কার্যকর ও নির্ভুল তথ্য দেবে ‘সুপার জিপিএস’
jugantor
কার্যকর ও নির্ভুল তথ্য দেবে ‘সুপার জিপিএস’

  আইটি ডেস্ক  

৩০ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জিপিএসের চেয়েও নিখুঁত ও বেশি কার্যকর অবস্থানের তথ্য জানাতে পারবে ‘সুপার জিপিএস’। এমনই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন নেদারল্যান্ডসের একদল গবেষক।

ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমস্টারডামের ভ্রিজ ইউনিভার্সিটি ও ভিএসএলের গবেষকরা জানিয়েছেন, কোনো স্যাটেলাইটের সহযোগিতা ছাড়াই এ প্রযুক্তিতে চিহ্নিত লোকেশনের সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থানের হেরফের হয় চার ইঞ্চিরও কম।

বর্তমানে সবচেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর যাত্রাপথ খুঁজে নিতে বা অজানা গন্তব্যের অবস্থান খুঁজে বের করতে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) প্রযুক্তির ব্যবহার বহুল প্রচলিত।

কিন্তু একশভাগ নির্ভরযোগ্য নয় এ প্রযুক্তি; বিশেষ করে শহুরে অবকাঠামোর মধ্যে লক্ষ্যবস্তু বা ব্যবহারকারী সরাসরি স্যাটেলাইটের দৃষ্টিসীমায় না থাকলে এ প্রযুক্তির পুরো সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয় না।

তারই সমাধান হিসাবে ‘সুপারজিপিএস’-এর কথা বলছেন গবেষকরা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সায়েন্স অ্যালার্ট বলছে, ক্ষেত্রবিশেষে বহুল প্রচলিত জিপিএস প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এটি।

কার্যপ্রণালীর বিচারে মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এ প্রযুক্তি; তবে ফোনে ডেটা স্ট্রিম করার বদলে এটি ডিভাইসের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে। এ ক্ষেত্রে রেডিও ট্রান্সমিটার এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের সমন্বিত ভূমিকা এ প্রযুক্তির মূল অবকাঠামো হিসাবে কাজ করে বলে জানিয়েছে সায়েন্স অ্যালার্ট।

নতুন মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য যে প্রটোটাইপ ব্যবহার করা হয়েছে সেটির কার্যক্ষমতা খুবই প্রখর। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এটি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষক দলটির দাবি, অবস্থানভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন থেকে শুরু করে স্বচালিত গাড়ি, কোয়ান্টাম যোগাযোগ ও পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। ইউএস জিপিএস ও ইইউ গ্যালিলিওর মতো গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

তবে গবেষক দলটির তথ্যানুযায়ী, স্যাটেলাইটনির্ভর এসব পদ্ধতির পিছুটান ও দুর্বলতা রয়েছে।

পৃথিবীতে এগুলোর রেডিও ট্রান্সমিশন খুবই দুর্বল। সেই সঙ্গে যদি তরঙ্গ কোনো মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় বা বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে শতভাগ সঠিক তথ্য পাওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ক্রিশ্চিয়ান টিবেরিয়াসের তথ্যানুযায়ী, এসব কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জিপিএস বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারে। ফলে স্বচালিত গাড়িতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বড় ধরনে উদ্বেগ তৈরি হবে।

বিভিন্ন অবস্থানভিত্তিক পরিষেবা ও নেভিগেশন টুলের জন্য সাধারণ মানুষ থেকে সরকার জিপিএস ব্যবহার করলেও গবেষক দলটি ব্যাকআপ সিস্টেম থাকার বিষয়ে জোর দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সুপার জিপিএস প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বর্তমানে স্যাটেলাইটনির্ভর জিপিএস সিস্টেমের বিকল্প ব্যবস্থা প্রণয়ন করা, যেখানে মোবাইল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে।

কার্যকর ও নির্ভুল তথ্য দেবে ‘সুপার জিপিএস’

 আইটি ডেস্ক 
৩০ নভেম্বর ২০২২, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

জিপিএসের চেয়েও নিখুঁত ও বেশি কার্যকর অবস্থানের তথ্য জানাতে পারবে ‘সুপার জিপিএস’। এমনই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন নেদারল্যান্ডসের একদল গবেষক।

ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি, আমস্টারডামের ভ্রিজ ইউনিভার্সিটি ও ভিএসএলের গবেষকরা জানিয়েছেন, কোনো স্যাটেলাইটের সহযোগিতা ছাড়াই এ প্রযুক্তিতে চিহ্নিত লোকেশনের সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থানের হেরফের হয় চার ইঞ্চিরও কম।

বর্তমানে সবচেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর যাত্রাপথ খুঁজে নিতে বা অজানা গন্তব্যের অবস্থান খুঁজে বের করতে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) প্রযুক্তির ব্যবহার বহুল প্রচলিত।

কিন্তু একশভাগ নির্ভরযোগ্য নয় এ প্রযুক্তি; বিশেষ করে শহুরে অবকাঠামোর মধ্যে লক্ষ্যবস্তু বা ব্যবহারকারী সরাসরি স্যাটেলাইটের দৃষ্টিসীমায় না থাকলে এ প্রযুক্তির পুরো সুবিধা নেওয়া সম্ভব হয় না।

তারই সমাধান হিসাবে ‘সুপারজিপিএস’-এর কথা বলছেন গবেষকরা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট সায়েন্স অ্যালার্ট বলছে, ক্ষেত্রবিশেষে বহুল প্রচলিত জিপিএস প্রযুক্তি প্রতিস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে এটি।

কার্যপ্রণালীর বিচারে মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এ প্রযুক্তি; তবে ফোনে ডেটা স্ট্রিম করার বদলে এটি ডিভাইসের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করে। এ ক্ষেত্রে রেডিও ট্রান্সমিটার এবং ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্কের সমন্বিত ভূমিকা এ প্রযুক্তির মূল অবকাঠামো হিসাবে কাজ করে বলে জানিয়েছে সায়েন্স অ্যালার্ট।

নতুন মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য যে প্রটোটাইপ ব্যবহার করা হয়েছে সেটির কার্যক্ষমতা খুবই প্রখর। প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এটি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তারা।

গবেষক দলটির দাবি, অবস্থানভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন থেকে শুরু করে স্বচালিত গাড়ি, কোয়ান্টাম যোগাযোগ ও পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। ইউএস জিপিএস ও ইইউ গ্যালিলিওর মতো গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেমগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

তবে গবেষক দলটির তথ্যানুযায়ী, স্যাটেলাইটনির্ভর এসব পদ্ধতির পিছুটান ও দুর্বলতা রয়েছে।

পৃথিবীতে এগুলোর রেডিও ট্রান্সমিশন খুবই দুর্বল। সেই সঙ্গে যদি তরঙ্গ কোনো মাধ্যমে প্রতিফলিত হয় বা বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে শতভাগ সঠিক তথ্য পাওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। ডেলফট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ক্রিশ্চিয়ান টিবেরিয়াসের তথ্যানুযায়ী, এসব কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে জিপিএস বিশ্বাসযোগ্যতা হারাতে পারে। ফলে স্বচালিত গাড়িতে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করলে বড় ধরনে উদ্বেগ তৈরি হবে।

বিভিন্ন অবস্থানভিত্তিক পরিষেবা ও নেভিগেশন টুলের জন্য সাধারণ মানুষ থেকে সরকার জিপিএস ব্যবহার করলেও গবেষক দলটি ব্যাকআপ সিস্টেম থাকার বিষয়ে জোর দিয়েছেন বলে জানান তিনি। সুপার জিপিএস প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বর্তমানে স্যাটেলাইটনির্ভর জিপিএস সিস্টেমের বিকল্প ব্যবস্থা প্রণয়ন করা, যেখানে মোবাইল টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন