বছরে জমছে ৩০ হাজার টন ই-বর্জ্য
jugantor
বিটকয়েন মাইনিং
বছরে জমছে ৩০ হাজার টন ই-বর্জ্য

  আইটি ডেস্ক  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন মাইনিং থেকে বছরে প্রায় ৩০ হাজার সাতশ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) উৎপন্ন হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্যমতে-বছরে ৩০ হাজার সাতশ টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে বিটকয়েন মাইনিং থেকে যা নেদারল্যান্ডসের মতো একটি দেশ থেকে উৎপন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের গোটা বছরে তৈরি হওয়া বর্জ্যরে সমপরিমাণ।

সম্প্রতি ‘রিসার্চ, কনসার্ভেশন অ্যান্ড রিসাইক্লিং’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, প্রতিটি বিটকয়েন লেনদেন ২৭২ গ্রাম ই-বর্জ্য তৈরি করে। এর তুলনায় একটি আইফোন ১৩’র ওজন ১৭৩ গ্রাম।

বিটকয়েন লেনদেন যাচাই-বাছাই ও লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হন মাইনাররা। এ কাজে যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়, সেটা নিয়ে বিতর্ক চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করছে এই খাত থেকে উৎপাদিত ই-বর্জ্য।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিটকয়েন মাইনিংয়ের পেছনে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়, তা ফিলিপাইনের মতো একটি দেশের বাৎসরিক বিদ্যুৎ খরচের চেয়ে বেশি। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত গ্রিনহাউজ গ্যাসের বিষয়টিও যোগ হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সার্বিক বিতর্কে।

অন্যদিকে দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায় বিটকয়েন মাইনিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার। গবেষকদের অনুমান, মাইনিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ডিভাইসের গড় আয়ু ১.২৯ বছর। অর্থাৎ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় ক্রিপ্টোমাইনিংয়ের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার হার্ডওয়্যার।

এর ফলে যে ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে তা নেদারল্যান্ডসের মতো একটি দেশের বাৎসরিক ‘ছোট আইটি এবং টেলিকমিউনিকেশন’ বর্জ্যরে সঙ্গে তুলনীয় বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা। ই-বর্জ্যরে এই শ্রেণিতে পড়ে মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার, প্রিন্টারের মতো ব্যবহারের অযোগ্য প্রযুক্তি পণ্যগুলো।

উৎপাদন ব্যয় বিচারে বিটকয়েন মাইনিংয়ে সবচেয়ে বেশি খরচ বিদ্যুৎ বিলের পেছনে। তাই মাইনারদের কাছে কদর বেড়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বিশেষায়িত প্রসেসরের। ‘অ্যাপ্লিকেশন-স্পেসিফিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (এএসআইসি)’-এর দিকে ঝুঁকেছেন মাইনারদের একটা বড় অংশ।

পুরো বিশ্বে যত ইলেকট্রনিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তার মধ্যে কেবল ১৭ শতাংশ পুনঃব্যবহারযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। তবে ওই একই প্রতিবেদন বলছে, বিটকয়েন মাইনারদের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। বেশিরভাগ মাইনার যেসব দেশের নাগরিক, সেই দেশগুলোতে ই-বর্জ্য পুনঃব্যবহারের হার আরও কম হতে পারে। ওই দেশগুলোতে যথাযথ নীতিমালার অনুপস্থিতি বা প্রায়োগিক দুর্বলতাও সার্বিক বিতর্কের আরেকটি শাখা। এ বিপুল ওজনের ই-বর্জ্য সমস্যার সমাধানে বিটকয়েন লেনদেন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিকল্প পন্থা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

বিটকয়েন মাইনিং

বছরে জমছে ৩০ হাজার টন ই-বর্জ্য

 আইটি ডেস্ক 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন মাইনিং থেকে বছরে প্রায় ৩০ হাজার সাতশ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) উৎপন্ন হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্যমতে-বছরে ৩০ হাজার সাতশ টন ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে বিটকয়েন মাইনিং থেকে যা নেদারল্যান্ডসের মতো একটি দেশ থেকে উৎপন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জামের গোটা বছরে তৈরি হওয়া বর্জ্যরে সমপরিমাণ।

সম্প্রতি ‘রিসার্চ, কনসার্ভেশন অ্যান্ড রিসাইক্লিং’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, প্রতিটি বিটকয়েন লেনদেন ২৭২ গ্রাম ই-বর্জ্য তৈরি করে। এর তুলনায় একটি আইফোন ১৩’র ওজন ১৭৩ গ্রাম।

বিটকয়েন লেনদেন যাচাই-বাছাই ও লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হন মাইনাররা। এ কাজে যে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়, সেটা নিয়ে বিতর্ক চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। ক্রিপ্টোকারেন্সি বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করছে এই খাত থেকে উৎপাদিত ই-বর্জ্য।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিটকয়েন মাইনিংয়ের পেছনে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়, তা ফিলিপাইনের মতো একটি দেশের বাৎসরিক বিদ্যুৎ খরচের চেয়ে বেশি। আর বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত গ্রিনহাউজ গ্যাসের বিষয়টিও যোগ হচ্ছে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে সার্বিক বিতর্কে।

অন্যদিকে দ্রুত কার্যক্ষমতা হারায় বিটকয়েন মাইনিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হার্ডওয়্যার। গবেষকদের অনুমান, মাইনিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ডিভাইসের গড় আয়ু ১.২৯ বছর। অর্থাৎ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় ক্রিপ্টোমাইনিংয়ের কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার হার্ডওয়্যার।

এর ফলে যে ই-বর্জ্য তৈরি হচ্ছে তা নেদারল্যান্ডসের মতো একটি দেশের বাৎসরিক ‘ছোট আইটি এবং টেলিকমিউনিকেশন’ বর্জ্যরে সঙ্গে তুলনীয় বলে মন্তব্য করেছেন গবেষকরা। ই-বর্জ্যরে এই শ্রেণিতে পড়ে মোবাইল ফোন, ব্যক্তিগত কম্পিউটার, প্রিন্টারের মতো ব্যবহারের অযোগ্য প্রযুক্তি পণ্যগুলো।

উৎপাদন ব্যয় বিচারে বিটকয়েন মাইনিংয়ে সবচেয়ে বেশি খরচ বিদ্যুৎ বিলের পেছনে। তাই মাইনারদের কাছে কদর বেড়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বিশেষায়িত প্রসেসরের। ‘অ্যাপ্লিকেশন-স্পেসিফিক ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (এএসআইসি)’-এর দিকে ঝুঁকেছেন মাইনারদের একটা বড় অংশ।

পুরো বিশ্বে যত ইলেকট্রনিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তার মধ্যে কেবল ১৭ শতাংশ পুনঃব্যবহারযোগ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। তবে ওই একই প্রতিবেদন বলছে, বিটকয়েন মাইনারদের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। বেশিরভাগ মাইনার যেসব দেশের নাগরিক, সেই দেশগুলোতে ই-বর্জ্য পুনঃব্যবহারের হার আরও কম হতে পারে। ওই দেশগুলোতে যথাযথ নীতিমালার অনুপস্থিতি বা প্রায়োগিক দুর্বলতাও সার্বিক বিতর্কের আরেকটি শাখা। এ বিপুল ওজনের ই-বর্জ্য সমস্যার সমাধানে বিটকয়েন লেনদেন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিকল্প পন্থা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন