর্তৃক ১৬টি টুলস বাস্তবায়নে গৃহীত কর্মসূচি শেষ হলে পৃথিবী অবাক বিস্ময়ে দেখবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, যে দেশটি বাংলা ভাষার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করেছে সে দেশটির মেধাবী ছেলেমেয়েরা তাদের সর্বোচ্চ মেধা বাংলা ভাষার জন্য দিতে সক্ষম।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ প্রকল্পের পরিচালক ড. জিয়া উদ্দিন আহমেদ, বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির এবং বিসিসি পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল কবির।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×