যেভাবে সাফল্যের চূড়ায় জাকারবার্গ
jugantor
প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব
যেভাবে সাফল্যের চূড়ায় জাকারবার্গ

  সাইফ আহমাদ  

১৬ মে ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের নাম মোটামুটি সবাই জানে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, মাত্র ২০ বছর বয়সে ফেসবুক তৈরি করেছিলেন জাকারবার্গ। এরপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাফল্যের উচ্চশিখরে উঠে আসে জাকারবার্গের নাম। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৭২ বিলিয়ন ডলার। আজকের প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বের আয়োজন মার্ক জাকারবার্গকে নিয়ে। লিখেছেন-সাইফ আহমাদ

জন্ম

১৯৮৪ সালের ১৪ মে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন এলাকাতে মনোচিকিৎসক ক্যারেন মার্ক ও দাঁতের চিকিৎসক এডওয়ার্ড জুকারবার্গের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার আরও তিন বোন রয়েছে র‌্যান্ডি, ডোনা এবং এরিএল।

শিক্ষাজীবন

আর্ডসেলি হাইস্কুলে জাকারবার্গ গ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি ফিলিপস এক্সটার একাডেমিতে স্থানান্তরিত হন। কলেজে পড়াকালীন তিনি মহাকাব্যিক কবিতার লাইন থেকে আবৃত্তি করার জন্য পরিচিত ছিলেন। ক্লাসিক সাহিত্যে বিশেষ ডিপ্লোমাও অর্জন করেছিলেন। তবে বরাবরই ঝোঁক ছিল কম্পিউটারের প্রতি। বিশ্বের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হাভার্ডে ভর্তি হন কম্পিউটার সায়েন্সে। সেখানেও তিনি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন একজন প্রোগ্রামের হিসাবে।

জুকনেট

মার্কের বয়স যখন প্রায় ১২ বছর, তখন তিনি অ্যাটারি বেসিক ব্যবহার করে একটি মেসেজিং প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন। মার্ক যার নাম দিয়েছিলেন ‘জুকনেট’। মার্কের এ জুকনেট বাবার অফিসে ব্যবহার করতেন, যাতে রুমে চিৎকার না করে একটি নতুন রোগীর নোটিশ দেওয়া যায়। মার্ক এটি পরিবারের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের জন্যও ব্যবহার করতেন। পরে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন জুকনেট।

কম্পিউটার গেমস

মার্ক অতি অল্প বয়সে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তিনি বাল্যকালে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার জন্য তৈরি করেন একটি কম্পিউটার গেম। শুধু খেলারছলে গেমটি তৈরি করেন। তার বন্ধুরা ছিল শিল্পী। তারা বিভিন্ন বিষয় আঁকাআঁকি করত। আর তিনি সেগুলোকে নিয়ে কম্পিউটার গেমের বিভিন্ন ফেচার হিসাবে এড করেন। মার্ক তার উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে থাকতে একটি এমপি থ্রি মিডিয়া প্লেয়ারও তৈরি করেছিলেন।

ফেসম্যাশ

২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ ফেসম্যাশ ডটকম নামে একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর ওই সাইটের জন্য নিজের কলেজের ডাটাবেজও হ্যাক করেছিলেন তিনি। হ্যাক করা হার্ভার্ড কলেজের ডাটাবেজ থেকে ছাত্রদের ছবি নিয়ে তা ফেসম্যাশে ব্যবহার করে ভিজিটরদের ‘হট’ অথবা ‘নট’ ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য কলেজের শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এ সাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয় জুকারবার্গ।

ফেসবুক

মূলত ওই ফেসম্যাশ ওয়েবসাইট থেকেই ফেসবুকের চিন্তা মাথায় আসে জাকারবার্গের। এরপর ২০০৪ সালে তার রুমমেট ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিৎস এবং ক্রিস হিউজেসের সাহায্য নিয়ে ফেসবুক নির্মাণ করেন। ‘দ্য ফেসবুক’ নামে নতুন সাইটটি চালুর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১২০০ জন শিক্ষার্থী এতে রেজিস্ট্রেশন করেন। প্রথমদিকে এটি শুধু হার্ভার্ড কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও দুই মাসের মাথায় আরও এটি বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। জুন মাসের মধ্যে সাইটে প্রায় দেড় লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করে এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১ মিলিয়নে। প্রথমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রোফাইল ও ছবি উপলোডের জন্য এটি ব্যবহার করা হতো।

মেটাভার্স

বর্তমানে তিনি মেটার মালিক। ফেসবুক ইনকরপোরেশনের নাম পরিবর্তন করে মেটা রাখা হয়। মেটার অধীনে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থাকবে। মূলত আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বিল্ডার বট ব্যবহার করে একটি মৌলিক ভার্চুয়াল বিশ্ব তৈরি করেছেন জাকারবার্গ।

প্রেম ও বিয়ে

ফেসম্যাশ ডটকম প্রতিষ্ঠার পর বেশ তোপের মুখে পড়েন জাকারবার্গ। সে সময় একটি পার্টিতে পরিচয় হয় তার বর্তমান স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে। ওয়াশরুমের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রিসিলার সঙ্গে কথা হয় মার্কের। কিছুক্ষণ কথা হওয়ার পর মার্ক প্রিসিলাকে বলেন, ‘শোনো আমাকে হয়তো তিনদিন পর হার্ভার্ড থেকে বের করে দেওয়া হবে, তাই ডেটে যাওয়ার জন্য আমাদের দেরি করা উচিত হবে না। প্রিসিলা আর না করতে পারেননি তাকে।’

দীর্ঘ ৯ বছর এ প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে প্রেমের পর ১৯ মে, ২০১২ দীর্ঘদিনের প্রেমকে বিয়েতে রূপান্তর করেন মার্ক। বর্তমানে এ দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

প্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব

যেভাবে সাফল্যের চূড়ায় জাকারবার্গ

 সাইফ আহমাদ 
১৬ মে ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের নাম মোটামুটি সবাই জানে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, মাত্র ২০ বছর বয়সে ফেসবুক তৈরি করেছিলেন জাকারবার্গ। এরপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে সাফল্যের উচ্চশিখরে উঠে আসে জাকারবার্গের নাম। বর্তমানে তার সম্পদের পরিমাণ ৭২ বিলিয়ন ডলার। আজকের প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বের আয়োজন মার্ক জাকারবার্গকে নিয়ে। লিখেছেন-সাইফ আহমাদ

জন্ম

১৯৮৪ সালের ১৪ মে নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন এলাকাতে মনোচিকিৎসক ক্যারেন মার্ক ও দাঁতের চিকিৎসক এডওয়ার্ড জুকারবার্গের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার আরও তিন বোন রয়েছে র‌্যান্ডি, ডোনা এবং এরিএল।

শিক্ষাজীবন

আর্ডসেলি হাইস্কুলে জাকারবার্গ গ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তিনি ফিলিপস এক্সটার একাডেমিতে স্থানান্তরিত হন। কলেজে পড়াকালীন তিনি মহাকাব্যিক কবিতার লাইন থেকে আবৃত্তি করার জন্য পরিচিত ছিলেন। ক্লাসিক সাহিত্যে বিশেষ ডিপ্লোমাও অর্জন করেছিলেন। তবে বরাবরই ঝোঁক ছিল কম্পিউটারের প্রতি। বিশ্বের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হাভার্ডে ভর্তি হন কম্পিউটার সায়েন্সে। সেখানেও তিনি অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন একজন প্রোগ্রামের হিসাবে।

জুকনেট

মার্কের বয়স যখন প্রায় ১২ বছর, তখন তিনি অ্যাটারি বেসিক ব্যবহার করে একটি মেসেজিং প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন। মার্ক যার নাম দিয়েছিলেন ‘জুকনেট’। মার্কের এ জুকনেট বাবার অফিসে ব্যবহার করতেন, যাতে রুমে চিৎকার না করে একটি নতুন রোগীর নোটিশ দেওয়া যায়। মার্ক এটি পরিবারের সঙ্গে ভাব বিনিময়ের জন্যও ব্যবহার করতেন। পরে বন্ধুদের সঙ্গে মজা করতে ব্যবহার করতে শুরু করেছিলেন জুকনেট।

কম্পিউটার গেমস

মার্ক অতি অল্প বয়সে কম্পিউটারের প্রতি আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। তিনি বাল্যকালে বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলার জন্য তৈরি করেন একটি কম্পিউটার গেম। শুধু খেলারছলে গেমটি তৈরি করেন। তার বন্ধুরা ছিল শিল্পী। তারা বিভিন্ন বিষয় আঁকাআঁকি করত। আর তিনি সেগুলোকে নিয়ে কম্পিউটার গেমের বিভিন্ন ফেচার হিসাবে এড করেন। মার্ক তার উচ্চমাধ্যমিক স্কুলে থাকতে একটি এমপি থ্রি মিডিয়া প্লেয়ারও তৈরি করেছিলেন।

ফেসম্যাশ

২০০৩ সালের ২৮ অক্টোবর মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ ফেসম্যাশ ডটকম নামে একটি ওয়েবসাইট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আর ওই সাইটের জন্য নিজের কলেজের ডাটাবেজও হ্যাক করেছিলেন তিনি। হ্যাক করা হার্ভার্ড কলেজের ডাটাবেজ থেকে ছাত্রদের ছবি নিয়ে তা ফেসম্যাশে ব্যবহার করে ভিজিটরদের ‘হট’ অথবা ‘নট’ ভোটিংয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। পরে অবশ্য কলেজের শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এ সাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয় জুকারবার্গ।

ফেসবুক

মূলত ওই ফেসম্যাশ ওয়েবসাইট থেকেই ফেসবুকের চিন্তা মাথায় আসে জাকারবার্গের। এরপর ২০০৪ সালে তার রুমমেট ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ের ছাত্র এডওয়ার্ডো সেভারিন, ডাস্টিন মস্কোভিৎস এবং ক্রিস হিউজেসের সাহায্য নিয়ে ফেসবুক নির্মাণ করেন। ‘দ্য ফেসবুক’ নামে নতুন সাইটটি চালুর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১২০০ জন শিক্ষার্থী এতে রেজিস্ট্রেশন করেন। প্রথমদিকে এটি শুধু হার্ভার্ড কলেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও দুই মাসের মাথায় আরও এটি বোস্টন শহরের অন্যান্য কলেজ, আইভি লীগ এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। জুন মাসের মধ্যে সাইটে প্রায় দেড় লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করে এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এ সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১ মিলিয়নে। প্রথমে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রোফাইল ও ছবি উপলোডের জন্য এটি ব্যবহার করা হতো।

মেটাভার্স

বর্তমানে তিনি মেটার মালিক। ফেসবুক ইনকরপোরেশনের নাম পরিবর্তন করে মেটা রাখা হয়। মেটার অধীনে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রামসহ মালিকানাধীন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো থাকবে। মূলত আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বিল্ডার বট ব্যবহার করে একটি মৌলিক ভার্চুয়াল বিশ্ব তৈরি করেছেন জাকারবার্গ।

প্রেম ও বিয়ে

ফেসম্যাশ ডটকম প্রতিষ্ঠার পর বেশ তোপের মুখে পড়েন জাকারবার্গ। সে সময় একটি পার্টিতে পরিচয় হয় তার বর্তমান স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে। ওয়াশরুমের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রিসিলার সঙ্গে কথা হয় মার্কের। কিছুক্ষণ কথা হওয়ার পর মার্ক প্রিসিলাকে বলেন, ‘শোনো আমাকে হয়তো তিনদিন পর হার্ভার্ড থেকে বের করে দেওয়া হবে, তাই ডেটে যাওয়ার জন্য আমাদের দেরি করা উচিত হবে না। প্রিসিলা আর না করতে পারেননি তাকে।’

দীর্ঘ ৯ বছর এ প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে প্রেমের পর ১৯ মে, ২০১২ দীর্ঘদিনের প্রেমকে বিয়েতে রূপান্তর করেন মার্ক। বর্তমানে এ দম্পতির দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন