৩২০ কোটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সাইফ আহমাদ

বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ৩২০ কোটি অ্যাকাউন্ট ভুয়া সন্দেহে মুছে ফেলেছে।

সম্প্রতি ফেসবুক জানায়, ভুল তথ্য ছড়ানো ও বিভ্রান্তি মোকাবেলার অংশ হিসেবে এ কাজ করেছে তারা।

সেসব অ্যাকাউন্ট বন্ধের পাশাপাশি মাধ্যমটি থেকে শিশু নির্যাতন ও আত্মহত্যা সম্পর্কিত লাখ লাখ পোস্টও সরিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ সামাজিক মাধ্যমটি তাদের যে কনটেন্ট মডারেশন রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে এমন তথ্য।

গত বছর ফেসবুক জানিয়েছিল, তারা মাধ্যমটি থেকে ১৫৫ কোটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছিল। কিন্তু প্লাটফর্মটিতে তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ছিল বলেও জানায়। একই সঙ্গে গত বছর মাধ্যমটি ইনস্টাগ্রাম থেকেও গুজব ছড়ানোর দায়ে কিছু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছিল।

তবে ফেসবুকের ব্যবহারকারীদের বার্তা এনক্রিপ্ট করার মাধ্যমে আরও বেশি গোপনীয়তা রক্ষার সুযোগ দেয়া নিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন বলেও জানা গেছে।

তাদের ধারণা, এর মাধ্যমে শিশুরা আরও বেশি নির্যাতনের শিকার হবে। এমনকি এগুলো শিশু পর্নোগ্রাফির জন্যও সহায়ক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে প্লাটফর্মটি বলছে, তারা শুধু ভুয়া অ্যাকাউন্ট, আত্মহত্যা বা ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর পোস্টই সরায়নি, পাশাপাশি তারা সাড়ে চার কোটির মতো ওষুধ বিক্রির পোস্টও সরিয়েছে। যার মধ্যে অনেক ওষুধ মাদক হিসেবে গ্রহণ করছিল অনেকেই।

এর আগে গত বছর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য বেহাত হয়ে ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিক নামের প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল।

সেবার একজন গবেষককে ব্যবহারকারীদের তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছিল জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। কিন্তু ওই গবেষকের সূত্রে ব্যবহারকারীদের তথ্য চলে যায় ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকের কাছে।

অভিযোগ ওঠে, ডানপন্থী পত্রিকা ব্রেইটবার্টের প্রধান ও পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রধান পরিকল্পনাবিদ স্টিভ ব্যানন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে জড়িত।

তিনি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহার করে ২০১৬ সালের নির্বাচন প্রভাবিত করেছেন। ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকে কাজ করা সাবেক একজন কর্মী এসব তথ্য ফাঁস করে দেন। পরে এর জেরে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গকে কংগ্রেসে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়। এরপর থেকে নীতিমালা নিয়ে আরও কঠোর হয় ফেসবুক।