পাঁচ ঘণ্টা ঘুম কাজ অবিরাম
jugantor
পাঁচ ঘণ্টা ঘুম কাজ অবিরাম

  মিল্লাত হোসেন  

২০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিযোগিতার এ যুগে নয়টা-পাঁচটার দাফতরিক সীমায় ফেলে রাখা যায় না কাজ। প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তা থেকে একেবারে নিচের সারির কর্মী সবাইকে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাজের মাঝে ডুবে থাকতে হয়। আবার দক্ষতা বাড়াতেও আজকাল প্রতিনিয়ত নিজেকে নানাভাবে ঝালাই করতে হয়। তাই যাপিত জীবনে অবিরাম তাড়া রয়েই যায়। এমন অনেকেই আছেন, যারা কাজের। ব্যস্ততায় দিবারাত্রি মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সুযোগ পান না। এতে করে অনেকের কর্মস্পৃহা কমে যায়, অবসাদ নেমে আসে কারও কারও জীবনে। কারণ যাপিত জীবনের গতি স্বাভাবিক রাখতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিন সাত-আট ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। কর্মব্যস্ততায় এতটা সময় ধরে ঘুমানোর সুযোগ মেলে কমই। তবে রাতে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়েও আপনি একই গতিতে দিনে টানা কাজ করে যেতে পারবেন, আসবে না এতটুকু ক্লান্তি। এ জন্য আপনাকে ধাপ-ঘুম চক্রের (বাইফেজিক স্লিপ সাইকেল) মানতে হবে। আসুন জেনে নেই এ চক্রের একটি আদর্শ রূপ।

সকাল আটটা থেকে নয়টা

ঘুম থেকে উঠেই অনলাইন দুনিয়ায় ঢুকে পড়বেন না। বরং যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা দিয়ে দিনটা শুরু করতে পারেন। এরপর গোসল সেরে নাস্তা করে নিন। সঙ্গে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন খবরের কাগজে। এবার ধরুন কর্মস্থলের পথ।

সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা

দিনের সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো এ সময়ে করতে হবে। এরই মধ্যে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সভা, কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা অথবা কাউকে তার চাহিদা মতো তথ্য জানানো। সোজা কথায়, কর্মস্থলে নিজের আবশ্যক দায়িত্বগুলো এ সময়ে শেষ করে ফেলাই উত্তম।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর একটা

কাজের জন্য দরকারি পড়াশোনা ও গবেষণার বিষয়গুলো এ সময় করতে পারেন। এছাড়া গ্রাহকদের সঙ্গে দরকারি আলাপ-আলোচনা ও যোগাযোগ এ সময়ে সেরে রাখা যায়।

দুপুর একটা থেকে দুইটা

দুপুরের খাবারের জন্য এ সময়টা নির্ধারণ করে রাখুন। এর ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে দরকারি আলাপ আর হালকা আড্ডাবাজি করে নিতে পারেন।

দুইটা থেকে বিকাল তিনটা

ইমেইল, ফোনকল থেকে শুরু করে হাতে জমে থাকা অন্য দাফতরিক কাজগুলো করবেন এক ঘণ্টায়।

বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটা

কর্মসময়ের শেষ ধাপের কাজগুলো শেষ করুন। আর পরেরদিনের কার্যসূচিও এ সময়ে করে রাখতে পারেন।

বিকাল পাঁচটা থেকে থেকে সন্ধ্যা ছয়টা

কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সময় খানিকটা সময় ধরে হাঁটুন। হাত মুখ ধুয়ে বসে একটু বিশ্রাম নিন। চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন পত্র-পত্রিকায়।

সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাতটা

এ সময়ের মধ্যে রাতের খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। এ বিষয়টি অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

রাত আটটা থেকে রাত নয়টা

এবার একটু ঘুমিয়ে নিন। এ ঘুমই (ন্যাপ) ধাপ-ঘুম চক্রের মূল ভিত্তি। তাই এটা আবশ্যক।

রাত নয়টা থেকে রাত ১০টা

এই সময়টিতে বই পড়ুন, টিভি দেখুন, গান শোনুন, ফেসবুক-টুইটারে থাকুন অর্থাৎ মনের প্রশান্তির জন্য কিছু একটা করুন। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবকেও সময় দিতে পারেন। আবার লেখালেখির মতো সৃজনশীল কোনো কাজের অভ্যাস থাকলে তাও করতে পারেন।

রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা

পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ অনলাইনে থাকলে তার সঙ্গে পরেরদিনের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। নিজের সংকট, সীমাবদ্ধতাসহ ভালোলাগা, মন্দলাগার নানা কিছু নিয়ে পরিচিতজনের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। তাদের কাছ থেকে পেতে পারেন দারুণ সব পরামর্শ।

রাত ১২টা থেকে রাত তিনটা

অনলাইন, টিভি, বন্ধু-বান্ধবসহ পৃথিবীর সব বন্ধন থেকে এ সময়টা দূরে রাখুন। একেবারেই নিজের দিকে মনোনিবেশ করুন। কর্মদক্ষতা বাড়াতে নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা ভাবুন। নিজের সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য দরকারি পথটি অনুশীলন করতে পারেন। সংকট সমাধানের সৃষ্টিশীল পথ তালাশ করুন। এছাড়া লেখালেখি, বই পাঠেও সময় কাটাতে পারেন।

রাত তিনটা থেকে সকাল আটটা

এই পাঁচ ঘণ্টা কেবলি টানা ঘুমের জন্য।

লক্ষ্য রাখুন

* ওপরে বর্ণিত ধাপ-ঘুম চক্র এলে চূড়ান্ত কথা নয়। নিজের কর্মধারা, শখ, মেধা, দক্ষতা, আর্থসামাজিক অবস্থান, দেশ-সমাজ-পরিবারের রীতি, ঋতু প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে নিজের মতো করে চক্র তৈরি করে নিতে হবে। ওপরের চক্রটি একটি নমুনা মাত্র।

* শারীরিক, মানসিক কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ঘুমের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

* কর্মস্থলে আপনার ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যদি কেউ থাকে, তবে আপনার কর্মঘণ্টার ধাপ-ঘুম চক্রের অংশ বিষয়ে অবশ্যই তাকে জানিয়ে রাখতে হবে। সেভাবেই তার সঙ্গে কাজের সমন্বয় করে নিতে হবে।

* ধাপ-ঘুম চক্র মেনে চলতে হলে, অবশ্যই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ঠিক সময়ে খেতে হবে। একটি শৃঙ্খলার মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে। ঘুম তাড়াতে কফি নির্ভর হলে চলবে না।

* সপ্তাহের ছুটির দিনে ধাপ-ঘুম চক্র মানতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এই দিন জীবনকে আরও বেশি উপভোগ করুন। পরিবার-পরিজনকে সময় দিন। পরের সপ্তাহে আরও বড় কোনো কাজে মনোযোগী হতে ছুটির দিনে নিজেকে চাঙা করা জরুরি।

লাইফ হ্যাকারের ছায়া অবলম্বনে

পাঁচ ঘণ্টা ঘুম কাজ অবিরাম

 মিল্লাত হোসেন 
২০ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিযোগিতার এ যুগে নয়টা-পাঁচটার দাফতরিক সীমায় ফেলে রাখা যায় না কাজ। প্রতিষ্ঠানের বড় কর্তা থেকে একেবারে নিচের সারির কর্মী সবাইকে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি কাজের মাঝে ডুবে থাকতে হয়। আবার দক্ষতা বাড়াতেও আজকাল প্রতিনিয়ত নিজেকে নানাভাবে ঝালাই করতে হয়। তাই যাপিত জীবনে অবিরাম তাড়া রয়েই যায়। এমন অনেকেই আছেন, যারা কাজের। ব্যস্ততায় দিবারাত্রি মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টার বেশি ঘুমানোর সুযোগ পান না। এতে করে অনেকের কর্মস্পৃহা কমে যায়, অবসাদ নেমে আসে কারও কারও জীবনে। কারণ যাপিত জীবনের গতি স্বাভাবিক রাখতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিন সাত-আট ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। কর্মব্যস্ততায় এতটা সময় ধরে ঘুমানোর সুযোগ মেলে কমই। তবে রাতে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়েও আপনি একই গতিতে দিনে টানা কাজ করে যেতে পারবেন, আসবে না এতটুকু ক্লান্তি। এ জন্য আপনাকে ধাপ-ঘুম চক্রের (বাইফেজিক স্লিপ সাইকেল) মানতে হবে। আসুন জেনে নেই এ চক্রের একটি আদর্শ রূপ।

সকাল আটটা থেকে নয়টা

ঘুম থেকে উঠেই অনলাইন দুনিয়ায় ঢুকে পড়বেন না। বরং যোগব্যায়াম বা হালকা শরীরচর্চা দিয়ে দিনটা শুরু করতে পারেন। এরপর গোসল সেরে নাস্তা করে নিন। সঙ্গে চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন খবরের কাগজে। এবার ধরুন কর্মস্থলের পথ।

সকাল নয়টা থেকে বেলা ১১টা

দিনের সবচেয়ে জরুরি কাজগুলো এ সময়ে করতে হবে। এরই মধ্যে থাকতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সভা, কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা অথবা কাউকে তার চাহিদা মতো তথ্য জানানো। সোজা কথায়, কর্মস্থলে নিজের আবশ্যক দায়িত্বগুলো এ সময়ে শেষ করে ফেলাই উত্তম।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর একটা

কাজের জন্য দরকারি পড়াশোনা ও গবেষণার বিষয়গুলো এ সময় করতে পারেন। এছাড়া গ্রাহকদের সঙ্গে দরকারি আলাপ-আলোচনা ও যোগাযোগ এ সময়ে সেরে রাখা যায়।

দুপুর একটা থেকে দুইটা

দুপুরের খাবারের জন্য এ সময়টা নির্ধারণ করে রাখুন। এর ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে দরকারি আলাপ আর হালকা আড্ডাবাজি করে নিতে পারেন।

দুইটা থেকে বিকাল তিনটা

ইমেইল, ফোনকল থেকে শুরু করে হাতে জমে থাকা অন্য দাফতরিক কাজগুলো করবেন এক ঘণ্টায়।

বিকাল তিনটা থেকে পাঁচটা

কর্মসময়ের শেষ ধাপের কাজগুলো শেষ করুন। আর পরেরদিনের কার্যসূচিও এ সময়ে করে রাখতে পারেন।

বিকাল পাঁচটা থেকে থেকে সন্ধ্যা ছয়টা

কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সময় খানিকটা সময় ধরে হাঁটুন। হাত মুখ ধুয়ে বসে একটু বিশ্রাম নিন। চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন পত্র-পত্রিকায়।

সন্ধ্যা ছয়টা থেকে সাতটা

এ সময়ের মধ্যে রাতের খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। এ বিষয়টি অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

রাত আটটা থেকে রাত নয়টা

এবার একটু ঘুমিয়ে নিন। এ ঘুমই (ন্যাপ) ধাপ-ঘুম চক্রের মূল ভিত্তি। তাই এটা আবশ্যক।

রাত নয়টা থেকে রাত ১০টা

এই সময়টিতে বই পড়ুন, টিভি দেখুন, গান শোনুন, ফেসবুক-টুইটারে থাকুন অর্থাৎ মনের প্রশান্তির জন্য কিছু একটা করুন। পরিবার বা বন্ধুবান্ধবকেও সময় দিতে পারেন। আবার লেখালেখির মতো সৃজনশীল কোনো কাজের অভ্যাস থাকলে তাও করতে পারেন।

রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা

পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ অনলাইনে থাকলে তার সঙ্গে পরেরদিনের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। নিজের সংকট, সীমাবদ্ধতাসহ ভালোলাগা, মন্দলাগার নানা কিছু নিয়ে পরিচিতজনের সঙ্গে আলাপ করতে পারেন। তাদের কাছ থেকে পেতে পারেন দারুণ সব পরামর্শ।

রাত ১২টা থেকে রাত তিনটা

অনলাইন, টিভি, বন্ধু-বান্ধবসহ পৃথিবীর সব বন্ধন থেকে এ সময়টা দূরে রাখুন। একেবারেই নিজের দিকে মনোনিবেশ করুন। কর্মদক্ষতা বাড়াতে নতুন নতুন পরিকল্পনার কথা ভাবুন। নিজের সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য দরকারি পথটি অনুশীলন করতে পারেন। সংকট সমাধানের সৃষ্টিশীল পথ তালাশ করুন। এছাড়া লেখালেখি, বই পাঠেও সময় কাটাতে পারেন।

রাত তিনটা থেকে সকাল আটটা

এই পাঁচ ঘণ্টা কেবলি টানা ঘুমের জন্য।

লক্ষ্য রাখুন

* ওপরে বর্ণিত ধাপ-ঘুম চক্র এলে চূড়ান্ত কথা নয়। নিজের কর্মধারা, শখ, মেধা, দক্ষতা, আর্থসামাজিক অবস্থান, দেশ-সমাজ-পরিবারের রীতি, ঋতু প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করে নিজের মতো করে চক্র তৈরি করে নিতে হবে। ওপরের চক্রটি একটি নমুনা মাত্র।

* শারীরিক, মানসিক কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ঘুমের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

* কর্মস্থলে আপনার ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে যদি কেউ থাকে, তবে আপনার কর্মঘণ্টার ধাপ-ঘুম চক্রের অংশ বিষয়ে অবশ্যই তাকে জানিয়ে রাখতে হবে। সেভাবেই তার সঙ্গে কাজের সমন্বয় করে নিতে হবে।

* ধাপ-ঘুম চক্র মেনে চলতে হলে, অবশ্যই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার ঠিক সময়ে খেতে হবে। একটি শৃঙ্খলার মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে। ঘুম তাড়াতে কফি নির্ভর হলে চলবে না।

* সপ্তাহের ছুটির দিনে ধাপ-ঘুম চক্র মানতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এই দিন জীবনকে আরও বেশি উপভোগ করুন। পরিবার-পরিজনকে সময় দিন। পরের সপ্তাহে আরও বড় কোনো কাজে মনোযোগী হতে ছুটির দিনে নিজেকে চাঙা করা জরুরি।

লাইফ হ্যাকারের ছায়া অবলম্বনে