চাকরিটা পেতেই হবে

  আজওয়াদ উৎস ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দিনের পর দিন বেকার থাকা। একটা সময় হতাশ। তরুণ সমাজের পথচলা এখন এমন-ই। কেন এমন বেকারত্ব, কেন হতাশার জীবনই বেছে নিচ্ছে তরুণরা তার মূলোৎপাটন যদি আমরা করতে যাই দেখা যাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রন্থগত বিদ্যা শেখানো হয়, বাস্তব শিক্ষা শেখানো হয় না। কাস্টমার কেয়ার, ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট-সাইকোলজি শেখানো হয় না। একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীর আচরণ বিধি কেমন হতে হবে তা শেখানো হয় না। আবার দেশের বাজার এবং মার্কেটিং পরিবেশের সঙ্গে পাঠ্য বইতে শেখা বিদ্যার মিল নেই। যে কারণে চাকরি প্রার্থী চাকরি পাওয়ার পর লক্ষ্য করে যে, বই এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যে শিক্ষা গ্রহণ করেছে তার মধ্যে মিল নেই। এ কারণে কয়েকবছর লেগে যায় প্রতিষ্ঠানের আচরণ বিধি শিখতেই।

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেসব শিক্ষার্থী বের হয় তাদের বলা হয় র’হ্যান্ড। এদেরকে কর্মপোযোগী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন বাড়তি শিক্ষা। এ বাড়তি প্রশিক্ষণের জন্যে কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই। কিছু ক্ষেত্রে দু’একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্পোরেট হাউস শিক্ষা শেষে নিয়োগের আগে ইন্টার্নির ব্যবস্থা করে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইন্টার্নি শেষে যোগ্য প্রার্থীরা সহজে চাকরি পেয়ে যায়। এ জন্য শুধু সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি পাওয়ার যুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে প্রকৃত কর্মী হয়ে চাকরি পেতে গেলে সহজেই চাকরি হয়ে যায়। যে কারণে প্রতিটা শিক্ষার্থীরই উচিত শিক্ষার সঙ্গে পার্ট টাইম জব করা অথবা শিক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় ইন্টার্নি করা।

নিজেকে তৈরি করতে হবে

প্রফেশনাল হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে হলে কিছু উপাদান থাকা প্রয়োজন নিজের মধ্যে। এসব উপাদান তুলে ধরা হল এখানে।

সততা সবসময়

প্রতিষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ মাত্রায় সৎহতে হবে। অন্যের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা ব্যক্তিগত তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা থেকে সবসময় নিজেকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সততা থাকতে হবে প্রতিষ্ঠানের সব বিষয়ে। সত্যবাদী হতে হবে এবং কমিটমেন্ট করলে সেটি যেকোনা মূল্যে রাখার চেষ্টা করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের তথ্যকে সংরক্ষণ করতে হবে নিজের দায়িত্ব মনে করে।

হতে হবে দায়িত্বশীল

একজন প্রফেশনাল শুধু অফিসের প্রতি এবং তার কাজের প্রতি নয়, প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতি দায়িত্বশীল মনোভাবের হন। মনে রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠানের ভালো কিছুর জন্য যেমন ক্রেডিট নেন, তেমনি যেকোনো ভুলের জন্যও দায়িত্ব নিতে হবে।

সম্মান প্রদর্শন

অন্যকে সবসময় সম্মান দেখানো প্রফেশনাল হওয়ার একটা অন্যতম চিহ্ন। মানবিকতার একটা ধারায় পড়ে এ গুণটি। ছোট-বড় সব কর্মসঙ্গীকে সম্মান দেখানো উচিত। এতে তারাও এ আচরণ দেখাবে।

ব্যক্তিগত উন্নয়ন

প্রতিনিয়ত ব্যক্তিগত উন্নয়নের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হয়। আর একজন প্রফেশনাল সবসময় ব্যক্তিগত উন্নয়নে সচেষ্ট থাকেন। পড়াশোনা বাড়িয়ে, কাজে বেশি নিমগ্ন হয়ে অথবা নতুন নতুন কাজ করে এ উন্নয়ন করা সম্ভব। সৃষ্টিশীলতা আর কাজের প্রতি মনোযোগ ব্যক্তি উন্নয়নে সহায়তা করে।

সচেতনতা

সচেতন ব্যক্তির ভুল হয় কম। একজন প্রফেশনালের কাছে ভুল কাজ মোটেও কাম্য নয়। তাই সচেতনতা রক্ষা করে নিজের দক্ষতা আর জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে।

নেটওয়ার্ক

প্রফেশনালদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং গড়ে তুলতে হবে। কোলাবোরেশন, নেটওয়ার্কিং এবং যোগাযোগ নতুন চিন্তা, নতুন কর্মপন্থা, নতুন সুযোগ তৈরি করে।

পূর্ণ মনোযোগী কাজে

প্রফেশনালিজমের অন্যতম প্রধান উপাদান হল প্রতিষ্ঠানের প্রতি সাবমিশন থাকা। আপনার যদি প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিষ্ঠা আর নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগের মনোভাব না থাকে তাহলে প্রতিষ্ঠানও আপনার কাজকে স্বীকৃতি দেবে না। পরিপূর্ণরূপে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের জন্য নিবেদন করে প্রফেশনাল হওয়ার প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

যদি মনে সুপ্ত ইচ্ছা থাকে নিজের ক্যারিয়ারটাকে সুন্দর করে গড়ে তোলার তবে প্রতিমুহূর্তে চর্চার মধ্য দিয়ে পথ চলতে হবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×