চাকরিযুদ্ধে শুরু যাত্রা
jugantor
চাকরিযুদ্ধে শুরু যাত্রা
মাত্র-ই কি গ্র্যাজুয়েট হলেন? নব উদ্যমে শুরু করতে চান চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে ছোটা? নাকি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বা শেষবর্ষের শিক্ষার্থী? এগিয়ে থাকতে চাইলে আপনিও হতে পারেন এ দৌঁড়ের সহযাত্রী। নাকি কেবল শুরু করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পদচারণা? যুদ্ধে জয়ী হতে আপনিও জেনে নিতে পারেন- কীভাবে পছন্দের চাকরির পেছনে শুরু করবেন প্রথম যাত্রা। লিখেছেন-

  গোলাম রাব্বী  

২০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আপনার পছন্দকে ঠিক করুন

শুরুতেই জেনে নিন, আপনার কোন চাকরির প্রতি রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ বা ভবিষ্যতে কোন অফিসের কর্তাব্যক্তি হিসেবে নিজেকে দেখতে চান। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে বিভিন্ন চাকরির সুযোগ-সুবিধাসহ নানা কিছু জেনে নিতে পারেন। এরপর যে চাকরির আনুষঙ্গিক বিষয়ের সঙ্গে আপনার আকাঙ্ক্ষা বা চাওয়া-পাওয়ার বেশিরভাগ মিলে যাবে- সে বিষয়ের পেছনে ছোটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। শুরুতে এটি নির্দিষ্ট করতে পারলে বেশ ভালো আর এক্কেবারে নির্দিষ্ট করতে না পারলেও ক্ষতি নেই। সেক্ষেত্রে সময় অপচয় থেকে বাঁচতে পছন্দের তালিকায় দু-তিনটি চাকরি রেখেও নেমে পড়তে পারেন চাকরিযুদ্ধে।

চাকরির বিজ্ঞাপন দেখুন

প্রস্তুতি শুরুর সময়টায় প্রত্যেক দিন দৈনিক পত্রিকা দেখুন, বিভিন্ন জব সাইট দেখুন আর মিলিয়ে নিন আপনার পছন্দের চাকরিতে মোটামুটি কী কী যোগ্যতা চাওয়া হয়। আর নির্দিষ্ট চাকরিটি পেতে কোন কোন বিষয়ে আপনার ঘাটতি আছে- সে হিসেবমতে, নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান রপ্তের চেষ্টা করুন। কিছুদিন পর যখন আবার সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখবেন তখন ওই প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা-দক্ষতার সঙ্গে অনেকটাই আপনার সঙ্গে মিলে যাবে। তখন নিজের অগ্রগতি দেখে পড়ার প্রতি আরও মনোযোগী হবেন বৈকি!

গুরুত্ব দিন গণিত ও ইংরেজিতে

প্রস্তুতির শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিন গণিত আর ইংরেজির খুঁটিনাটি সব বিষয়ে- বিশেষ করে ইংরেজিতে। কথা বলাটা আর ফ্রি হ্যান্ডরাইটিংয়ের দক্ষতাটা কিন্তু বাড়াতেই হবে। সবচেয়ে সত্য কথা হল- বর্তমান সময়ে আপনি ইংরেজি আর গণিতে ভালো মানে আপনাকে ঠেকায় কে। তাই শুরুতে অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে একটু বেশিই গুরুত্ব দিতে হবে এ দু’বিষয়ে। মনে রাখবেন, ইংরেজি আর গণিতে আপনি যত এগিয়ে থাকবেন তত তাড়াতাড়ি আপনি অন্যের চেয়ে বেশি পড়ালেখাকে আপন করে নিতে পারছেন।

প্রথমেই বড় চাপ নেয়া নয়

শুরুতেই বেশি চাপ নেয়া যাবে না। কেননা আপনি যদি শুরুতেই বেশি চাপ নিয়ে ফেলেন তাতে এক সময় উপযুক্ত সময়ের আগেই হেরে যাওয়া বা প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেয়ার প্রবণতার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই প্রথমে সহজ পড়া বা যতটুকু সম্ভব অতটুকুই পড়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন

পাঠাভ্যাস বাড়াতে লাইব্রেরিমুখী হতে পারেন। করতে পারেন গ্রুপ স্ট্যাডিও। আর একা একা পড়তে ভালো লাগলে অথবা গ্রুপ স্ট্যাডিতে যোগ দিতে না পারলে বা ভালো গ্রুপ না পেলে নিজেই নিজের জন্য করে নিতে পারেন পছন্দ ও বিষয় বিবেচনা করে একটি সুন্দর রুটিন। কাউকে পাশে না পেলেও কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না। কেননা জানেনই তো- ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে’।

পড়াকে এনজয় করুন

শিখতে হবে পড়ালেখা এনজয় করা। কেননা বর্তমানে সঠিক চাকরি পেতে আপনাকে ব্যাপক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। সেক্ষেত্রে যত বেশি জানবেন ততই আপনাকে পরীক্ষাভীতি থেকে দূরে রাখতে পারবেন। আর পড়াকে এনজয় করতে শিখলে পরিশ্রমকে তখন আর কষ্ট মনে হবে না।

মডেল টেস্টে অংশ নিন

নিজের শক্তিমত্তাকে ঝালাই করে সাহায্য নিতে পারেন বিভিন্ন বই ও মডেল প্রশ্নের বইয়ের। তাতে আপনি সহজেই অনুমান করতে পারবেন, কোন বিষয়ে আপনার যথাযথ প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। এ প্রক্রিয়া পরবর্তী সময়ে আপনার প্রস্তুতিতে এগিয়ে যেতে আরও সহযোগিতা করবে।

ক্রমেই নিজের গতি বাড়ান

দিন যত যাবে আপনার প্রস্তুতির মাত্রা ততই কিন্তু বাড়াতে হবে। তাই দিন দিন নিজের প্রতি একটু একটু করে চাপ বাড়ান। প্রস্তুতির গতি বাড়ালে শরীর-মন সুস্থ রাখতে কিন্তু ঘুম আর খাওয়াটাও চাই পর্যাপ্ত হওয়া। পড়ার গতি আর শরীরকে প্রশান্তি দিতে নিয়মমাফিক খাবার-দাবারের পাশাপাশি ধর্মীয় রীতিনীতির নিয়মিত অনুশীলন আপনাকে রাখবে আরও ফুরফুরে ও আত্মবিশ্বাসী।

পরীক্ষায় অংশ নিন

অনেকেই আছেন নির্দিষ্ট জব বা সার্কুলার ছাড়া আবেদন করতে চান না। এটি ঠিক না। আপনাকে যে ওই চাকরি করতেই হবে বিষয়টি কিন্তু এমন নয় বরং আপনি যখন বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ নিবেন একইসঙ্গে ভালো করবেন। তখন দেখবেন, আপনার সাহস আরও বেড়ে গেছে। তখন পছন্দের চাকরির পরীক্ষাভীতি দূর হবে। সহসাই পেয়ে যাবেন কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি।

অন্যর নয়- যুদ্ধটি নিজের সঙ্গে

সর্বদা মনে রাখবেন, ‘যুদ্ধটি কিন্তু নিজের সঙ্গে’। আপনার পড়াশোনার খোঁজ নিয়ে কেউ হয়তো বলবে, ‘তুমি যা পড়ছ সেটি বোধহয় হচ্ছে না’। কেউ হয়তো বলবে, ‘এটি এত সহজ না’। দয়া করে কারো কথায় কান দিবেন না। শুধু নিজের দক্ষতা-যোগ্যতা আর স্ট্র্যাটেজিতে মনোযোগ দিন। দেখবেন সহজেই পৌঁছে গেছেন নিজের গন্তব্যে। হতে পারে আপনি এক ঘণ্টা পড়েই সব পড়া শেষ করতে পারেন। তার মানে অন্য সারা দিন বা রাত জেগে পড়ল বিধায় সে এগিয়ে যাচ্ছে- সেটি ভেবে নিজের আত্মবিশ্বাস কমান যাবে না। সর্বদা কেবল নিজের কৌশল আর কর্মস্পৃহাকে গুরুত্ব দিন।

চাকরিযুদ্ধে শুরু যাত্রা

মাত্র-ই কি গ্র্যাজুয়েট হলেন? নব উদ্যমে শুরু করতে চান চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে ছোটা? নাকি আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বা শেষবর্ষের শিক্ষার্থী? এগিয়ে থাকতে চাইলে আপনিও হতে পারেন এ দৌঁড়ের সহযাত্রী। নাকি কেবল শুরু করলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার পদচারণা? যুদ্ধে জয়ী হতে আপনিও জেনে নিতে পারেন- কীভাবে পছন্দের চাকরির পেছনে শুরু করবেন প্রথম যাত্রা। লিখেছেন-
 গোলাম রাব্বী 
২০ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

আপনার পছন্দকে ঠিক করুন

শুরুতেই জেনে নিন, আপনার কোন চাকরির প্রতি রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ বা ভবিষ্যতে কোন অফিসের কর্তাব্যক্তি হিসেবে নিজেকে দেখতে চান। প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে বিভিন্ন চাকরির সুযোগ-সুবিধাসহ নানা কিছু জেনে নিতে পারেন। এরপর যে চাকরির আনুষঙ্গিক বিষয়ের সঙ্গে আপনার আকাঙ্ক্ষা বা চাওয়া-পাওয়ার বেশিরভাগ মিলে যাবে- সে বিষয়ের পেছনে ছোটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। শুরুতে এটি নির্দিষ্ট করতে পারলে বেশ ভালো আর এক্কেবারে নির্দিষ্ট করতে না পারলেও ক্ষতি নেই। সেক্ষেত্রে সময় অপচয় থেকে বাঁচতে পছন্দের তালিকায় দু-তিনটি চাকরি রেখেও নেমে পড়তে পারেন চাকরিযুদ্ধে।

চাকরির বিজ্ঞাপন দেখুন

প্রস্তুতি শুরুর সময়টায় প্রত্যেক দিন দৈনিক পত্রিকা দেখুন, বিভিন্ন জব সাইট দেখুন আর মিলিয়ে নিন আপনার পছন্দের চাকরিতে মোটামুটি কী কী যোগ্যতা চাওয়া হয়। আর নির্দিষ্ট চাকরিটি পেতে কোন কোন বিষয়ে আপনার ঘাটতি আছে- সে হিসেবমতে, নিজের মধ্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান রপ্তের চেষ্টা করুন। কিছুদিন পর যখন আবার সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখবেন তখন ওই প্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা-দক্ষতার সঙ্গে অনেকটাই আপনার সঙ্গে মিলে যাবে। তখন নিজের অগ্রগতি দেখে পড়ার প্রতি আরও মনোযোগী হবেন বৈকি!

গুরুত্ব দিন গণিত ও ইংরেজিতে

প্রস্তুতির শুরু থেকেই বিশেষ গুরুত্ব দিন গণিত আর ইংরেজির খুঁটিনাটি সব বিষয়ে- বিশেষ করে ইংরেজিতে। কথা বলাটা আর ফ্রি হ্যান্ডরাইটিংয়ের দক্ষতাটা কিন্তু বাড়াতেই হবে। সবচেয়ে সত্য কথা হল- বর্তমান সময়ে আপনি ইংরেজি আর গণিতে ভালো মানে আপনাকে ঠেকায় কে। তাই শুরুতে অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে একটু বেশিই গুরুত্ব দিতে হবে এ দু’বিষয়ে। মনে রাখবেন, ইংরেজি আর গণিতে আপনি যত এগিয়ে থাকবেন তত তাড়াতাড়ি আপনি অন্যের চেয়ে বেশি পড়ালেখাকে আপন করে নিতে পারছেন।

প্রথমেই বড় চাপ নেয়া নয়

শুরুতেই বেশি চাপ নেয়া যাবে না। কেননা আপনি যদি শুরুতেই বেশি চাপ নিয়ে ফেলেন তাতে এক সময় উপযুক্ত সময়ের আগেই হেরে যাওয়া বা প্র্যাকটিস বন্ধ করে দেয়ার প্রবণতার সম্মুখীন হতে পারেন। তাই প্রথমে সহজ পড়া বা যতটুকু সম্ভব অতটুকুই পড়া হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

পাঠাভ্যাস গড়ে তুলুন

পাঠাভ্যাস বাড়াতে লাইব্রেরিমুখী হতে পারেন। করতে পারেন গ্রুপ স্ট্যাডিও। আর একা একা পড়তে ভালো লাগলে অথবা গ্রুপ স্ট্যাডিতে যোগ দিতে না পারলে বা ভালো গ্রুপ না পেলে নিজেই নিজের জন্য করে নিতে পারেন পছন্দ ও বিষয় বিবেচনা করে একটি সুন্দর রুটিন। কাউকে পাশে না পেলেও কিন্তু থেমে থাকলে চলবে না। কেননা জানেনই তো- ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে’।

পড়াকে এনজয় করুন

শিখতে হবে পড়ালেখা এনজয় করা। কেননা বর্তমানে সঠিক চাকরি পেতে আপনাকে ব্যাপক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হবে। সেক্ষেত্রে যত বেশি জানবেন ততই আপনাকে পরীক্ষাভীতি থেকে দূরে রাখতে পারবেন। আর পড়াকে এনজয় করতে শিখলে পরিশ্রমকে তখন আর কষ্ট মনে হবে না।

মডেল টেস্টে অংশ নিন

নিজের শক্তিমত্তাকে ঝালাই করে সাহায্য নিতে পারেন বিভিন্ন বই ও মডেল প্রশ্নের বইয়ের। তাতে আপনি সহজেই অনুমান করতে পারবেন, কোন বিষয়ে আপনার যথাযথ প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। এ প্রক্রিয়া পরবর্তী সময়ে আপনার প্রস্তুতিতে এগিয়ে যেতে আরও সহযোগিতা করবে।

ক্রমেই নিজের গতি বাড়ান

দিন যত যাবে আপনার প্রস্তুতির মাত্রা ততই কিন্তু বাড়াতে হবে। তাই দিন দিন নিজের প্রতি একটু একটু করে চাপ বাড়ান। প্রস্তুতির গতি বাড়ালে শরীর-মন সুস্থ রাখতে কিন্তু ঘুম আর খাওয়াটাও চাই পর্যাপ্ত হওয়া। পড়ার গতি আর শরীরকে প্রশান্তি দিতে নিয়মমাফিক খাবার-দাবারের পাশাপাশি ধর্মীয় রীতিনীতির নিয়মিত অনুশীলন আপনাকে রাখবে আরও ফুরফুরে ও আত্মবিশ্বাসী।

পরীক্ষায় অংশ নিন

অনেকেই আছেন নির্দিষ্ট জব বা সার্কুলার ছাড়া আবেদন করতে চান না। এটি ঠিক না। আপনাকে যে ওই চাকরি করতেই হবে বিষয়টি কিন্তু এমন নয় বরং আপনি যখন বিভিন্ন চাকরিতে আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ নিবেন একইসঙ্গে ভালো করবেন। তখন দেখবেন, আপনার সাহস আরও বেড়ে গেছে। তখন পছন্দের চাকরির পরীক্ষাভীতি দূর হবে। সহসাই পেয়ে যাবেন কাঙ্ক্ষিত চাকরিটি।

অন্যর নয়- যুদ্ধটি নিজের সঙ্গে

সর্বদা মনে রাখবেন, ‘যুদ্ধটি কিন্তু নিজের সঙ্গে’। আপনার পড়াশোনার খোঁজ নিয়ে কেউ হয়তো বলবে, ‘তুমি যা পড়ছ সেটি বোধহয় হচ্ছে না’। কেউ হয়তো বলবে, ‘এটি এত সহজ না’। দয়া করে কারো কথায় কান দিবেন না। শুধু নিজের দক্ষতা-যোগ্যতা আর স্ট্র্যাটেজিতে মনোযোগ দিন। দেখবেন সহজেই পৌঁছে গেছেন নিজের গন্তব্যে। হতে পারে আপনি এক ঘণ্টা পড়েই সব পড়া শেষ করতে পারেন। তার মানে অন্য সারা দিন বা রাত জেগে পড়ল বিধায় সে এগিয়ে যাচ্ছে- সেটি ভেবে নিজের আত্মবিশ্বাস কমান যাবে না। সর্বদা কেবল নিজের কৌশল আর কর্মস্পৃহাকে গুরুত্ব দিন।