প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাবে ক্রিকেট
jugantor
স্মার্ট বল
প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাবে ক্রিকেট

  তানভীর তানিম  

২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাবে ক্রিকেট

ক্রিকেটকে বলা হয় দ্য জেন্টলম্যানস গেম। খেলাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত আধুনিক হয়েছে। হট স্পট, এলইডি লাইড, স্পাইডার ক্যাম, সুপার শসপার, হক আই, আল্ট্রা এজ প্রযুক্তি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ক্রিকেট খেলার অপরিহার্য অংশ বলটিই যে আর সাধারণ থাকছে না! এতে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাইক্রোচিপ। বিশেষজ্ঞরা যার নাম দিয়েছেন স্মার্ট বল। আজকের যুগান্তরের আয়োজনে স্মার্ট বল নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- তানভীর তানিম

স্মার্ট ক্রিকেট বল কী?

কোকাবুরার তৈরি স্মার্ট বল দেখতে, ধরতে এবং খেলতে অন্যান্য সাধারণ বলের মতোই। তবে ব্যতিক্রম হিসাবে এতে থাকছে ক্ষুদ্র মাইক্রোচিপের সংযোজন। যার মাধ্যমে রাডার বা বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তির চেয়ে অনেক বেশি ডেটা সংগ্রহ করা সম্ভব। মাইক্রোচিপটি বলের ভেতরের স্তরে বসানো থাকে। আর বাইরের দিকে অন্যান্য ক্রিকেট বলের মতোই এটি চামড়ায় আবৃত থাকে।

স্মার্ট বলের অনন্য বৈশিষ্ট্য

আগেই বলা হয়েছে, অনন্য বৈশিষ্ট্যের এ বলটিতে মাইক্রোচিপের একটা নিখুত সংযোগ থাকে। যা বল থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে সার্ভারে প্রেরণ করে এবং প্রাপ্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে অর্থাৎ তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে প্রদর্শিত হয়। বোলারের হাত থেকে উইকেটরক্ষক, ফিল্ডার এমনকি বাউন্ডারি লাইন অর্থাৎ যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে বলের গতি এবং এর তারতম্য এই স্মার্ট বলের সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। এ ছাড়া এটি বাউন্স, সুইং, ড্রিফট এবং ডিপের সঠিক মাত্রা পরিমাপ করতে সক্ষম। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টেস্ট খেলোয়াড় থেকে শুরু করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী জুনিয়র ক্রিকেটার যারা তাদের বোলিংয়ে উন্নতি করতে চায় তাদের সুবার জন্য স্মার্ট বলটি হবে খুবই সহায়ক। বলটি একটি অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এর অর্থ এটি যে কোনো খেলোয়াড়ের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্মার্ট বল যেসব ডেটা গ্রহণ করে

বোলার বা ফিল্ডার কর্তৃক বল থ্রোয়িংয়ের সময়কার বলের গতি এবং প্রতি মুহূর্তে এর পরিবর্তন (হাত থেকে ছুড়ে মারার মুহূর্তে) বাউন্সের আগ মুহূর্তে এর গতি এবং গতির পরিবর্তন (এটি পিচ আঘাত করার ঠিক আগ মুহূর্তে) বাউন্সের পরের গতি (বলটি পিচে হিট হওয়ার ঠিক পরে) একটানা ৩০ ঘণ্টা বলটি ব্যবহার করা সম্ভব। এ ছাড়া এটি গড়ে ১৫০ কি.মি./ঘণ্টাতে ৩০০+ প্রভাব শনাক্ত করতে পারে এবং কোনো চাপ বা দৃশ্যমান ক্ষতি ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০০ কি.মি./ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে।

সাধারণ বল থেকে কতটা আলাদা?

স্মার্ট বল এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যাতে এটি একটি সাধারণ বলের আকার, ওজন এবং বাউন্সের একই রেঞ্জের সঙ্গে খাপ খায়। নির্মাতা কোম্পানি কোকাবুরার জেনারেল ম্যানেজার ডেভিড অর্চার্ড বলেন, স্মার্ট বল অন্যান্য সাধারণ বলের মতো কাজ করে। সেই সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তির সাহায্যে এটি থ্রো, প্রি-বাউন্স এবং ডেলিভারির সময় বাউন্স অনুযায়ী আচরণ পরিমাপ করে। অন্যদিকে এর নির্মাতারা দাবি করেছেন, এই বল এবং এর মধ্যকার ইলেকট্রনিক চিপ ক্রিকেট ব্যাটের নিয়মিত আঘাত সামলাতে সক্ষম। তাদের ভাষায়, আমরা নেটে বাদুড় দিয়ে পরীক্ষা করেছি এবং দেখেছি যে, এটি ১৫০ কি.মি./ঘণ্টা এর উপরের প্রভাবগুলোও শনাক্ত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কবে আসবে?

স্মার্ট বল এখনো পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে যাওয়ার জন্য একে এখনো পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া এটি নিয়ে প্রাথমিক যে উদ্বেগ রয়েছে তা হলো, এটি ঠিক কতটা পরিমাণ পানি প্রতিরোধী হবে এবং টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ সময়ের ম্যাচে এটি কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার কিছু ক্রিকেটার দ্বারা বলটির ট্রায়াল এবং পরীক্ষা করা হয়েছে। তারপরও বলা যায়, এর ফলে বলটির সম্পূর্ণ সামর্থ্য উপলব্ধি করা হয়নি কিংবা সর্বোচ্চ ডেটা সংগ্রহ করা হয়নি।

স্মার্ট বল

প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাবে ক্রিকেট

 তানভীর তানিম 
২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
প্রযুক্তির স্পর্শে বদলে যাবে ক্রিকেট
ফাইল ছবি

ক্রিকেটকে বলা হয় দ্য জেন্টলম্যানস গেম। খেলাটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিনিয়ত আধুনিক হয়েছে। হট স্পট, এলইডি লাইড, স্পাইডার ক্যাম, সুপার শসপার, হক আই, আল্ট্রা এজ প্রযুক্তি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ক্রিকেট খেলার অপরিহার্য অংশ বলটিই যে আর সাধারণ থাকছে না! এতে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাইক্রোচিপ। বিশেষজ্ঞরা যার নাম দিয়েছেন স্মার্ট বল। আজকের যুগান্তরের আয়োজনে স্মার্ট বল নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন- তানভীর তানিম

স্মার্ট ক্রিকেট বল কী?

কোকাবুরার তৈরি স্মার্ট বল দেখতে, ধরতে এবং খেলতে অন্যান্য সাধারণ বলের মতোই। তবে ব্যতিক্রম হিসাবে এতে থাকছে ক্ষুদ্র মাইক্রোচিপের সংযোজন। যার মাধ্যমে রাডার বা বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তির চেয়ে অনেক বেশি ডেটা সংগ্রহ করা সম্ভব। মাইক্রোচিপটি বলের ভেতরের স্তরে বসানো থাকে। আর বাইরের দিকে অন্যান্য ক্রিকেট বলের মতোই এটি চামড়ায় আবৃত থাকে।

স্মার্ট বলের অনন্য বৈশিষ্ট্য

আগেই বলা হয়েছে, অনন্য বৈশিষ্ট্যের এ বলটিতে মাইক্রোচিপের একটা নিখুত সংযোগ থাকে। যা বল থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে সার্ভারে প্রেরণ করে এবং প্রাপ্ত তথ্য রিয়েল-টাইমে অর্থাৎ তৎক্ষণাৎ দর্শকদের সামনে প্রদর্শিত হয়। বোলারের হাত থেকে উইকেটরক্ষক, ফিল্ডার এমনকি বাউন্ডারি লাইন অর্থাৎ যাত্রার বিভিন্ন পর্যায়ে বলের গতি এবং এর তারতম্য এই স্মার্ট বলের সাহায্যে পরিমাপ করা যায়। এ ছাড়া এটি বাউন্স, সুইং, ড্রিফট এবং ডিপের সঠিক মাত্রা পরিমাপ করতে সক্ষম। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, টেস্ট খেলোয়াড় থেকে শুরু করে উচ্চাকাঙ্ক্ষী জুনিয়র ক্রিকেটার যারা তাদের বোলিংয়ে উন্নতি করতে চায় তাদের সুবার জন্য স্মার্ট বলটি হবে খুবই সহায়ক। বলটি একটি অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এর অর্থ এটি যে কোনো খেলোয়াড়ের প্রশিক্ষণে ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্মার্ট বল যেসব ডেটা গ্রহণ করে

বোলার বা ফিল্ডার কর্তৃক বল থ্রোয়িংয়ের সময়কার বলের গতি এবং প্রতি মুহূর্তে এর পরিবর্তন (হাত থেকে ছুড়ে মারার মুহূর্তে) বাউন্সের আগ মুহূর্তে এর গতি এবং গতির পরিবর্তন (এটি পিচ আঘাত করার ঠিক আগ মুহূর্তে) বাউন্সের পরের গতি (বলটি পিচে হিট হওয়ার ঠিক পরে) একটানা ৩০ ঘণ্টা বলটি ব্যবহার করা সম্ভব। এ ছাড়া এটি গড়ে ১৫০ কি.মি./ঘণ্টাতে ৩০০+ প্রভাব শনাক্ত করতে পারে এবং কোনো চাপ বা দৃশ্যমান ক্ষতি ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০০ কি.মি./ঘণ্টা গতিতে চলতে পারে।

সাধারণ বল থেকে কতটা আলাদা?

স্মার্ট বল এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। যাতে এটি একটি সাধারণ বলের আকার, ওজন এবং বাউন্সের একই রেঞ্জের সঙ্গে খাপ খায়। নির্মাতা কোম্পানি কোকাবুরার জেনারেল ম্যানেজার ডেভিড অর্চার্ড বলেন, স্মার্ট বল অন্যান্য সাধারণ বলের মতো কাজ করে। সেই সঙ্গে নিজস্ব প্রযুক্তির সাহায্যে এটি থ্রো, প্রি-বাউন্স এবং ডেলিভারির সময় বাউন্স অনুযায়ী আচরণ পরিমাপ করে। অন্যদিকে এর নির্মাতারা দাবি করেছেন, এই বল এবং এর মধ্যকার ইলেকট্রনিক চিপ ক্রিকেট ব্যাটের নিয়মিত আঘাত সামলাতে সক্ষম। তাদের ভাষায়, আমরা নেটে বাদুড় দিয়ে পরীক্ষা করেছি এবং দেখেছি যে, এটি ১৫০ কি.মি./ঘণ্টা এর উপরের প্রভাবগুলোও শনাক্ত করতে পারে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কবে আসবে?

স্মার্ট বল এখনো পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচে যাওয়ার জন্য একে এখনো পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ ছাড়া এটি নিয়ে প্রাথমিক যে উদ্বেগ রয়েছে তা হলো, এটি ঠিক কতটা পরিমাণ পানি প্রতিরোধী হবে এবং টেস্ট ক্রিকেটের মতো দীর্ঘ সময়ের ম্যাচে এটি কতক্ষণ স্থায়ী হতে পারে। যদিও অস্ট্রেলিয়ার কিছু ক্রিকেটার দ্বারা বলটির ট্রায়াল এবং পরীক্ষা করা হয়েছে। তারপরও বলা যায়, এর ফলে বলটির সম্পূর্ণ সামর্থ্য উপলব্ধি করা হয়নি কিংবা সর্বোচ্চ ডেটা সংগ্রহ করা হয়নি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন