বিনামূল্যের সেরা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল
jugantor
বিনামূল্যের সেরা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল
কম্পিউটার, ম্যাকবুক বা স্মার্টফোনসহ সব প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে। সম্প্রতি পেগাসাস কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে বিষয়টি। সাধারণ ব্যবহারকারীদের পেগাসাস ঝুঁকি কম বা নেই তবুও অন্য সাইবার অপরাধীরা বসে নেই। পিসি সুরক্ষার জন্য দুর্দান্ত কাজ করে অ্যান্টিভাইরাস তবে ম্যালওয়্যার হুমকির কথাও ভুলে যাওয়া যাবে না। এগুলোর জন্য, অ্যান্টি-ম্যালওয়ার টুল রয়েছে; আজকের আয়োজনে কয়েকটি অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন-

  সাইফ আহমাদ  

৩১ জুলাই ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন কোম্পানির অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার বিভিন্ন নামে বাজারে থাকলেও সবার কার্যপদ্ধতি একই ধাঁচের। মূলত স্ক্যানিং, ইঞ্জিনের সক্ষমতা ও অন্যান্য সুবিধা একেক পণ্যে একেক রকম বলে পার্থক্য করা কিছুটা কঠিন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল থাকলেও এর বেশিরভাগের জন্যই পয়সা খরচ করতে হয়। তবে ফ্রিতেও রয়েছে একাধিক নিরাপত্তা সফটওয়্যার।

অ্যাভিরা ফ্রি সিকিউরিটি স্যুট

ফ্রিতে সিকিউরিটি সেবা গ্রহণের অন্যতম সফটওয়্যার অ্যাভিরা। এটিকে বলা হতো ইন্টারনেটের সবচেয়ে সহজবোধ্য নিরাপত্তা অ্যাপ্লিকেশন। প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাস সুবিধা ছাড়াও পুরো নেটওয়ার্ক স্ক্যান করে দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেটি ঠিক করার ক্ষমতাও আছে এর। এমনকি নিরাপদে ব্রাউজিং ও কেনাকাটার সুবিধা পাওয়া যাবে এতে। এ ছাড়া আছে প্রতি মাসে ৫০০ মেগাবাইট পর্যন্ত ভিপিএন ব্যবহারের সুবিধা, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং প্রাইভেসি সেটিং ম্যানেজার।

তবে এর সবচেয়ে ইতিবাচক ফিচার হয়তো প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফিচার ইনস্টলের সুযোগ। স্যুটে কোন ফিচারগুলো চালু থাকবে সে সিদ্ধান্ত পুরোটাই ব্যবহারকারীর হাতে থাকবে। তবে সবকিছু ভালো যেখানে সেখানে একটু মন্দ তো থাকেই আর এ অ্যাপ্লিকেশনের সীমাবদ্ধতা হলো এতে কোনো অ্যান্টি-র‌্যানসমওয়্যার নেই।

এভিজি অ্যান্টিভাইরাস ফ্রি

এভিজি অ্যান্টিভাইরাসের দুটি ভার্সন রয়েছে। একটি ফ্রি এবং অপরটি পেইড এভিজি ভার্সন। ফ্রি এভিজি ভার্সন ভাইরাস, স্পাইওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারকে সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। উপরন্তু ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে যদি আপনি অনিরাপদ কোনো ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস করার চেষ্টা করেন, যা আপনার পিসির ক্ষতি করতে পারে। এ টুল অফার করে ই-মেইল প্রটেকশন সুবিধা এবং এটি সম্ভাব্য মারাত্মক ই-মেইল অ্যাটাচমেন্টকে ব্লক করবে। এভিজি দ্রুতগতিতে এবং নীরবে ব্যাকগ্রাউন্ডে স্ক্যান পারফরম করে, ফলে বুঝতে পারবেন না যে এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করছে। পেইড ভার্সন বাড়তি ফিচার অফার করে, যেমন র‌্যানসামওয়্যার, ফাইল এনক্রিপশন, ফায়ারওয়াল প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে। এভিজি অ্যান্টিভাইরাস ফ্রি হলেও ব্যবহারকারীদের কিঞ্চিত মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। নিয়মিত নোটিফিকেশন দেবে সফটওয়্যারটি। মাঝে মাঝে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারী ইতিবাচক কাজের প্রশংসাও করবে এ সফটওয়্যার।

বিটডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস

‘শক্তিশালী কিন্তু নীরব’ অ্যান্টিভাইরাস বলা হয় বিটডিফেন্ডারকে। ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীকে কোনো প্রশ্নও করে না। চুপচাপ ভাইরাস/ম্যালওয়্যারের খোঁজ করে এটি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অ্যাপের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখে বিটডিফেন্ডার। বিপজ্জনক লিংক চিহ্নিত করতে সব ওয়েব লিংক স্ক্যান করে এ সফটওয়্যার। আর প্রতিবার পিসি চালু করার সময় বুট স্ক্যান বুস্ট করে এটি। বিজ্ঞাপনের ঝামেলাও নেই এতে। ইউজার ফ্রেন্ডলি আর সহজবোধ্য ইন্টারফেস থাকলেও, সম্ভবত এর একমাত্র নেতিবাচক দিক হচ্ছে ‘অপশন’ বা ‘সেটিংস’ ফিচার এর অনুপস্থিতি।

সর্বাধিক প্রচলিত বিটডিফেন্ডার ইন্টারনেট সিকিউরিটি একসঙ্গে ১০টি বা এর অধিক কম্পিউটারের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সিকিউরিটি দিতে পারে। ১ গিগাহার্জ প্রসেসর আর ১.৫ জিবি র‌্যাম থাকলেই আপনি চালাতে পারেন বিটডিফেন্ডার।

স্পাইবট সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়

ম্যালওয়্যার যুদ্ধের পুরনো যোদ্ধা স্পাইবট সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়। এ সফটওয়্যারটি ভাইরাস স্ক্যান করে না বরং ডিভাইসে অ্যাডওয়্যার, ম্যালওয়্যার ও স্পাইওয়্যার খোঁজে। এটা যত না সিস্টেম প্রটেকশন টুল, তার থেকে বেশি সিস্টেম রিপেয়ার টুল। তবে এটি ডাউনলোড করার সময় সাবধান থাকতে হবে ব্যবহারকারীকে। কেননা ইতোমধ্যেই এর নকল সংস্করণ বেরিয়েছে।

এ ছাড়া ভিপিএন ব্যবহার করেও ম্যালওয়্যার সংক্রমণ ঝুঁকি কমানো যায় অনেকাংশে। তবুও ডিভাইসের নিরাপত্তা ব্যবহারকারীর হাতেই। ব্যক্তিগত সচেতনতাই সবচেয়ে সহজ উপায় ম্যালওয়্যার আক্রমণ রোধে। অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল ব্যবহার করলে ঝুঁকির শঙ্কা অনেকাংশেই কম বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিনামূল্যের সেরা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল

কম্পিউটার, ম্যাকবুক বা স্মার্টফোনসহ সব প্রযুক্তি পণ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে। সম্প্রতি পেগাসাস কেলেঙ্কারির ঘটনায় আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে বিষয়টি। সাধারণ ব্যবহারকারীদের পেগাসাস ঝুঁকি কম বা নেই তবুও অন্য সাইবার অপরাধীরা বসে নেই। পিসি সুরক্ষার জন্য দুর্দান্ত কাজ করে অ্যান্টিভাইরাস তবে ম্যালওয়্যার হুমকির কথাও ভুলে যাওয়া যাবে না। এগুলোর জন্য, অ্যান্টি-ম্যালওয়ার টুল রয়েছে; আজকের আয়োজনে কয়েকটি অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন-
 সাইফ আহমাদ 
৩১ জুলাই ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন কোম্পানির অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার বিভিন্ন নামে বাজারে থাকলেও সবার কার্যপদ্ধতি একই ধাঁচের। মূলত স্ক্যানিং, ইঞ্জিনের সক্ষমতা ও অন্যান্য সুবিধা একেক পণ্যে একেক রকম বলে পার্থক্য করা কিছুটা কঠিন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল থাকলেও এর বেশিরভাগের জন্যই পয়সা খরচ করতে হয়। তবে ফ্রিতেও রয়েছে একাধিক নিরাপত্তা সফটওয়্যার।

অ্যাভিরা ফ্রি সিকিউরিটি স্যুট

ফ্রিতে সিকিউরিটি সেবা গ্রহণের অন্যতম সফটওয়্যার অ্যাভিরা। এটিকে বলা হতো ইন্টারনেটের সবচেয়ে সহজবোধ্য নিরাপত্তা অ্যাপ্লিকেশন। প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাস সুবিধা ছাড়াও পুরো নেটওয়ার্ক স্ক্যান করে দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেটি ঠিক করার ক্ষমতাও আছে এর। এমনকি নিরাপদে ব্রাউজিং ও কেনাকাটার সুবিধা পাওয়া যাবে এতে। এ ছাড়া আছে প্রতি মাসে ৫০০ মেগাবাইট পর্যন্ত ভিপিএন ব্যবহারের সুবিধা, পাসওয়ার্ড ম্যানেজার এবং প্রাইভেসি সেটিং ম্যানেজার।

তবে এর সবচেয়ে ইতিবাচক ফিচার হয়তো প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন ফিচার ইনস্টলের সুযোগ। স্যুটে কোন ফিচারগুলো চালু থাকবে সে সিদ্ধান্ত পুরোটাই ব্যবহারকারীর হাতে থাকবে। তবে সবকিছু ভালো যেখানে সেখানে একটু মন্দ তো থাকেই আর এ অ্যাপ্লিকেশনের সীমাবদ্ধতা হলো এতে কোনো অ্যান্টি-র‌্যানসমওয়্যার নেই।

এভিজি অ্যান্টিভাইরাস ফ্রি

এভিজি অ্যান্টিভাইরাসের দুটি ভার্সন রয়েছে। একটি ফ্রি এবং অপরটি পেইড এভিজি ভার্সন। ফ্রি এভিজি ভার্সন ভাইরাস, স্পাইওয়্যার এবং অন্যান্য ক্ষতিকর সফটওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারকে সংক্রমিত হওয়া থেকে রক্ষা করে। উপরন্তু ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে যদি আপনি অনিরাপদ কোনো ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেস করার চেষ্টা করেন, যা আপনার পিসির ক্ষতি করতে পারে। এ টুল অফার করে ই-মেইল প্রটেকশন সুবিধা এবং এটি সম্ভাব্য মারাত্মক ই-মেইল অ্যাটাচমেন্টকে ব্লক করবে। এভিজি দ্রুতগতিতে এবং নীরবে ব্যাকগ্রাউন্ডে স্ক্যান পারফরম করে, ফলে বুঝতে পারবেন না যে এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করছে। পেইড ভার্সন বাড়তি ফিচার অফার করে, যেমন র‌্যানসামওয়্যার, ফাইল এনক্রিপশন, ফায়ারওয়াল প্রভৃতি থেকে রক্ষা করে। এভিজি অ্যান্টিভাইরাস ফ্রি হলেও ব্যবহারকারীদের কিঞ্চিত মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। নিয়মিত নোটিফিকেশন দেবে সফটওয়্যারটি। মাঝে মাঝে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবহারকারী ইতিবাচক কাজের প্রশংসাও করবে এ সফটওয়্যার।

বিটডিফেন্ডার অ্যান্টিভাইরাস

‘শক্তিশালী কিন্তু নীরব’ অ্যান্টিভাইরাস বলা হয় বিটডিফেন্ডারকে। ইনস্টল করার পর ব্যবহারকারীকে কোনো প্রশ্নও করে না। চুপচাপ ভাইরাস/ম্যালওয়্যারের খোঁজ করে এটি। এ ছাড়াও বিভিন্ন অ্যাপের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখে বিটডিফেন্ডার। বিপজ্জনক লিংক চিহ্নিত করতে সব ওয়েব লিংক স্ক্যান করে এ সফটওয়্যার। আর প্রতিবার পিসি চালু করার সময় বুট স্ক্যান বুস্ট করে এটি। বিজ্ঞাপনের ঝামেলাও নেই এতে। ইউজার ফ্রেন্ডলি আর সহজবোধ্য ইন্টারফেস থাকলেও, সম্ভবত এর একমাত্র নেতিবাচক দিক হচ্ছে ‘অপশন’ বা ‘সেটিংস’ ফিচার এর অনুপস্থিতি।

সর্বাধিক প্রচলিত বিটডিফেন্ডার ইন্টারনেট সিকিউরিটি একসঙ্গে ১০টি বা এর অধিক কম্পিউটারের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ সিকিউরিটি দিতে পারে। ১ গিগাহার্জ প্রসেসর আর ১.৫ জিবি র‌্যাম থাকলেই আপনি চালাতে পারেন বিটডিফেন্ডার।

স্পাইবট সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়

ম্যালওয়্যার যুদ্ধের পুরনো যোদ্ধা স্পাইবট সার্চ অ্যান্ড ডেস্ট্রয়। এ সফটওয়্যারটি ভাইরাস স্ক্যান করে না বরং ডিভাইসে অ্যাডওয়্যার, ম্যালওয়্যার ও স্পাইওয়্যার খোঁজে। এটা যত না সিস্টেম প্রটেকশন টুল, তার থেকে বেশি সিস্টেম রিপেয়ার টুল। তবে এটি ডাউনলোড করার সময় সাবধান থাকতে হবে ব্যবহারকারীকে। কেননা ইতোমধ্যেই এর নকল সংস্করণ বেরিয়েছে।

এ ছাড়া ভিপিএন ব্যবহার করেও ম্যালওয়্যার সংক্রমণ ঝুঁকি কমানো যায় অনেকাংশে। তবুও ডিভাইসের নিরাপত্তা ব্যবহারকারীর হাতেই। ব্যক্তিগত সচেতনতাই সবচেয়ে সহজ উপায় ম্যালওয়্যার আক্রমণ রোধে। অ্যান্টিভাইরাস বা অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার টুল ব্যবহার করলে ঝুঁকির শঙ্কা অনেকাংশেই কম বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন