‘মৌলবাদী সন্ত্রাস’ ঠেকাতে এআই ব্যবহার করছে চীন
jugantor
‘মৌলবাদী সন্ত্রাস’ ঠেকাতে এআই ব্যবহার করছে চীন

  যুগান্তর ডেস্ক  

২২ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

‘মৌলবাদী সন্ত্রাস’ ঠেকাতে এআই ব্যবহার করছে চীন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণ নজরদারি ব্যবস্থার জন্য সর্বদাই বিতর্কিত চীনা সরকার এবার মানুষের চেহারা শনাক্তের ব্যবস্থাও যুক্ত করেছে। আর এ কাজ করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই কাজে লাগিয়ে।

এআই তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষ যাতে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। যাতে তারা কোনোরকম সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা না করতে পারে।

যদিও প্রথমে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা শিনজিয়াং অঞ্চলে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নজরে থাকা মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকার কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যাওয়া মাত্র কর্তৃপক্ষের কাছে সে সংবাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।

চীন সরকারের দাবি, এরূপ নিরাপত্তা বলয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেই তারা এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্য নিয়েছে। বিশেষত ‘মৌলবাদী মুসলিম সন্ত্রাস’ ঠেকাতে এটি খুবই গুরত্বপূর্ণ বলেও চীনা সরকার কর্তৃক জানানো হয়।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হতে পারে আর অবশ্যই চীনা সরকারের এই হীন উদ্যোগের বিপক্ষে তাদের অবস্থান বলে জানিয়েছেন। দেশজুড়ে চীন সরকার ১৭ কোটির বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। সামনে আরও ৪০ কোটি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ক্যামেরায় ধারণ করা ব্যক্তির পরিচয় বের করতে পারলে তাদের দৈনন্দিন জীবনের পুরোটাই সরকারের কাছে রেকর্ড থাকবে। ফলে কেউ কোনো অপরাধ করার আগেই তার লক্ষণ বের করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এরূপ নজরদারি ব্যক্তি স্বাধীনতায় চরম হস্তক্ষেপ, যা মোটেও কাম্য নয় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে। যদিও ব্যক্তি স্বাধীনতায় এমন চরম হস্তক্ষেপ চীনে এটাই প্রথম নয়। আর মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ অবশ্য চীন সরকারের তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কেননা তারা শুধু সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধেই কাজ করবে আর সেক্ষেত্রে একান্তই কারও ব্যক্তি স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হলেও।

যদিও এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের কল্যাণে কাজ করছে তথাপি পৃথিবী ধ্বংসের কারণ এই এয়াই হবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং স্টিফেন হকিংস। এরই মধ্যে সারা বিশ্বের কারখানাগুলো চলে এসেছে স্বয়ংক্রিয় মেশিনের দখলে।

একেকটি মেশিন কম সময়, খরচ ও নিপুণতার সঙ্গে ১শ’-২শ’ মানুষের কাজ করে দিচ্ছে। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়ছে বেকারত্ব, সেখান থেকে অভাব-হতাশা-নৈরাজ্য। ধীরে ধীরে মানুষের কাজের জায়গাগুলো নিয়ে নিচ্ছে রোবট। এর মধ্যে ঘোর বিপদ দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা।

বিজনেস ম্যাগনেট এলন মাস্ক থেকে উদ্যোক্তা বিল গেটস, সবারই সতর্ক বাণী, সুপারস্মার্ট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই করবে বেশি। সম্পদের চরম অসম বণ্টন, মানবিক বিপর্যয়, আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি বা কৃত্রিম নির্বুদ্ধিতাকেন্দ্রিক সমস্যা, প্রোগ্রামিংনির্ভর কৃত্রিম বর্ণবাদ, নিরাপত্তায় ধস, বড় ধরনের যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক বিপর্যয়, মেশিনের অনিচ্ছাকৃত অনিষ্টের মতো ভয়ঙ্কর সব বিপদ দেখা দেবে।

যুদ্ধকাজে রোবটের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো এর পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও গবেষণায় ব্যবহার হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এর সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি নিমেষেই ধ্বংস ডেকে আনবে আমাদের প্রিয় পৃথিবীর।

-সাইফুল আহমাদ

‘মৌলবাদী সন্ত্রাস’ ঠেকাতে এআই ব্যবহার করছে চীন

 যুগান্তর ডেস্ক 
২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ
‘মৌলবাদী সন্ত্রাস’ ঠেকাতে এআই ব্যবহার করছে চীন
প্রতীকী ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ক্যামেরায় ধারণ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণ নজরদারি ব্যবস্থার জন্য সর্বদাই বিতর্কিত চীনা সরকার এবার মানুষের চেহারা শনাক্তের ব্যবস্থাও যুক্ত করেছে। আর এ কাজ করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই কাজে লাগিয়ে।

এআই তথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষ যাতে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে। যাতে তারা কোনোরকম সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা না করতে পারে।

যদিও প্রথমে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা শিনজিয়াং অঞ্চলে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নজরে থাকা মুসলিম অধ্যুষিত ওই এলাকার কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যাওয়া মাত্র কর্তৃপক্ষের কাছে সে সংবাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।

চীন সরকারের দাবি, এরূপ নিরাপত্তা বলয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলেই তারা এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্য নিয়েছে। বিশেষত ‘মৌলবাদী মুসলিম সন্ত্রাস’ ঠেকাতে এটি খুবই গুরত্বপূর্ণ বলেও চীনা সরকার কর্তৃক জানানো হয়।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি বড় ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ হতে পারে আর অবশ্যই চীনা সরকারের এই হীন উদ্যোগের বিপক্ষে তাদের অবস্থান বলে জানিয়েছেন। দেশজুড়ে চীন সরকার ১৭ কোটির বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। সামনে আরও ৪০ কোটি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ক্যামেরায় ধারণ করা ব্যক্তির পরিচয় বের করতে পারলে তাদের দৈনন্দিন জীবনের পুরোটাই সরকারের কাছে রেকর্ড থাকবে। ফলে কেউ কোনো অপরাধ করার আগেই তার লক্ষণ বের করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে এরূপ নজরদারি ব্যক্তি স্বাধীনতায় চরম হস্তক্ষেপ, যা মোটেও কাম্য নয় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে। যদিও ব্যক্তি স্বাধীনতায় এমন চরম হস্তক্ষেপ চীনে এটাই প্রথম নয়। আর মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ অবশ্য চীন সরকারের তেমন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কেননা তারা শুধু সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধেই কাজ করবে আর সেক্ষেত্রে একান্তই কারও ব্যক্তি স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হলেও।

যদিও এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের কল্যাণে কাজ করছে তথাপি পৃথিবী ধ্বংসের কারণ এই এয়াই হবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বয়ং স্টিফেন হকিংস। এরই মধ্যে সারা বিশ্বের কারখানাগুলো চলে এসেছে স্বয়ংক্রিয় মেশিনের দখলে।

একেকটি মেশিন কম সময়, খরচ ও নিপুণতার সঙ্গে ১শ’-২শ’ মানুষের কাজ করে দিচ্ছে। ফলে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়ছে বেকারত্ব, সেখান থেকে অভাব-হতাশা-নৈরাজ্য। ধীরে ধীরে মানুষের কাজের জায়গাগুলো নিয়ে নিচ্ছে রোবট। এর মধ্যে ঘোর বিপদ দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানীরা।

বিজনেস ম্যাগনেট এলন মাস্ক থেকে উদ্যোক্তা বিল গেটস, সবারই সতর্ক বাণী, সুপারস্মার্ট আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানুষের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই করবে বেশি। সম্পদের চরম অসম বণ্টন, মানবিক বিপর্যয়, আর্টিফিশিয়াল স্টুপিডিটি বা কৃত্রিম নির্বুদ্ধিতাকেন্দ্রিক সমস্যা, প্রোগ্রামিংনির্ভর কৃত্রিম বর্ণবাদ, নিরাপত্তায় ধস, বড় ধরনের যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক বিপর্যয়, মেশিনের অনিচ্ছাকৃত অনিষ্টের মতো ভয়ঙ্কর সব বিপদ দেখা দেবে।

যুদ্ধকাজে রোবটের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো এর পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা ঢালছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও গবেষণায় ব্যবহার হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এর সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি নিমেষেই ধ্বংস ডেকে আনবে আমাদের প্রিয় পৃথিবীর।

-সাইফুল আহমাদ