ডিজিটাল বাংলাদেশ : অগ্রগতির একযুগ
jugantor
ডিজিটাল বাংলাদেশ : অগ্রগতির একযুগ

  সাইফ আহমাদ  

১৭ জানুয়ারি ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির অগ্রগতির ছোঁয়া লেগেছে পুরো বিশ্বে। বাংলাদেশও মাত্র ১২ বছরে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর দিকে।

গত এক যুগের অর্জনকে পূর্ণতা দিতে স্বাধীনতার পূর্ণ জয়ন্তীতে সেন্টার অব এক্সিলেন্স (৪আইআর), এজেন্সি টু ইনোভেশন (এটুআই), সাইবার সিকিউরিটি হেল্প ডেস্ক (১০৪) ও ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরিসহ আরো ১২টি উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের আইসিটি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

শনিবার আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর’ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

সংবাদ সম্মেলনে ১২ বছরে নানামুখী উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে ওঠা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিশদ উপস্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে এতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হোসনে আরা বেগমসহ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিগত ১২ বছরে দেশে একটি শক্তিশালী আইসিটি ব্যাকবোন তৈরি হয়েছে, যা গ্রাম এলাকা পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। দেশের ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায়। ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের পথিকৃৎ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের ৫০ হাজারেরও কম কর্মসংস্থান এ ১২ বছরে ১৫ লাখের বেশিতে এসেছে; ২০০৮ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ৫৬ লাখ আর তা এখন প্রায় ১২ কোটি; সরকারি ওয়েবসাইট ছিল মাত্র ৫০টিরও কম আর ২০২১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্য বাতায়ন বাংলাদেশের, যেখানে সরকারি ওয়েবসাইট ৫১ হাজারেও বেশি; ২০০৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বাজার ছিল ২৬ মিলিয়ন আর ২০২১ সালে তা এখন ১ বিলিয়ন ডলার।

পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪টি মাইলস্টোন দিয়েছেন, প্রথম ২০২১ সালের রূপকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা, তৃতীয় ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং চতুর্থ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সালের জন্য। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তরুণ বয়সে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয়।

আইসিটি ব্যাকবোন তৈরি হওয়ার কারণে করোনা মহামারিকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অফিস-আদালত, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। সরকার করোনা পোর্টাল, কোভিড ট্রেসার, কোভিড-১৯ ট্র্যাকার, ফুড ফর ন্যাশন ও হেলথ ফর ন্যাশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে করোনা মোকাবিলা করছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশের জনগণকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা, সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকল্পে জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছানো, ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সবাইকে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানে সমন্বিতভাবে কাজ করে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ : অগ্রগতির একযুগ

 সাইফ আহমাদ 
১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির অগ্রগতির ছোঁয়া লেগেছে পুরো বিশ্বে। বাংলাদেশও মাত্র ১২ বছরে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’-এর দিকে।

গত এক যুগের অর্জনকে পূর্ণতা দিতে স্বাধীনতার পূর্ণ জয়ন্তীতে সেন্টার অব এক্সিলেন্স (৪আইআর), এজেন্সি টু ইনোভেশন (এটুআই), সাইবার সিকিউরিটি হেল্প ডেস্ক (১০৪) ও ন্যাশনাল ডিজিটাল লাইব্রেরিসহ আরো ১২টি উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের আইসিটি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

শনিবার আগারগাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ১২ বছর’ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ।

সংবাদ সম্মেলনে ১২ বছরে নানামুখী উদ্যোগ বাংলাদেশের ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়ে ওঠা, অর্জন ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিশদ উপস্থাপন করেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে এতে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হোসনে আরা বেগমসহ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, বিগত ১২ বছরে দেশে একটি শক্তিশালী আইসিটি ব্যাকবোন তৈরি হয়েছে, যা গ্রাম এলাকা পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে। দেশের ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়ন এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটির আওতায়। ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনে তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের পথিকৃৎ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের ৫০ হাজারেরও কম কর্মসংস্থান এ ১২ বছরে ১৫ লাখের বেশিতে এসেছে; ২০০৮ সালে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল মাত্র ৫৬ লাখ আর তা এখন প্রায় ১২ কোটি; সরকারি ওয়েবসাইট ছিল মাত্র ৫০টিরও কম আর ২০২১ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তথ্য বাতায়ন বাংলাদেশের, যেখানে সরকারি ওয়েবসাইট ৫১ হাজারেও বেশি; ২০০৮ সালে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বাজার ছিল ২৬ মিলিয়ন আর ২০২১ সালে তা এখন ১ বিলিয়ন ডলার।

পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪টি মাইলস্টোন দিয়েছেন, প্রথম ২০২১ সালের রূপকল্প ডিজিটাল বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা, তৃতীয় ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা এবং চতুর্থ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ সালের জন্য। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তরুণ বয়সে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয়।

আইসিটি ব্যাকবোন তৈরি হওয়ার কারণে করোনা মহামারিকালে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অফিস-আদালত, চিকিৎসা সেবা, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। সরকার করোনা পোর্টাল, কোভিড ট্রেসার, কোভিড-১৯ ট্র্যাকার, ফুড ফর ন্যাশন ও হেলথ ফর ন্যাশনসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে করোনা মোকাবিলা করছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশের জনগণকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা, সরকারের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকল্পে জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিক সেবা পৌঁছানো, ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য অর্জনে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের সবাইকে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানে সমন্বিতভাবে কাজ করে ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন