জাতীয় বাজেট ২০১৯-২০

তথ্যপ্রযুক্তির ৪ সংগঠনের প্রতিক্রিয়া

  সাইফ আহমাদ ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেট নিয়ে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বাণিজ্য সংগঠনগুলো। ১৬ জুন (রোববার) ২০১৯ জোটবদ্ধভাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফর্মেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কলসেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য)। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেসিসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, বিসিএস সভাপতি শাহীদ-উল-মুনির, আইএসপিএবির সভাপতি এমএ হাকিম, বাক্যের মহাসচিব তৌহিদ হোসেন উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বেসিস সভাপতি বলেন, আইসিটি খাতে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বাজেটে বারাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ সর্বশেষ অর্থবছরের চেয়ে ২১৭৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বরাদ্দ এ বছর ১৯৩ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন উদ্যোক্তাদের (Start-ups) জন্য সরকার ১০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি, এ বাজেটে সোশ্যাল মিডিয়া ও ভার্চুয়াল বিজনেসের ওপর ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর ভ্যাট কমানো হয়েছে যা প্রশংসনীয়। এ জন্য আমরা অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।

কিন্তু একই সঙ্গে ভার্চুয়াল বিজনেস তথা ডিজিটাল কমার্সের ওপর ভ্যাট ০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৫ শতাংশ হয়েছে যা বিকাশমান এ খাতের অগ্রগতির জন্য অন্তরায়। আমরা তাই বিকাশমান এ খাতের জন্য আগামী কয়েক অর্থবছরের জন্য আবার ভ্যাট অব্যাহতির দাবি জানাই।

আইটিইএস খাতে ৫ শতাংশ মূসক আরোপ এ খাতের বিকাশের অন্তরায়। এ খাত থেকে পুরোপুরি মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া আইটিইএসের সংজ্ঞা পরিবর্তনের দাবিও জানান তিনি। যেখানে সফওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তির বেশ কিছু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করা হয়েছে। বিসিএস সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর বলেন, ব্যবসায়ী পর্যায়ে কম্পিউটার ও এর যন্ত্রাংশের ওপর মূসক অব্যাহতি বহাল রাখা হয়েছে। এ প্রস্তাবনা অবশ্যই ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ আগাম কর আরোপ করা হয়েছে। কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং সংশ্লিষ্ট যাবতীয় হার্ডওয়্যার সামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর-ভার ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে বিবেচনায় নিয়ে ৫ শতাংশ আগাম কর থেকে অব্যাহতি প্রদান করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, কম্পিউটার ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশ আমদানি পরবর্তী পর্যায়ে সরবরাহ বা যে কোনোভাবে সরবরাহ বা বিক্রির ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে মূসক ৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৭.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্বার্থে তা আগের মতো ৫ শতাংশ বহাল রাখা হোক।

আইএসপিএবি সভাপতি এমএ হাকিম বলেন, বর্তমান সরকার তথ্যপ্রযুক্তির প্রচার ও প্রসারের বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর। এটি সুবিদিত যে, প্রতি ১,০০০ ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে প্রায় ১০ জন কর্মহীন মানুষের কর্মসংস্থান হয়। এ ছাড়া বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুসারে, প্রতি ১০ শতাংশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের মাধ্যমে ১.৩৮ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি ঘটে। এমন একটি অবস্থায় ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি (RD) আরোপ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশ ও প্রসারে এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করবে, যার প্রভাব সরকারি মেগা প্রজেক্টগুলোয়ও পড়বে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। উপরোক্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় ফাইবার অপটিক ক্যাবলের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি (RD) আরোপ করার বিষয়টি মওকুফ করে আগের ন্যায় ০ শতাংশ করার জন্য আইএসপিএবি জোর দাবি জানায়।

বাক্যের মহাসচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর আলোচ্য বাজেটে মূসক ৫ শতাংশ বলবৎ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবার ওপর থেকে সম্পূর্ণরূপে মূসক প্রত্যাহারের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য প্রস্তাব করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ফারহানা এ রহমান, সহসভাপতি (অর্থ) মুশফিকুর রহমান, পরিচালক দিদারুল আলম, বিসিএসের সহসভাপতি ইউসুফ আলী শামীম, মহাসচিব মোশারফ হোসেন সুমন, কোষাধ্যক্ষ মো. জাবেদুর রহমান শাহীন, পরিচালক মো. আছাব উল্লাহ খান জুয়েল। ছিলেন আইএসপিএবির মহাসচিব ইমদাদুল হক।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×