বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ সিগন্যাল পেয়েছে গাজীপুর ও বেতবুনিয়া স্টেশন

  সাইফুল ফয়সাল ১৩ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ সিগন্যাল পেয়েছে গাজীপুর ও বেতবুনিয়া স্টেশন

বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসিয়ে শুক্রবার মধ্যরাতে শুরু হয় লাল-সবুজের মহাকাশ অভিযান। নির্ধারিত সময়ে তা পৌঁছে যায় নিজ কক্ষপথে। মহাকাশে এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা হল।

এখন থেকে বাংলাদেশ হবে স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য। শুক্রবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৪ মিনিটে রকেট উৎক্ষেপণের আধা ঘণ্টাখানেক পর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট কাঙ্ক্ষিত জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে পৌঁছায়।

সদ্য উৎক্ষেপণ হওয়া বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট থেকে দেশের স্থানীয় গ্রাউন্ড স্টেশন গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় প্রাথমিক সিগন্যাল গ্রহণ করেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খবর ইউএনবি।

জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন, স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ বহনকারী রকেট ফ্যালকন-৯ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের ৮ মিনিটের মধ্যে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পৌঁছে যায়। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ মহাকাশে পৌঁছে দিয়ে মাত্র ৩ মিনিট পরই রকেট ফ্যালকন-৯ ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।

৩৩ মিনিটে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’ নিজস্ব কক্ষপথে পৌঁছে যায়। এরপর থেকে স্যাটেলাইটটি নিজ থেকেই কাজ শুরু করবে। এরপর বাংলাদেশ সময় ১২ মে, শনিবার ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে গাজীপুর ও বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন প্রাথমিক সিগন্যাল গ্রহণ করে।

পলক আরও বলেন, ‘কক্ষপথে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পুরোপুরি স্থাপনের জন্য আরও ১১ দিন সময় লাগবে।’ বাংলাদেশ সময় ১১ মে শুক্রবার রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। রকেট থেকে উন্মুক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু-১ এর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কথা।

সব মিলিয়ে ৩৬ হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে মহাকাশের ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে নিজস্ব অরবিটাল স্লটে স্থাপিত হবে এই কৃত্রিম উপগ্রহ। তবে অরবিটাল স্লটে স্যাটেলাইটকে বসিয়ে কাজ শুরু করতে সময় লাগবে প্রায় দুই মাস।

তখন গাজীপুরের জয়দেবপুর আর রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশন থেকেই এর নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে কক্ষপথকে চিহ্নিত করা হয় তিনভাবে। এগুলো হল লো আর্থ অরবিট (এলইও), জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিট (জিইও) এবং মিডিয়াম আর্থ অরবিট (এমইও)।

সব কাজ শেষে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ হবে ‘জিওস্টেশনারি আর্থ অরবিটের’ একটি কৃত্রিম উপগ্রহ। জিওস্টেশনারি স্যাটেলাইট হল এমন একটি কৃত্রিম উপগ্রহ যেটি নিরক্ষ রেখা বরাবর ওই কক্ষপথে থেকে পৃথিবীকে ২৪ ঘণ্টায় একবার প্রদক্ষিণ করবে। এ

ই প্রদক্ষিণ হবে পৃথিবীর আবর্তনের দিকে, অর্থাৎ পশ্চিম থেকে পূর্বে। ফলে গ্রাউন্ড স্টেশনের সাপেক্ষে উপগ্রহটি থাকবে প্রায় স্থির। এ কারণেই ‘জিওস্টেশনারি’ শব্দটি এসেছে। স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ অথবা মাইক্রোওয়েভ সংকেত আকারে গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে পাঠানো তথ্য (আপ-লিংক) গ্রহণ করবে।

ওই সংকেতকে কয়েকগুণ ‘অ্যামপ্লিফাই’ করে আবার তা ফেরত পাঠাবে (ডাউন-লিংক) পৃথিবীতে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিনকে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি দিন অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আজ আমরাও স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলাম।

প্রবেশ করলাম এক নতুন যুগে। এখন মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন হবে।’ এর আগে ১০ মে বৃহস্পতিবার উৎক্ষেপণের ৫৮ সেকেন্ড আগে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয় বঙ্গবন্ধু-১ বহনকারী ফ্যালকন-৯-এর। তবে ১১ মে দ্বিতীয় বারের প্রচেষ্টায় এর উৎক্ষেপণ সফল হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×