শিশুদের জন্য শামীমের নিরাপদ প্ল্যাটফরম বেবিটিউব
jugantor
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা
শিশুদের জন্য শামীমের নিরাপদ প্ল্যাটফরম বেবিটিউব

  সাইফ আহমাদ  

০৪ আগস্ট ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুদের জন্য শামীমের নিরাপদ প্ল্যাটফরম বেবিটিউব

শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ‘বেবিটিউব’ চালু করেছে তরুণ উদ্যোক্তা শামীম আশরাফ। ২০২০ সাল থেকে এ প্ল্যাটফরমটি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এ ছাড়াও বর্তমানে কাজ করছেন বেবিনিউজ নামে অনলাইন পোর্টাল নিয়ে। এ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। আজকের আয়োজনে এরই বিস্তারিত লিখেছেন- সাইফ আহমাদ

ছোটবেলা থেকেই একাকী পরিবেশে বড় হয়েছেন শামীম। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নিজ গ্রামে পড়াশোনা করে সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে বিএসএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমএসএস প্রিলি সম্পূর্ণ করেন তিনি। ড্রিম ডিভাইজার সংগঠনে কাজ করার মাধ্যমে সহশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিকেশনস, টেকনোলজি এসবের উপরে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের জন্য প্রযুক্তিকে কিভাবে আরও কল্যাণকর করা যায় সে চেষ্টা ছিল সবসময়। ২০২০-এর শুরুতে ‘মেন্টর মশাই’ নিয়ে কাজ করার সময় লক্ষ্য করেন অনেক শিশু-কিশোর ইন্টারনেটে যুক্ত। তারা ভিডিও দেখে বেশি। সেখান থেকে বাচ্চাদের জন্য আলাদা একটি ভিডিও প্ল্যাটফরম তৈরি করার ভাবনা আসে।

বেবিটিউবের শুরু : শামীম আশরাফ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলছে। শিশুরাও ইন্টারনেটের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর এবং অভিভাবকদের নিয়ে গবেষণা করে তাদের চাহিদা দেখেছি। যেহেতু তারা ইউটিউবে ভিডিও দেখে আর ইউটিউবে অনেক অ্যাডাল্ট কনটেন্ট থাকে যা শিশু-কিশোরদের জন্য অনুপযোগী। এসব দেখে খারাপ দিকে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাই ২০২০-এর শেষের দিকে সহপ্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদকে নিয়ে শুরু করি সম্পূর্ণ শিশু উপযোগী অ্যাপভিত্তিক ওয়েবসাইট বেবিটিউব।

যেভাবে পাওয়া যাবে : গুগল প্লেস্টোর থেকে বেবিটিউব অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে সহজেই। এ ছাড়া নধনু-ঃঁনব.পড়স-এ ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জানা যাবে। বেবিটিউবে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ, মজাদার এবং শিক্ষণীয় ভিডিও শেয়ার করার সুযোগ তৈরি করেছে। অ্যাপের পাশাপাশি সেবা পাওয়া যাবে বেবিটিউবের ওয়েবসাইটেও। বেবিটিউবে ইতোমধ্যে ছয়শর অধিক ভিডিও কনটেন্ট রয়েছে। একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে খেলাধুলা, কার্টুন, পড়াশোনা, মুভি, নাটক, গেম, গান, গজল, ট্রাভেল, ব্লগ, টেকনোলজিসহ শিশু-কিশোরনির্ভর সব ধরনের কনটেন্ট।

রয়েছে উপার্জনের সুযোগ : এ অ্যাপে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে আপলোড করা যাবে। শর্ত একটাই, কনটেন্ট হতে হবে শিশু-কিশোরভিত্তিক। বেবিটিউবে সহজ শর্তে মনিটাইজেশন সিস্টেম আছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য। যারা শিশুতোষ কনটেন্ট আপলোড করবে তারা বেবিটিউব থেকে মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আয়েরও সুযোগ পাবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : প্রতিটি শিশু-কিশোর প্রযুক্তির দুনিয়ায় সুস্থ থাকুক। সে সুস্থতা নিশ্চিত হোক বেবিটিউবের মাধ্যমে। অভিভাবকরা যেন নিশ্চিন্তে সন্তানদের হাতে মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো দিতে পারে এবং দেশের প্রতিটি শিশু-কিশোর নিরাপদ ইন্টারনেটের আওতায় আনা আমাদের পরিকল্পনা বলছিলেন শামীম। শিশু-কিশোরদের জন্য একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বেবিনিউজ নিয়ে কাজ করছি।

ইতিকথা : আমরা সবাই ইউটিউবসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছি। কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে যদি সবাই সহযোগিতা করি তাহলেই আমাদের দেশ থেকে ভালো কিছু করা সম্ভব। স্বপ্ন দেখি একদিন বেবিটিউব দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরের দেশের শিশু-কিশোররা ব্যবহার করবে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা

শিশুদের জন্য শামীমের নিরাপদ প্ল্যাটফরম বেবিটিউব

 সাইফ আহমাদ 
০৪ আগস্ট ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
শিশুদের জন্য শামীমের নিরাপদ প্ল্যাটফরম বেবিটিউব
ছবি: সংগৃহীত

শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ‘বেবিটিউব’ চালু করেছে তরুণ উদ্যোক্তা শামীম আশরাফ। ২০২০ সাল থেকে এ প্ল্যাটফরমটি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এ ছাড়াও বর্তমানে কাজ করছেন বেবিনিউজ নামে অনলাইন পোর্টাল নিয়ে। এ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কথা বলেছেন যুগান্তরের সঙ্গে। আজকের আয়োজনে এরই বিস্তারিত লিখেছেন- সাইফ আহমাদ

ছোটবেলা থেকেই একাকী পরিবেশে বড় হয়েছেন শামীম। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নিজ গ্রামে পড়াশোনা করে সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে বিএসএস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমএসএস প্রিলি সম্পূর্ণ করেন তিনি। ড্রিম ডিভাইজার সংগঠনে কাজ করার মাধ্যমে সহশিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কমিউনিকেশনস, টেকনোলজি এসবের উপরে বিভিন্ন ধরনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের জন্য প্রযুক্তিকে কিভাবে আরও কল্যাণকর করা যায় সে চেষ্টা ছিল সবসময়। ২০২০-এর শুরুতে ‘মেন্টর মশাই’ নিয়ে কাজ করার সময় লক্ষ্য করেন অনেক শিশু-কিশোর ইন্টারনেটে যুক্ত। তারা ভিডিও দেখে বেশি। সেখান থেকে বাচ্চাদের জন্য আলাদা একটি ভিডিও প্ল্যাটফরম তৈরি করার ভাবনা আসে।

বেবিটিউবের শুরু : শামীম আশরাফ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার দিনদিন বেড়েই চলছে। শিশুরাও ইন্টারনেটের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক শিশু-কিশোর এবং অভিভাবকদের নিয়ে গবেষণা করে তাদের চাহিদা দেখেছি। যেহেতু তারা ইউটিউবে ভিডিও দেখে আর ইউটিউবে অনেক অ্যাডাল্ট কনটেন্ট থাকে যা শিশু-কিশোরদের জন্য অনুপযোগী। এসব দেখে খারাপ দিকে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাই ২০২০-এর শেষের দিকে সহপ্রতিষ্ঠাতা সাজ্জাদকে নিয়ে শুরু করি সম্পূর্ণ শিশু উপযোগী অ্যাপভিত্তিক ওয়েবসাইট বেবিটিউব।

যেভাবে পাওয়া যাবে : গুগল প্লেস্টোর থেকে বেবিটিউব অ্যাপ ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে সহজেই। এ ছাড়া নধনু-ঃঁনব.পড়স-এ ওয়েবসাইট থেকে বিস্তারিত জানা যাবে। বেবিটিউবে শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ, মজাদার এবং শিক্ষণীয় ভিডিও শেয়ার করার সুযোগ তৈরি করেছে। অ্যাপের পাশাপাশি সেবা পাওয়া যাবে বেবিটিউবের ওয়েবসাইটেও। বেবিটিউবে ইতোমধ্যে ছয়শর অধিক ভিডিও কনটেন্ট রয়েছে। একসঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে খেলাধুলা, কার্টুন, পড়াশোনা, মুভি, নাটক, গেম, গান, গজল, ট্রাভেল, ব্লগ, টেকনোলজিসহ শিশু-কিশোরনির্ভর সব ধরনের কনটেন্ট।

রয়েছে উপার্জনের সুযোগ : এ অ্যাপে ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে আপলোড করা যাবে। শর্ত একটাই, কনটেন্ট হতে হবে শিশু-কিশোরভিত্তিক। বেবিটিউবে সহজ শর্তে মনিটাইজেশন সিস্টেম আছে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য। যারা শিশুতোষ কনটেন্ট আপলোড করবে তারা বেবিটিউব থেকে মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আয়েরও সুযোগ পাবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা : প্রতিটি শিশু-কিশোর প্রযুক্তির দুনিয়ায় সুস্থ থাকুক। সে সুস্থতা নিশ্চিত হোক বেবিটিউবের মাধ্যমে। অভিভাবকরা যেন নিশ্চিন্তে সন্তানদের হাতে মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইসগুলো দিতে পারে এবং দেশের প্রতিটি শিশু-কিশোর নিরাপদ ইন্টারনেটের আওতায় আনা আমাদের পরিকল্পনা বলছিলেন শামীম। শিশু-কিশোরদের জন্য একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বেবিনিউজ নিয়ে কাজ করছি।

ইতিকথা : আমরা সবাই ইউটিউবসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছি। কিন্তু দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে যদি সবাই সহযোগিতা করি তাহলেই আমাদের দেশ থেকে ভালো কিছু করা সম্ভব। স্বপ্ন দেখি একদিন বেবিটিউব দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরের দেশের শিশু-কিশোররা ব্যবহার করবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন