পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ ৯৬৮০ জন

  আতাউর রহমান ২১ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য সুসংবাদ। জনবল নিয়োগ দিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৯৬৮০ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এই লক্ষ্যে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পুলিশ। আগ্রহ ও যোগ্যতা থাকলে আপনিও আবেদন করতে পারেন। তার আগে বিজ্ঞপ্তিতে চোখ বুলিয়ে নিন একবার। মিলিয়ে নিন যোগ্যতার মাপকাঠি। সেই সঙ্গে প্রস্তুতিটা শুরু করুন এখন থেকেই। নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন গর্বিত সদস্য হয়ে দেশসেবার সুযোগ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।

নেয়া হবে নারী ও পুরুষ : ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ৬৮০০ জন পুরুষ, ২৮৮০ জন নারীসহ মোট ৯৬৮০ জনকে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ পুলিশ। প্রশিক্ষণ শেষে প্রার্থীদের কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেয়া হবে। প্রার্থীদের তিন ধাপে (শারীরিক, লিখিত এবং ‘মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক’ পরীক্ষা) বাছাই করা হবে।

আবেদনের যোগ্যতা : বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসএসসি বা সমমান পাস হলেই আবেদন করা যাবে। জিপিএ থাকতে হবে কমপক্ষে ২.৫। অবিবাহিত যে কোনো জেলার স্থায়ী প্রার্থীরাই টিআরসি পদের বাছাই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন।

শারীরিক মাপ : সাধারণ ও অন্যান্য কোটার পুরুষের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি বা ১.৬৭৬৪ মিটার হতে হবে। বুকের স্বাভাবিক অবস্থা ৩১ ইঞ্চি বা ০.৭৮৭৪ মিটার এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি বা ০.৮৩৮২ মিটার হতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের (পুরুষ প্রার্থী) ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বা ১.৬২৫৬ মিটার, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩০ ইঞ্চি বা ০.৭৬২০ মিটার এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি বা ০.৭৮৭৪ মিটার হতে হবে। তবে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের সন্তানদের (পুরুষ প্রার্থী) ক্ষেত্রে সাধারণ ও অন্যান্য কোটার পুরুষ প্রার্থীদের উচ্চতা ও বুকের মাপের শর্ত প্রযোজ্য হবে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটায় পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি বা ১.৬২৫৬ মিটার, বুক স্বাভাবিক অবস্থায় ৩১ ইঞ্চি বা ০.৭৮৭৪ মিটার এবং সম্প্রসারিত অবস্থায় ৩৩ ইঞ্চি বা ০.৮৩৮২ মিটার হতে হবে।

নারী প্রার্থীর (সব কোটা) ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি বা ১.৫৭৪৮ মিটার হতে হবে। বয়স ও উচ্চতার সঙ্গে ওজন অনুমোদিত পরিমাপের হতে হবে। (বডি ম্যাস ইনডেক্স বা বিএমআই অনুযায়ী)।

বয়স : সাধারণ বা অন্যান্য কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ২০ বছর (১ জুন ২০১৯ তারিখে)। মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স (১ জুন ২০১৯ তারিখে) ১৮ থেকে ৩২ বছর হলেও চলবে।

শারীরিক পরীক্ষা : ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট রেঞ্জের অধীনে সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ লাইনস ময়দানে পর্যায়ক্রমে ২২, ২৪, ২৬, ২৯ জুন ও ১, ৩ জুলাই সরাসরি শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা (দৌড়, রোপিং, জাম্পিং ইত্যাদি) হবে। এ ধাপে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিতদের ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এ পরীক্ষায় ৪৫ শতাংশ নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা সর্বশেষ ধাপের পরীক্ষা (মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক, ২০ নম্বর) দিতে পারবেন।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র : প্রথম ধাপের বাছাই পরীক্ষা অর্থাৎ শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষার সময় প্রার্থীদের সঙ্গে আনতে হবে- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র/সাময়িক সনদপত্রের মূল কপি, সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক চারিত্রিক সনদপত্র, স্থায়ী নাগরিকত্বের সনদপত্রের মূল কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি (নিজের না থাকলে মাতা-পিতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি), সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, পরীক্ষার ফি বাবদ ১০০ টাকা (‘১-২২১১-০০০০-২০৩১’ বা ‘১২২০২০১১০৫৯৫৪১৪২২৩২৬’ কোডে) ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমার রসিদের মূল কপি। শারীরিক মাপ ও শারীরিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষার সূচি পাওয়া যাবে এই ঠিকানায় www.police.gov.bd

বাছাই প্রক্রিয়া : শারীরিক, লিখিত এবং ‘মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক’ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়। নারায়ণগঞ্জ মেট্রোপলিটনে পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত জুবায়ের আহমেদ জানান,

শারীরিক পরীক্ষায় যারা পাস করবে, তাদেরই লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রবেশপত্র দেয়া হয়। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানের ওপর প্রশ্ন আসে। লিখিত পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। এছাড়া ভাইভায় সাধারণ জ্ঞানের বিষয়াবলী জানতে চাওয়া হয়। সমসাময়িক ঘটনা ও বিষয়াবলির ওপর জানাশোনা থাকলে ভাইভায় ভালো করা যায়।

সুযোগ সুবিধা : পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। টিআরসি প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে প্রশিক্ষণকালীন প্রতি মাসে প্রশিক্ষণভাতা দেয়া হবে। এছাড়া বিনামূল্যে পোশাক, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার সুবিধা তো থাকছেই।

প্রশিক্ষণ শেষে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দিয়ে বেতন ধরা হবে ‘জাতীয় বেতন স্কেলের (২০১৫) ১৭তম গ্রেডে ৯,০০০ টাকা থেকে ২১,৮০০ টাকা স্কেলে বেতন। নিয়োগপ্রাপ্তরা অন্যান্য ভাতা ও রেশন পাবেন। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতিসহ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ তো থাকছেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×