এমএনপি সেবা দিতে প্রস্তুত বড় তিন অপারেটর

  সাইফুল আহমাদ ০৪ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এমএনপি সেবা দিতে প্রস্তুত বড় তিন অপারেটর

আগামী পহেলা আগস্ট থেকে দেশে চালু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত মোবাইল নাম্বার পোর্টেবেলিটি-এমএনপি সেবার কার্যক্রম। এরই মধ্যে তিন মোবাইল অপারেটর এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ বা এমএনপি সেবা চালুতে নানা চড়াই-উতরাইয়ের পরে বড় তিন অপারেটর এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ জুন যুক্ত হয়েছে বাংলালিংক।

এর আগে প্রথমে গ্রামীণফোন এবং পরে রবি যুক্ত হয়। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটক এখনও এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রথমদিকে ‘কারিগরি নির্দেশনা’ না পাওয়া নানা প্রযুক্তিগত জটিলতাকে সামনে এনে মোবাইল অপারেটরগুলো এটিকে বিলম্ব করার চেষ্টা করছিল।

পরে অবশ্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কড়া অবস্থানের কারণে তারা এই নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী ১ আগস্ট থেকে সেবাটি বাংলাদেশে চালু হওয়ার কথা। এমএনপি চালু হলে মোবাইল গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো মোবাইল কোম্পানির সেবা নিতে পারবেন।

সেবায় সন্তুষ্ট না হলে কিংবা অন্য কোম্পানির বিশেষ সেবা নিতে চাইলে নম্বর পরিবর্তন না করেই যে কোনো কোম্পানির সেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন গ্রাহকরা।

টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এতে কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও সেবার মান বাড়বে। দশ বছর ধরে এমএনপি নিয়ে কাজ করছে বিটিআরসি।

কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে সেবাটি পায়নি বাংলাদেশের ১৫ কোটি মোবাইল ফোন গ্রাহক। সম্প্রতি বিটিআরসির তথ্য মতে, দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর মাইলফলক ১৫ কোটি ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশ ও স্লোভেনিয়ার ব্যবসায়ীদের কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি-টেলিটেক গত বছরের নভেম্বরে এমএনপির লাইসেন্স পায়।

লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, ১৮০ দিনের মধ্যে এই সেবা চালু করতে হবে। তারা মার্চের মধ্যেই সেবাটি চালু করার প্রতিশ্র“তি দেয়। পরে তা আর বাস্তবায়িত করতে পারেনি।

এমএনপি সেবাটি চালু হলে গ্রাহকরা ৩০ টাকা ফি দিয়ে নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর পরিবর্তন করতে পারবেন। গ্রাহক আবেদন করার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার অপারেটর বদলে যাবে। তবে আবার অপারেটর পরিবর্তন করতে হলে তাকে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হবে।

এমএনপি সেবা চালুর বিষয়ে ২০০৮ সালে প্রথম উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০০৯ ও ২০১০ সালেও ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতেও বিষয়টি কয়েকবার আলোচনার পর এটি বাস্তবায়নের সুপারিশও করেন তারা।

২০১৪ সালে বিটিআরসি এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা করে। ওই সময়ও নানা অজুহাত তৈরি করে উদ্যোগটি পিছিয়ে দিতে সক্ষম হয় অপারেটরগুলো। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে নিলাম আহ্বান করেও শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার কথা বলে তা বাতিল করা হয়।

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০টির মতো দেশে এমএনপি সেবা চালু রয়েছে। বিশ্বের মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন জিএসএমএ ইন্টেলিজেন্সের গবেষণা অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মাত্র এক-চতুর্থাংশ এ সেবা চালু করেছে। ১৫ শতাংশ ভবিষ্যতে চালু করার পরিকল্পনা করছে।

বাকি ৬০ শতাংশই এমএনপি চালু করার বিপক্ষে রয়েছে অথবা এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও ভারত এমএনপি চালু করেছে যথাক্রমে ২০০৭ ও ২০১১ সালে।

তবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তিন বছর পর পাকিস্তান এ সেবা বন্ধ করে দেয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকাও ইতিমধ্যে এমএনপি চালু করেছে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগস্টে এমএনপি সেবা শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনাপ্রবাহ : এমএনপি

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter