এসআই পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আতাউর রহমান

আইনশৃংখলা বাহিনীতে যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য সুসংবাদ। জনবল নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে বড় সংখ্যক জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এই লক্ষ্যে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পুলিশ।

ইতিমধ্যে আবেদনকারীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষাও হয়ে গেছে। সামনে লিখিত, মনস্তত্ত্ব ও মৌখিক পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় ভালো করার কিছু পরামর্শ নিয়ে এবারের ফিচার। এই মুহূর্তে যারা লিখিত ও মনস্তত্ত্ব পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের জন্য এ পরামর্শগুলো কাজে লাগতে পারে। এই পরীক্ষায় ভালো করে আইনশৃংখলা বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য হয়ে দেশসেবার সুযোগ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

লিখিত পরীক্ষা

ইতিমধ্যে প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের লিখিত পরীক্ষা আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ১৬ জুন ২০১৯ তারিখ সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। ১৭ জুন ২০১৯ তারিখ সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত সাধারণ জ্ঞান ও পাটিগণিত বিষয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হবে। ১৮ জুন ২০১৯ তারিখ সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ২৫ নম্বরের মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা হবে। পরীক্ষার স্থান প্রার্থীদের পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।

পরামর্শ

গত কয়েক বছরে অনুষ্ঠিত এসআই পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লিখিত পরীক্ষা হয় ২২৫ নম্বরের। লিখিত পরীক্ষা হবে তিনটি ধাপে। ২৫ নম্বরের মনস্তত্ত্ব বিষয়ে, ১০০ নম্বরের ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশন এবং ১০০ নম্বরের সাধারণ জ্ঞান ও পাটিগণিত বিষয়ে পরীক্ষা নেয়া হবে। লিখিত পরীক্ষা হয় তিন দিনে।

সর্বশেষ এসআই পদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেয়া মুশফিকুর রহমান জানান, লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত মৌলিক বিষয়গুলো থেকে প্রশ্ন করা হয়। এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ের বই থেকে প্রশ্ন করা হয়। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখে প্রস্তুতি নিলে ভালো করা সম্ভব। পরীক্ষার পাস করতে ৪৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।

২০১৬ সালে এসআই পদে নিয়োগ পেয়েছেন শিমুল সরকার। লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি বিষয়ে তিনি বলেন, ইংরেজিতে সমসাময়িক বিষয়ের ওপর একটি ১৫ নম্বরের রচনা, Latter, Fill in the Blanks থাকতে পারে। বাংলা রচনা ও কম্পোজিট বিষয়েও সমসাময়িক বিষয়ে রচনা, ভাবসম্প্রসারণ ও পত্র লিখন থাকতে পারে। বাংলা অংশে ভালো করতে হলে ব্যাকরণ অংশে বেশি জোর দিতে হবে। ৯ম-দশম শ্রেণীর বোর্ডের ব্যাকরণ বইটি অনুশীলন করতে ব্যাকরণে ভালো করা যাবে।

তিনি জানান, সাধারণ জ্ঞানে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। এ অংশে ভালো করতে হলে নিয়মিত পত্রিকা পড়া, দেশি-বিদেশি সমসাময়িক খবর নিজের আয়ত্ত করা। বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি, পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। বাজারে প্রচলিত সাধারণ জ্ঞানের বইগুলোর মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য বই পড়লে ভালো করা যাবে।

ইংরেজি, বাংলা রচনা ও কম্পোজিশনে ভালো করার উপায় সম্পর্কে ২০১৭ সালে এসআই নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া রাজু আহম্মদ বলেন, এ অংশ ভালো করার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রবন্ধগুলো দেখা যেতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে, অর্থাৎ, তার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ও তার সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে হবে।

অনুবাদ অংশে ভালো করার জন্য ইংরেজি পত্রিকা থেকে নিজে নিজে বাংলা করার চেষ্টা করতে হবে। এ ছাড়া ‘মাসিক সম্পাদকীয় সমাচার’ নামে একটি বই পাওয়া যায়, যাতে অনুবাদগুলো সুন্দর করে ছোট আকারে দেয়া থাকে। এটাও পড়া যেতে পারে। ফ্রি হ্যান্ডরাইটিংয়ে দক্ষতা থাকলে আরও ভালো করা সম্ভব। Composition or Essay writing–-এর সময় অযথা, অবাঞ্ছিত শব্দ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সর্বশেষ এসআই পরীক্ষায় অংশ নেয়া রাজীব সরকার বলেন, গণিতে ভালো করতে হলে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণীর বইগুলো বারবার চর্চা করতে হবে। পাটিগণিত থেকে লসাগু, গসাগু, ঐকিক নিয়ম, শতকরা, সুদকষা, লাভ-ক্ষতি, অনুপাত-সমানুপাত- এসব অধ্যায় ভালো করে চর্চা করলে প্রশ্ন পাওয়া যাবে।

মনস্তত্ত্ব পরীক্ষা

মনস্তত্ত্ব পরীক্ষায় আইকিউ ও কুইজ টাইপের প্রশ্ন থাকতে পারে। পাটিগণিত ও জ্যামিতির ধাঁধাও দেয়া হয় অনেক ক্ষেত্রে। বেশি প্রশ্ন আসে সাদৃশ্য, বৈসাদৃশ্য শব্দ বা সংখ্যা চিহ্নিতকরণ, সমস্যার সমাধান, সম্পর্ক নির্ণয়, গাণিতিক যুক্তি অভীক্ষা, ভারবাল রিজনিং থেকে। প্রশ্ন হতে পারে সাধারণ জ্ঞান (পূর্ণ রূপ, সঠিক উত্তর, টার্মিওনোলজি, সংক্ষিপ্ত টিকা) থেকেও। এসআই রিক্রুটিং গাইডের মনস্তত্ত্ব অংশ, আইবিএ ভর্তি ও বিসিএস পরীক্ষার মানসিক দক্ষতা অংশ অনুশীলন করলে ভালো ফল পাবেন।

মৌখিক পরীক্ষা

মনস্তত্ত্ব ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ডাকা হবে মৌখিক পরীক্ষায়। পাস নম্বর ৪৫ শতাংশ। শিমুল সরকার জানান, ভাইবায় সাধারণত একজন প্রার্থীর মেন্টাল স্ট্রেংথ যাচাই করা হয়। প্রার্থী কতটা পরিশ্রমি, তার সততা, দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ বিষয়গুলো যাচাই করা হয়। প্রশ্ন করা হতে পারে, ১০০ জন মানুষ বিশৃংখলা করছে, দুইজন পুলিশ কনস্টেবলকে নিয়ে কিভাবে বিষয়টি সামাল দেবেন?

অথবা প্রশ্ন করা হবে, সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে একজনের রক্ত ঝড়ছে-কাতরাচ্ছে, অন্যদিকে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা পালাচ্ছে এমতাবস্থায় আপনি কী করবেন, সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করবেন নাকি আহতকে হাসপাতালে নিবেন? এ সব প্রশ্নের উত্তর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে দিতে পারলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।