অর্থবিত্তে বিশ্বসেরা পাঁচ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যাপল : বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় প্রথম স্থানে অবস্থান করছে জনপ্রিয় স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। অভিজাত প্রযুক্তি পণ্যের জগতে বলা চলে অ্যাপল শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড। বর্তমানে অ্যাপলের এত সুন্দর ও বিলাসবহুল অফিস বা বিক্রয় কেন্দ্র থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিল একটি গাড়ির গ্যারেজ থেকে। অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের পারিবারিক গ্যারেজে অ্যাপল কম্পিউটারের কার্যক্রম শুরু হয়। তখন স্টিফেন গ্রে ওজনিয়াকের বয়স ছিল ২৬ এবং জবসের বয়স ছিল ২১। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছিল অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতাদের। আজ এই প্রতিষ্ঠান সফলতার শীর্ষে। অ্যাপল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনজন ব্যক্তি- স্টিভ জবস, স্টিভ উজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েইনকে অভিহিত করা হয়। অ্যাপল ইনকর্পোরেশনের সদর দফতর ক্যালির্ফোনিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে। ৮৫,০০০ বর্গফুট জায়গায় ৬টি বিল্ডিংয়ে অ্যাপলের বর্তমান সদর ১৯৯৩ সালে থেকে অবস্থান করছে। প্রতিবছর গড়ে ৮০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য বিক্রি করে মার্কিন টেক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপলের মূল উপার্জনের ৬৩ শতাংশ আসে আইফোন থেকে, ১০ শতাংশ আসে আইপ্যাড থেকে, ১১ শতাংশ আসে মেক থেকে, আরও ১১ শতাংশ আসে এর বিভিন্ন সার্ভিস যেমন আই টিউনস, আই ক্লাউডসহ অন্যান্য সার্ভিস থেকে। এ ছাড়া ৫ শতাংশ উপার্জন হয়ে থাকে বিভিন্ন পণ্য যেমন আইপড, ইয়ারপড ইত্যাদি থেকে। এই সাফল্যের পথ খুব সহজ ছিল না অ্যাপলের জন্য। মানসম্মত ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদন করে বিশ্বে একটি প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছে এই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি অ্যাপল। আইফোন, আইপ্যাড, আইপড, ম্যাকপিসি এই পরিবারের সদস্য। ‘অ্যাপল’ বা আপেল ছিল স্টিভ জবসের প্রিয় ফল। এদিকে তার ব্যবসার ব্র্যান্ড-নেম নির্বাচনের জন্য ভালো কোনো নাম না পাওয়ায় প্রায় তিন মাস দেরি হয়ে যায় কোম্পানিটির পুরোপুরি কাজ শুরু করতে। শেষ পর্যন্ত তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, ‘অন্য সহকর্মীদের দ্বারা সেই দিনের মধ্যে একটি প্রযুক্তিনির্ভর ভালো-নাম প্রস্তাব না করা হলে ‘অ্যাপল কম্পিউটার’ নামেই তার কোম্পানির নামকরণ করা হবে। বিভিন্ন কারণবশত ভালো নাম দিতে সহকর্মীরা ব্যর্থ হওয়ায় স্টিভ জবস শেষমেশ অ্যাপলকে তাদের কোম্পানির নাম হিসেবে নির্বাচন করেন বলেই জানা যায়।

গুগল : গুগল এই শব্দটি বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের বহুল পরিচিত শব্দ। এটি শুধু একটি শব্দ নয় একটি নাম, প্রতিষ্ঠান এবং একটি ট্রেডমার্ক। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল। গুগলের শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। সেই সময় গবেষণার কাজ শুরু করেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি কোর্সের দুই ছাত্র ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন। তাদের তত্ত্ব ছিল নতুন কৌশলে কোনো একটা সার্চ ইঞ্জিন বানানো। যেটি ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে আরও ভালো ফল দেখাবে। ল্যারি পেইজ ও সের্গেই ব্রিন একে পেজ র‌্যাঙ্ক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এরপর ১৯৯৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ডোমেইনের নাম গুগল নিবন্ধন করা হয়। কর্পোরেশন হিসেবে গুগল আÍপ্রকাশ করে ১৯৯৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। অ্যাপলের মতোই এটি চালানো হতো তাদের এক বন্ধুর গ্যারেজ থেকে যার নাম ছিল সুজান ওজচিচকি। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবছর গড়ে ৬৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করে থাকে। গুগলের মূল উপার্জনের ৮৮ শতাংশই আসে ইউটিউব ও গুগল অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, ১১ শতাংশ অর্থ আসে গুগল প্লে-স্টোর ও গুগল পিক্সেল ফোন থেকে ও ১ শতাংশ আসে বিভিন্ন পার্টনার প্রোগ্রাম থেকে। এর প্রধান কার্যালয় ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্ট ভিউতে অবস্থিত। গুগলের মূলমন্ত্র ‘বিশ্বের তথ্য সন্নিবেশিত করে তাকে সবার জন্য সহজলভ্য করে দেয়া।’

মাইক্রোসফট : যারা অন্তত একবার হলেও কম্পিউটার ব্যবহার করেছেন তারাই যেনে থাকবেন এই মাইক্রোসফট নামটি। কেন না প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত কম্পিউটার, অফিস, ল্যাপটপ এটিএম বুথসহ নানা ক্ষেত্রে। এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসকে বলা হয় প্রযুক্তি খাতের জীবন্ত কিংবদন্তি। মাইক্রোসফটের জনপ্রিয় সফটওয়্যারগুলো হল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ও মাইক্রোসফট অফিস। ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠিত হয়। দুই বন্ধু- ১৯ বছর বয়সী বিল গেটস আর ২২ বছর বয়সী পল অ্যালেনের হাত ধরে যাত্রা শুরু ‘মাইক্রো-সফট’ নাম নিয়ে। ছোট একটি রুমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু করেন। যে বিল্ডিংটির একটি রুম তারা ভাড়া নিয়েছিলেন পরবর্তী সময়ে সে বিল্ডিংয়ের পুরোটাই কিনে নেয় মাইক্রোসফট। বর্তমানে বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় তৃতীয় বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক আয় ৫৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাইক্রোসফটের আয়ের মূল উৎসের ২৮ শতাংশ আসে এমএস অফিস থেকে, ২২ শতাংশ উপার্জন হয় মাইক্রোসফট সার্ভার থেকে, ১১ শতাংশ এক্স বাক্স থেকে, ৯ শতাংশ উইন্ডোজ থেকে, ৭ শতাংশ আসে মাইক্রোসফটের নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন ‘বিং’ থেকে, ৫ শতাংশ আসে মাইক্রোসফট সার্ফেস থেকে এবং বাকি ১৮ শতাংশ উপার্জিত হয় বিভিন্ন পার্টনার ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে। মাইক্রোসফটের প্রারম্ভিক ঠিকানা ছিল ‘৮১৯ টু পার্ক সেন্ট্রাল টাওয়ার, অ্যালবাকুয়েরকিউ, নিউমেক্সিকো ৮৭১০৮’। বর্তমানে এটির সদর দফতর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের রেডমন্ড শহরে অবস্থিত।

অ্যামাজন : বিশ্বের চতুর্থ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হল পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বড় অনলাইন ওয়েবসাইট অ্যামাজন। বর্তমান সময়ে ই-কমার্স খাতে সবচেয়ে চেনা নাম অ্যামাজন। বিশ্ব মাতানো এই সাইটের পেছনে কাজ করছেন জেফ বেজোস। নিউইয়র্কে চাকরিরত অবস্থায় বসের ওপর রাগ করে চাকরি ছেড়ে দিয়ে আমেরিকা ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন জেফ বেজোস। আর ১৯৯৪ সালে শুরু করেন ই-কমার্স সাইট অ্যামাজন। যখন অ্যামাজন শুরু হয় সেটা ছোট একটা বইয়ের দোকান ছিল কিন্তু তফাৎ ছিল একটা জায়গায় সেটা হচ্ছে- এটা ছিল অনলাইন বইয়ের দোকান। আর এখন এটা মাল্টি বিলয়ন সেল করছে হাজার হাজার প্রোডাক্ট সারা পৃথিবীতে। অ্যামাজনের এরকম সফলতার পেছনে অনেক কিছুর সঙ্গে একটা ব্যাপার যেটা আমাকে অনেক মুগ্ধ করে সেটা হচ্ছে এদের লোগো। সারা পৃথিবীর মানুষ একবার এই লোগো দেখলেই বুঝতে পারে এটা অ্যামাজনের লোগো। এটায় কোনো সন্দেহ না যে লোগো অনেক ভালো কাজ করে। আর সাধারণ ডিজাইনের মধ্যে সুন্দর একটা মেসেজ যে এখানে অ-ত সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে এবং সবাই খুশি হয়ে সেটা কিনছে এটা অনেক সুন্দর একটা ব্যাপার। এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবছরের উপার্জন ৫৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অ্যামাজনের আয়ের ৭২ শতাংশই হচ্ছে অ্যামাজনের অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট এবং ১৮ শতাংশ উপার্জন হয়ে থাকে অ্যামাজনের মিডিয়া প্লাটফর্ম অ্যামাজন প্রাইম থেকে। এ ছাড়া ৯ শতাংশ আসে ওয়েব সার্ভিসেস থেকে ও অন্যান্য দিক থেকে ১ শতাংশ আয় হয়। শুরুতে শুধু বই বিক্রি করতেন। সে সময় অ্যামাজনের ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ছিল ৪০০ বর্গফুটের একটা গ্যারেজে। আর ২০১০-এ এসে তা দাঁড়ায় ২ কোটি ৬০ লাখ বর্গফুটে। বর্তমানে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউজের আকার ১০টি ফুটবল মাঠের সমান বড়। ‘অ্যামাজন ডটকম’ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর বর্তমান কর্মী সংখ্যা ১৭৭৩০০ জন।

ফেসবুক : প্রযুক্তিপ্রিয় মানুষ, কিন্তু সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট নেই, এমন আর কাউকে এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বলা যায় ঘুম ছাড়া ফেসবুক আমাদের সব সময়ের সঙ্গী। তালিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুককে পঞ্চম স্থানে ধরা হলেও ফেসবুকের জনপ্রিয়তা সবার শীর্ষেই বলা যায়। মার্ক জাকারবার্গের হাতে জন্ম নেয় বহুল আলোচিত এই ফেসবুক। তিনি ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর সব নির্দেশনা এবং কর্মকৌশল তিনিই প্রথম তৈরি করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়ক ‘কোর্সম্যাচ’ নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করেন। এরপর তৈরি করেন ‘ফেসম্যাশ’ নামে আরেকটি সফটওয়্যার। পরবর্তীকালে শিক্ষার্থীদের নাম, ঠিকানা, ছবি ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্যসংবলিত একটি ওয়েবসাইট তৈরির পরিকল্পনা করেন মার্ক জাকারবার্গ। এ পরিকল্পনা থেকেই তার হাতে জন্ম নেয় পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বৃহত্তম সামাজিক যোগাযোগের সাইট ‘ফেসবুক’। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবছর আয় হয় ৪৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ফেসবুকের ৯৭ শতাংশ উপার্জন হয়ে থাকে ফেসবুক অ্যাভারটাইজমেন্ট থেকে এবং বাকি ৩ শতাংশ উপার্জন হয় অন্যান্য মাধ্যম থেকে। বহুল ব্যবহারিত এই ওয়েবসাইটটির মালিকানা মার্ক জাকারবার্গ-২৪%, এক্সেল পার্টনার-১০%, ডিজিটাল স্কাই টেকনোলজিস-১০%, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ-৬%, এডোয়ার্ডো স্যাভেরিন-৫%, শন পার্কার-৪%, মাইক্রোসফট-১.৫%, কর্মচারী, বিভিন্ন তারকা (নাম অপ্রকাশিত) এবং বহির্ভূত মালিকান-৩০%, অন্যান্য-৯.৫%। বর্তমান বিশ্বের সামাজিক যোগাযোগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক। এ ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কে এখন যুক্ত রয়েছে বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী রয়েছে এশিয়া মহাদেশে। আর দেশ হিসেবে ব্রাজিল হল সবচেয়ে বেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী দেশ।

-সাইফুল সাইফ

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.