বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে বছরে ১২৫ কোটি টাকা আয় নিশ্চিত হয়েছে

  আইটি ডেস্ক ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ ক্যাপাসিটি বিক্রি হয়েছে তাতে মাসে ১০ কোটি টাকার বেশি আয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হতে।

এর ফলে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএসসিএল) এখনই বছরে ১২৫ কোটি টাকার বেশি আয় নিশ্চিত করেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) কার্যালয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ বুঝে পাওয়ার পর এ পর্যন্ত তারা অত্যাধুনিক এ স্যাটেলাইটটির ২৬ শতাংশ ক্যাপাসিটি বিক্রি করেছেন। আরও ১০ শতাংশ বিক্রির প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তাছাড়া এর বাইরে আরও ৬৪ শতাংশ ক্যাপাসিটি তারা পরে বিক্রির জন্য চেষ্টা করছেন বলে জানান।

সরকারি এ কোম্পানিটি জানিয়েছে, বাকি তিন চর্তুথাংশ থেকে যদি তারা মাসে মাত্র ১৫ কোটি টাকাও আয় করতে পারেন তাহলেও এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় হওয়া সরকারের পুরো খরচ উঠে আসতে মাত্র নয় বছর সময় লাগবে।

একটি স্যাটেলাইটের মেয়াদ সাধারণত ১৫ বছরের হয়। এর আগে যখন পরিকল্পনা করা হয় তখন আট বছরের মধ্যে খরচের টাকা উঠে আসবে বলে হিসেব ধরা হয়েছে। তবে শাহজাহান মাহমুদ বলছেন, বিশ্বজুড়েই স্যাটেলাইটের ব্যান্ডউইথের দাম কমেছে। তাতে করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তাদের খুব বেশি আয় করার সম্ভাবনা নেই।

তারপরেও নেপালের একটি ডিটিএইচ কোম্পানি এবং ফিলিপিনের অপর একটি কোম্পানি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে ৯টি ট্রান্সপন্ডার কেনার জন্য আলোচনা করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর হাতে সি ব্যান্ড এবং কেইউ ব্যান্ড মিলিয়ে সাকুল্যে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। দেশের মধ্যেই অনেক বেশি চাহিদা রয়েছে আর সে কারণে দেশের বাজারকে প্রাধান্য দিয়েই তারা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর প্রথম ক্রেতা ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশন। তারা সি ব্যান্ড এবং কেইউ ব্যান্ড মিলিয়ে ১ দশমিক ৫০ ট্রান্সপন্ডার ভাড়া দিয়েছে বিসিএসসিএলের কাছ থেকে। এখান থেকে বছরে বিসিএসসিএলের আয় হবে ১৭ কোটি টাকা। তাছাড়া ৩১টি বেসরকারি টেলিভিশনগুলো সি ব্যান্ড থেকে ৫ ট্রান্সপন্ডার এবং কেইউ ব্যান্ড থেকে নিচ্ছে আরও ৪ ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি। আর এখান থেকে কোম্পানিটির আয় হবে বছরে ৬০ কোটি টাকা।

টাকার অংকে এককভাবে সবচেয়ে বড় ক্রেতা বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের ডিটিএইচ আকাশ। তাদের কাছ থেকে বিসিএসসিএল কত টাকা আয় করবে সেই অংশ প্রকাশ না করলেও সেটি প্রায় আরও ৪৫ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এর বাইরে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে বছরে তিন কোটি টাকা আয় হবে স্যাটেলাইট কোম্পানির। খুব তাড়াতাড়ি মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন ড. শাহজাহান মাহমুদ। তবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রে দেশকে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবার মধ্যে নিয়ে আসাকেই সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন তিনি।

শাহজাহান মাহমুদ বলেন, এখন পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন দেশ আর কখনোই টেলিযোগাযোগ সেবার বাইরে থাকবে না।

‘আয় করার পাশাপাশি টেলিমেডিসিন বা ই-লার্নিংয়ের মতো কিছু সেবা নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে যেগুলো আসলে টাকার অংকে মাপা ঠিক হবে না’।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×