স্পাইওয়্যার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা চান বিশেষজ্ঞরা
jugantor
স্পাইওয়্যার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা চান বিশেষজ্ঞরা

  আইটি ডেস্ক  

২৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

স্পাইওয়্যার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা চান বিশেষজ্ঞরা

সম্প্রতি পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসার পর সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ওপর আড়ি পাতার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এ ম্যালওয়্যার নিয়ে বেশ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশের সরকারের স্পাইওয়্যার বাণিজ্যে বৈশ্বিক স্থগিতাদেশ জারি করা উচিত, না হলে এমন একটি বিশ্বের সম্মুখীন হতে হবে যেখানে রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের হাত থেকে কোনো মোবাইল ফোন নিরাপদ থাকবে না। কেবল লাভের আশায় ম্যালওয়্যার নির্মাণ উচিত নয় বলে মত দেন সাবেক মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) ঠিকাদার অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন।

উল্লখ্য, পেগাসাস স্পাইওয়্যারটি তৈরি করে তা বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করে ইসরায়েলি এনএসও গ্রুপ। এই স্পাইওয়্যারটি গোপনে মোবাইল ফোনকে আক্রান্ত করে এবং সেটি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। ইমেইল, টেক্সট, যোগাযোগ তালিকা, অবস্থান ডেটা, ছবি এবং ভিডিও সবই হাতিয়ে নিতে পারে এমনকি গোপনে ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি চালাতে ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনও সচল করে দিতে পারে এটি।

স্নোডেনের মতে, বাণিজ্যিক ম্যালওয়্যার কীভাবে দমনমূলক শাসন ব্যবস্থাকে আরও মানুষের ওপর সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ধরনের নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তা উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতানুগতিক পুলিশ কার্যক্রমে বাগ স্থাপন করতে বা কোনো সন্দেহভাজনের ফোন ওয়্যারট্যাপ করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ‘কোনো ব্যক্তির বাসায় অনুপ্রবেশ করতে হবে, বা গাড়ির কাছে যেতে হবে, বা তাদের অফিসে যেতে হবে এবং আমরা মনে করতে পারি, তারা হয়তো ওয়ারেন্ট নিয়ে আসবে।’

ভারতের কানপুর আইআইটির সাইবার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সন্দীপ শুক্ল বলেন, ফোনে আড়ি পাতার নতুন কৌশল আয়ত্ত করেছে এনএসও গ্রুপ। তাদের তৈরি পেগাসাস এখন অনেক অপডেটেড। প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাসগুলো পেগাসাসকে চিহ্নিত করতে পারে না। তাই ম্যাকাফে বা অন্যান্য কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাস তৈরি কোম্পানিগুলোও পড়েছে শঙ্কায়। এই ম্যালওয়্যারকে কিভাবে দূরে রাখা যায়, সে প্রযুক্তি আপাতত তাদের কাছে নেই। তবে এ ধরনের স্পাইওয়্যার-এর যেহেতু সহজে চিহ্নিত করা যায় না সুতরাং সবচেয়ে নিরাপদ হয়, যদি এসব অ্যাপ্লিকেশন বাণিজ্যিকভাবে নিসিদ্ধ করা হয়।

২০১৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপে মিসড ভয়েস কল দিয়ে এই ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হতো ফোনে। আর এখন হ্যাকারদের মূল নিশানা হলো অ্যাপলের মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন। আইফোনে ম্যালওয়্যার যুক্ত করে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। সেই আইমেসেজ ক্লিক না করলেও ম্যালওয়্যার ইনস্টল হয়ে যাচ্ছে ফোনে। যদি গ্রাহক মেসেজ না খুলে ডিলিটও করে দেন, তাহলেও এই সাঙ্ঘাতিক ম্যালওয়্যার ফোনের সিস্টেমে ঘুরতে থাকবে। হাতিয়ে নেবে ছবি, ভিডিও, অডিও, কললিস্ট, মেসেজসহ যাবতীয় তথ্য, এমনকি পাসওয়ার্ডও।

স্পাইওয়্যার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা চান বিশেষজ্ঞরা

 আইটি ডেস্ক 
২৭ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
স্পাইওয়্যার বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা চান বিশেষজ্ঞরা
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসার পর সারা বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও রাজনীতিকদের ওপর আড়ি পাতার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর এ ম্যালওয়্যার নিয়ে বেশ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন দেশের সরকারের স্পাইওয়্যার বাণিজ্যে বৈশ্বিক স্থগিতাদেশ জারি করা উচিত, না হলে এমন একটি বিশ্বের সম্মুখীন হতে হবে যেখানে রাষ্ট্র-সমর্থিত হ্যাকারদের হাত থেকে কোনো মোবাইল ফোন নিরাপদ থাকবে না। কেবল লাভের আশায় ম্যালওয়্যার নির্মাণ উচিত নয় বলে মত দেন সাবেক মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) ঠিকাদার অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন।

উল্লখ্য, পেগাসাস স্পাইওয়্যারটি তৈরি করে তা বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করে ইসরায়েলি এনএসও গ্রুপ। এই স্পাইওয়্যারটি গোপনে মোবাইল ফোনকে আক্রান্ত করে এবং সেটি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। ইমেইল, টেক্সট, যোগাযোগ তালিকা, অবস্থান ডেটা, ছবি এবং ভিডিও সবই হাতিয়ে নিতে পারে এমনকি গোপনে ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি চালাতে ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনও সচল করে দিতে পারে এটি।

স্নোডেনের মতে, বাণিজ্যিক ম্যালওয়্যার কীভাবে দমনমূলক শাসন ব্যবস্থাকে আরও মানুষের ওপর সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ধরনের নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে তা উঠে এসেছে অনুসন্ধানে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতানুগতিক পুলিশ কার্যক্রমে বাগ স্থাপন করতে বা কোনো সন্দেহভাজনের ফোন ওয়্যারট্যাপ করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ‘কোনো ব্যক্তির বাসায় অনুপ্রবেশ করতে হবে, বা গাড়ির কাছে যেতে হবে, বা তাদের অফিসে যেতে হবে এবং আমরা মনে করতে পারি, তারা হয়তো ওয়ারেন্ট নিয়ে আসবে।’

ভারতের কানপুর আইআইটির সাইবার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সন্দীপ শুক্ল বলেন, ফোনে আড়ি পাতার নতুন কৌশল আয়ত্ত করেছে এনএসও গ্রুপ। তাদের তৈরি পেগাসাস এখন অনেক অপডেটেড। প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাসগুলো পেগাসাসকে চিহ্নিত করতে পারে না। তাই ম্যাকাফে বা অন্যান্য কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাস তৈরি কোম্পানিগুলোও পড়েছে শঙ্কায়। এই ম্যালওয়্যারকে কিভাবে দূরে রাখা যায়, সে প্রযুক্তি আপাতত তাদের কাছে নেই। তবে এ ধরনের স্পাইওয়্যার-এর যেহেতু সহজে চিহ্নিত করা যায় না সুতরাং সবচেয়ে নিরাপদ হয়, যদি এসব অ্যাপ্লিকেশন বাণিজ্যিকভাবে নিসিদ্ধ করা হয়।

২০১৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপে মিসড ভয়েস কল দিয়ে এই ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হতো ফোনে। আর এখন হ্যাকারদের মূল নিশানা হলো অ্যাপলের মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন। আইফোনে ম্যালওয়্যার যুক্ত করে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। সেই আইমেসেজ ক্লিক না করলেও ম্যালওয়্যার ইনস্টল হয়ে যাচ্ছে ফোনে। যদি গ্রাহক মেসেজ না খুলে ডিলিটও করে দেন, তাহলেও এই সাঙ্ঘাতিক ম্যালওয়্যার ফোনের সিস্টেমে ঘুরতে থাকবে। হাতিয়ে নেবে ছবি, ভিডিও, অডিও, কললিস্ট, মেসেজসহ যাবতীয় তথ্য, এমনকি পাসওয়ার্ডও।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন