তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বর্ধিত বাজেট

  ফয়সাল আহমাদ ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে বর্ধিত বাজেট

বর্তমান সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর অন্যতম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা’। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় জানান অর্থমন্ত্রী।

দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং প্রযুক্তিভিত্তিক চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সফল করতে প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করার কথা বলা হয় বাজেটে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে প্রস্তাবিত এবারের বাজেট নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন-

বৃহস্পতিবার ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবনা করা হয়।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বাজেট প্রস্তাব পেশ করেছেন আ হ ম মুস্তফা কামাল। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশে’র শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতার প্রথম অধ্যায়ের ২৩ নম্বর পয়েন্ট ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে আলোচনা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

সংসদে পেশ করা বাজেট বক্তৃতায় দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং প্রযুক্তিভিত্তিক চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সফল করতে ও অংশীদার হতে শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার, ডিজিটাল মুদ্রা বা ব্লক চেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার কথা তুলে ধরা হয়।

আইসিটি বিভাগকে ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ

এবারের বাজেটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগকে ১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে ১৯৩ কোটি টাকা বেশি। গত অর্থবছরে আইসিটি বিভাগকে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ হয় ১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা।

স্টার্টআপদের উন্নয়নে বরাদ্দ ১০০ কোটি টাকা

দেশীয় স্টার্টআপদের জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়, দেশীয় স্টার্টআপদের মূলধনের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই অর্থ দেশের সব ধরনের স্টার্টআপের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। ‘জনমিতিক লভ্যাংশ : তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ নামে ওই পয়েন্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সামনে জনমিতিক লভ্যাংশের যে সুযোগ রয়েছে তা কাজে লাগাতে হবে। ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুবককে সংগঠিত, সুশৃঙ্খল এবং উৎপাদনমুখী শক্তিকে রূপান্তরের জন্য সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বাজেট বক্তব্যে বলা হয়, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে সারা দেশে ১১১টি প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, উপজেলা পর্যায়ে ৪৯৮টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।

বাড়বে স্মার্টফোনের দাম কমবে ফিচার ফোনের

স্মর্টফোন বিত্তবান লোকজন ব্যবহার করেন ও ফিচার ফোন নিুআয়ের জনগোষ্ঠী ব্যবহার করেন উল্লেখ করে বাজেটে স্মার্টফোনের ওপর ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ফলে দাম বাড়তে পারে স্মার্টফোনের।

তবে ফিচার ফোন আমদানিতে শুল্ক আগের মতো ১০ শতাংশ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ফিচার ফোনের দাম কমতে পারে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সময় এ প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদনের ক্ষেত্রে কিছু যন্ত্রাংশের আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের প্রস্তাব করা হয়েছে।

শুল্ক কমছে মোবাইল যন্ত্রাংশের

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ অর্থবছরের বাজেটে হ্যান্ডসেট সংযোজনে আরও কিছু যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্কে ছাড় দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। মোবাইল চার্জার পিন এবং সিম ইজেক্টরের দাম কমতে পারে এবারের বাজেটে।

উভয় পণ্যে শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ক্রিস্টাল ডায়োড ও ট্রানজিস্টরের শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব এসেছে।

শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর

শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবহারে প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবারের বাজেটে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যম প্রাথমিক শিক্ষার ক্যাপাসিটি উন্নয়ন সাধন। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল প্রাথমিক শিক্ষা’ শীর্ষক একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ’। ১২৫টি উপজেলায় ইতিমধ্যে ‘আইসিটি ট্রেইনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার’ তৈরি করা হয়েছে। বাজেটে আরও ১৬০টি উপজেলায় সেটি সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চালু হচ্ছে ব্লকচেইন প্রযুক্তি

বিশ্বে তথ্য আদান-প্রদানের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ব্লকচেইন পদ্ধতি। দেশে তথ্য আদান-প্রদানের নিরাপদ ও অপরিবর্তনীয় এ মাধ্যম ব্লকচেইন প্রযুক্তি চালু করা হচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেটে বলা হয়। এই পদ্ধতিতে আর্থিক লেনদেন ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব, স্বাস্থ্যসেবা, মালিকানার তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান শুরু হয়েছে।

যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ব্লকচেইন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় এসেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছর হতেই এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

ডিজিটাল বিচার ব্যবস্থাপনা

ই-জুডিশিয়ারি কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের সব আদালতকে তথ্যপ্রযুক্তির একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকেই দেশের সব আদালতকে তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্কের মধ্যে আনা হবে বলে বাজেটে বলা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে ঢাকায় একটি সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। সাত বিভাগীয় শহরে আরও সাতটি ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও বাজেট আলোচনায় বলা হয়।

সুপ্রিমকোর্টসহ নিু আদালতসমূহের সব কার্যক্রমকে অটোমেশন এবং নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। দেশের নিু আদালতে ‘বিচারাধীন মামলার বর্তমান অবস্থা, শুনানির তারিখ, ফলাফল ও পূর্ণাঙ্গ রায় নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে বাজেট বক্তৃতায়।

ডিজিটাল হচ্ছে সঞ্চয়পত্র এবং পেনশন ব্যবস্থাপনা

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনা এবং পেনশন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বাজেটে পেনশনভোগীদের হয়রানি এড়াতে ব্যাংকের ইএফটির পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে যেন পেনশন তুলতে পারেন সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। সঞ্চয়পত্র ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের উদ্দেশ্যে জাতীয় সঞ্চয়স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সীমা নির্ধারণ, বিক্রয়, মুনাফা, নগদায়ন ইত্যাদি সেবা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : বাজেট ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×