ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার
jugantor
ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার

   

২০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীজুড়ে জনসংখ্যার বিস্তৃতি ক্রমশ বাড়ছে। সে তুলনায় কমছে কর্মসংস্থান। তবে তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে বৈশ্বিক গ্রামে কাজের কোনো অভাব নেই। বিশ্বের দেশে দেশে তাই গড়ে উঠেছে ফ্রিল্যান্সার। বাংলাদেশেও এর প্রতিফলন উল্লেখ করার মতো। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান দখল করে আছে। প্রথম দিকে এ দেশের তরুণরা স্ব-উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং করলেও এখাতে এখন সরকারের সহায়তা মিলছে। দেশে বিদেশি ফ্রিল্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও নিয়োগ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এখন অপার সম্ভাবনা একটি খাত।

অর্থনীতিতে অবদান

২০১২ সালে ৩৬৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছেন বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা। ২০১৫ সালে সর্বমোট ৪৪৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের কাজ আউটসোর্স হবে। আমরা যদি এর ১০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিতে পারি তাহলে সেটা প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং ৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিলে সেটা হবে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যা কিনা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বর্তমানের সবচেয়ে বড় খাতকেও অতিক্রম করবে।

ফ্রিল্যান্সিং কী?

উন্নত বিশ্বের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো যখন ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অন্য একজনকে দিয়ে সম্পন্ন করানো হয়, তাকেই ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং হিসেবে অভিহিত করা হয়। এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ইন্টারনেটে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট বেশ জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। এসব ওয়েবসাইটে কয়েক লাখ লোক ফ্রিল্যান্সিং করছে বিভিন্ন কাজের। এই ওয়েবসাইটগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ নিয়ে যিনি কাজ করবেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করানোর ভূমিকাটি পালন করে। আর এখন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারী রাখার চেয়ে চুক্তিভিত্তিতে কাজ করাতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এতে করে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট অংকে, নির্দিষ্ট সময়ে কাঙ্ক্ষিত কাজটি আদায় করতে পারে। অন্যদিকে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করেও অনলাইনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের দেয়া কাজের ওপর আলোচনা করে ঘরে বসেই কাজটি করে দিতে সক্ষম হয় ফ্রিল্যান্সাররা। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের অধিকাংশ কাজই ফ্রিল্যান্সিং হিসেবেই করিয়ে নিচ্ছেন। আমেরিকা-ইউরোপের যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ করে, তারা তাদের প্রায় সব কাজই অনলাইনের কর্মীদের দিয়ে করিয়ে নিয়ে থাকে।

কি কি কাজ করা যায়?

কম্পিউটারে করা যায় এমন প্রায় সব ধরনের কাজের জন্যই তৈরি হয়েছে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এসব মার্কেটপ্লেসে যেসব কাজ পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারনেট মার্কেটিং, প্রেজেন্টেশন, মাল্টিমিডিয়া, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইলাস্ট্রেশন, কার্টুন, পেইন্টিং, স্কাল্পটিং, মার্কেটিং, বিজ্ঞাপন, বিক্রয়, জনসংযোগ, ইঞ্জিনিয়ার, ক্যাড, আর্কিটেকচার, নেটওয়ার্কিং, হার্ডওয়ার ডেভেলপ, লিগ্যাল সার্ভিস, ফ্যাশন ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, ফটোগ্রাফি, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং, কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট ইমপ্লিমেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ডাটাবেজ, লেখা, সম্পাদনা, অনুবাদ, টেলিমার্কেটিং, স্ট্র্যাটেজি কনসাল্টিং, ভিডিওগ্রাফি, ডকুমেন্টারি, ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং, ব্রডকাস্টিং, ভিডিও এডিটিং, মিউজিক তৈরি ইত্যাদি। এসব পেশাই অনলাইন আউটসোর্সিংয়ে উল্লেখযোগ্য পেশা। এসব পেশার ওপর বহু কাজ পাওয়া যায় অনলাইনে।

করণীয়

সত্যিকারের ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে আপনার দরকার যে কোনো একটি কাজের আগাগোড়া খেয়ে ফেলা অর্থাৎ কাজটি এমনভাবে শিখতে হবে যাতে করে আপনি সারা বিশ্বের সব ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন। আর তা না হলে দু-একটা কাজ পেলেও যে কোনো সময় ছিটকে পড়বেন। ভার্সিটি পরীক্ষায় যেমন যে কোনো বিষয়ের খুঁটিনাটিসহ ভালোভাবে বুঝতে হয় ফ্রিল্যান্সিংটা তাই। কারণ ভার্সিটির মতোই এখানে প্রতিযোগিতা দিয়ে কাজ অর্জন করে নিতে হয়।

কাজ কোথায় পাওয়া যাবে?

ইন্টারনেটে অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এসব সাইটকে বলা হয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। উল্লেখযোগ্য কিছু আউটসোর্সিংয়ের ওয়েবসাইটের ঠিকানা তুলে ধরা হল। www.upwork.com, www.freelancer.com, www.99designs.com, www.themeforest.net, www. outsourcexp.com, www. mochimedia.com,www.joomlancers.com এ ছাড়াও বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং লিখে সার্চ দিলেও অনেক ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যাবে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে ক্যারিয়ার

  
২০ মার্চ ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পৃথিবীজুড়ে জনসংখ্যার বিস্তৃতি ক্রমশ বাড়ছে। সে তুলনায় কমছে কর্মসংস্থান। তবে তথ্যপ্রযুক্তির বদৌলতে বৈশ্বিক গ্রামে কাজের কোনো অভাব নেই। বিশ্বের দেশে দেশে তাই গড়ে উঠেছে ফ্রিল্যান্সার। বাংলাদেশেও এর প্রতিফলন উল্লেখ করার মতো। ফ্রিল্যান্সিংয়ে সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান দখল করে আছে। প্রথম দিকে এ দেশের তরুণরা স্ব-উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সিং করলেও এখাতে এখন সরকারের সহায়তা মিলছে। দেশে বিদেশি ফ্রিল্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও নিয়োগ করা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং এখন অপার সম্ভাবনা একটি খাত।

অর্থনীতিতে অবদান

২০১২ সালে ৩৬৫ কোটি টাকারও বেশি আয় করেছেন বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা। ২০১৫ সালে সর্বমোট ৪৪৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণের কাজ আউটসোর্স হবে। আমরা যদি এর ১০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিতে পারি তাহলে সেটা প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার এবং ৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিলে সেটা হবে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ইউএস ডলার, যা কিনা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বর্তমানের সবচেয়ে বড় খাতকেও অতিক্রম করবে।

ফ্রিল্যান্সিং কী?

উন্নত বিশ্বের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজগুলো যখন ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অন্য একজনকে দিয়ে সম্পন্ন করানো হয়, তাকেই ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং হিসেবে অভিহিত করা হয়। এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য ইন্টারনেটে বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট বেশ জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠেছে। এসব ওয়েবসাইটে কয়েক লাখ লোক ফ্রিল্যান্সিং করছে বিভিন্ন কাজের। এই ওয়েবসাইটগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে কাজ নিয়ে যিনি কাজ করবেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করানোর ভূমিকাটি পালন করে। আর এখন অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই মাসিক বেতনভুক্ত কর্মচারী রাখার চেয়ে চুক্তিভিত্তিতে কাজ করাতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এতে করে ওই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট অংকে, নির্দিষ্ট সময়ে কাঙ্ক্ষিত কাজটি আদায় করতে পারে। অন্যদিকে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না করেও অনলাইনের মাধ্যমে ওই প্রতিষ্ঠানের দেয়া কাজের ওপর আলোচনা করে ঘরে বসেই কাজটি করে দিতে সক্ষম হয় ফ্রিল্যান্সাররা। বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তাদের অধিকাংশ কাজই ফ্রিল্যান্সিং হিসেবেই করিয়ে নিচ্ছেন। আমেরিকা-ইউরোপের যেসব প্রতিষ্ঠান তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে কাজ করে, তারা তাদের প্রায় সব কাজই অনলাইনের কর্মীদের দিয়ে করিয়ে নিয়ে থাকে।

কি কি কাজ করা যায়?

কম্পিউটারে করা যায় এমন প্রায় সব ধরনের কাজের জন্যই তৈরি হয়েছে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। এসব মার্কেটপ্লেসে যেসব কাজ পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট, ইন্টারনেট মার্কেটিং, প্রেজেন্টেশন, মাল্টিমিডিয়া, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ইলাস্ট্রেশন, কার্টুন, পেইন্টিং, স্কাল্পটিং, মার্কেটিং, বিজ্ঞাপন, বিক্রয়, জনসংযোগ, ইঞ্জিনিয়ার, ক্যাড, আর্কিটেকচার, নেটওয়ার্কিং, হার্ডওয়ার ডেভেলপ, লিগ্যাল সার্ভিস, ফ্যাশন ডিজাইন, ইন্টেরিয়র ডিজাইন, ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইন, ফটোগ্রাফি, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং, কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট ইমপ্লিমেন্টেশন, প্রোগ্রামিং, ডাটাবেজ, লেখা, সম্পাদনা, অনুবাদ, টেলিমার্কেটিং, স্ট্র্যাটেজি কনসাল্টিং, ভিডিওগ্রাফি, ডকুমেন্টারি, ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং, ব্রডকাস্টিং, ভিডিও এডিটিং, মিউজিক তৈরি ইত্যাদি। এসব পেশাই অনলাইন আউটসোর্সিংয়ে উল্লেখযোগ্য পেশা। এসব পেশার ওপর বহু কাজ পাওয়া যায় অনলাইনে।

করণীয়

সত্যিকারের ফ্রিল্যান্সার হতে চাইলে আপনার দরকার যে কোনো একটি কাজের আগাগোড়া খেয়ে ফেলা অর্থাৎ কাজটি এমনভাবে শিখতে হবে যাতে করে আপনি সারা বিশ্বের সব ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেন। আর তা না হলে দু-একটা কাজ পেলেও যে কোনো সময় ছিটকে পড়বেন। ভার্সিটি পরীক্ষায় যেমন যে কোনো বিষয়ের খুঁটিনাটিসহ ভালোভাবে বুঝতে হয় ফ্রিল্যান্সিংটা তাই। কারণ ভার্সিটির মতোই এখানে প্রতিযোগিতা দিয়ে কাজ অর্জন করে নিতে হয়।

কাজ কোথায় পাওয়া যাবে?

ইন্টারনেটে অনেক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এসব সাইটকে বলা হয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। উল্লেখযোগ্য কিছু আউটসোর্সিংয়ের ওয়েবসাইটের ঠিকানা তুলে ধরা হল। www.upwork.com, www.freelancer.com, www.99designs.com, www.themeforest.net, www. outsourcexp.com, www. mochimedia.com,www.joomlancers.com এ ছাড়াও বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে ফ্রিল্যান্সিং আউটসোর্সিং লিখে সার্চ দিলেও অনেক ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যাবে।