ভাতাসহ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ পাবে ১০ হাজার তরুণ

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মোহাম্মদ আতাউর রহমান

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বেশি। যেটিকে অর্থনীতির পরিভাষায় ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড (জনসংখ্যাতাত্ত্বিক বোনাসকাল) বলা হয়ে থাকে।

এই বিপুল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বেকার। তারা কাজ চাচ্ছে কিন্তু কাক্সিক্ষত কাজ পাচ্ছে না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, কাজ আছে কিন্তু সেই কাজের জন্য যে ধরনের যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণ থাকা দরকার সেটি নেই অনেকের। ফলে চাকরিও হচ্ছে না।

এভাবে দেশে বেকারের মিছিল বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী গত এক বছরে দেশে বেকার বেড়েছে ৮০ হাজার। বর্তমানে মোট ২৬ লাখ ৮০ হাজার নারী-পুরুষ বেকার। দিনের পর দিন বসে থেকে এসব তরুণদের কর্মক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে।

এসব বেকার তরুণ-তরুণীর সঠিকভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানসম্মত চাকরির ব্যবস্থার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

কতজনকে প্রশিক্ষণ

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ) প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেবে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাইওয়া) ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি।

প্রতিষ্ঠানটি ৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। ইতিমধ্যে এ প্রশিক্ষণ প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপে মোট ৮ হাজার ৫৪১ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ধাপের প্রশিক্ষণের প্রক্রিয়া।

ডিসেম্বর ২০২০ সালের মধ্যে দেশে ১০ হাজার ৬৬০ জনকে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাইওয়া ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি।

প্রশিক্ষণের বিষয়ে জানতে চাইলে বাইওয়া-সেইপ প্রকল্পের চিফ কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন বলেন, হাতে-কলমে কাজের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার বিনামূল্যে তরুণদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে।

এর মধ্যে যেসব প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে তার মধ্যে স্কিলস ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (সেইপ) প্রকল্প অন্যতম। এ প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার পর আমরা আবার দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু করেছি।

যে ৬টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে

১. মেশিন শপ প্র্যাকটিস

২. ওয়েল্ডিং

৩. ক্যাড-ক্যাম ডিজাইন অ্যান্ড প্রোগ্রামিং

৪. রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং

৫. ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্সটলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স

৬. সিএনসি মেশিন অপারেশন

প্রশিক্ষণের মেয়াদ

মেশিন শপ প্র্যাকটিস-০৪ মাস, ওয়েল্ডিং-০৪ মাস, ক্যাড-ক্যাম ডিজাইন অ্যান্ড প্রোগ্রামিং-০৬ মাস, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং-০৪ মাস, ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্সটলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স-০৪ মাস, সিএনসি মেশিন অপারেশন-০৪ মাস। প্রতি ব্যাচে সুযোগ পাবে ২৫ জন। এছাড়া রয়েছে এক মাসের মাস্টার ক্রাফটম্যানশিপ কোর্স।

বিষয়ভেদে যোগ্যতা

মেশিন শপ প্র্যাকটিস, ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ারকন্ডিশনিং, ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্সটলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিষয়গুলোতে ৫ম শ্রেণী পাস হলেই প্রশিক্ষণ নেয়া যাবে। অন্যদিকে ক্যাড-ক্যাম ডিজাইন অ্যান্ড প্রোগ্রামিং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থাকতে হবে। অপরদিকে সিএনসি মেশিন অপারেশন বিষয়ে আবেদন করতে হলে এসএসসি পাস হতে হবে।

কোন কোর্স কখন

- মেশিন শপ প্র্যাকটিস কোর্সটি ১৫ এপ্রিল, ২০১৮ শুরু হয়েছে।

- ওয়েল্ডিং কোর্সটি চালু হবে ১ জুলাই, ২০১৮ তারিখ।

- ক্যাড-ক্যাম ডিজাইন অ্যান্ড প্রোগ্রামিং কোর্সটি চালু হবে ৩০ এপ্রিল, ২০১৮ তারিখ।

- রিফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং কোর্সটি চালু হবে ৩০ এপ্রিল, ২০১৮।

- ইলেক্ট্রিক্যাল ইন্সটলেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স কোর্সটি চালু হবে ৩০ এপ্রিল।

- সিএনসি মেশিন অপারেশন কোর্সটি চালু হবে ১ জুন ২০১৮ তারিখ।

কোর্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই অপর সেশন চালু করার জন্য ভর্তি নেয়া হয়। আগ্রহীরা ভর্তির আবেদন আগে থেকেই জমা দিতে পারেন।

ক্লাস নেয়ার ধরন

প্রতি ব্যাচে সুযোগ পাবে ২৫ জন। প্রতিটি বিষয়েই প্র্যাকটিক্যাল এবং থিওরিটিক্যাল ক্লাস নেয়া হবে। ক্লাস নেয়া হয় রবি থেকে বৃহস্পতিবার। সরকারি ছুটির দিনগুলোতে বন্ধ থাকে। দুই শিফটে ক্লাসের সুযোগ রয়েছে। সকালের শিফট শুরু হয় সকাল ৯টায় এবং শেষ হয় দুপুর ১টায়। দুপুরের শিফট শুরু হয় ১টায় এবং শেষ হয় বিকাল ৫টায়।

কাদের জন্য প্রশিক্ষণ

প্রতিটি বিষয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া অগ্রাধিকার পাবে নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীরা। মাস্টার ক্রাফটসম্যানশিপ বিষয়ে তিন বছরে প্রশিক্ষণ পাবে পাঁচ হাজার ৩৩০ জন। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প-কারখানায় যে কোনো বিষয়ে টেকনিশিয়ান বা কারিগর হিসেবে তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকলেই অংশ নেয়া যাবে এ কোর্সে।

ভর্তি

আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন ফরম পাবেন প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট www.bletibd.org এই ঠিকানায়। এছাড়াও বিনামূল্যে ভর্তি ফরম পাওয়া যাবে বাইওয়া ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি, প্যারাডাইস ভবন, ২ ফোল্ডার স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা এই ঠিকানায়। ফরমের যাবতীয় তথ্য হাতে লিখে বা কম্পিউটারে কম্পোজ করে প্রিন্ট দিয়ে সরাসরি বা কুরিয়ারে পাঠানো যাবে। অনলাইনে প্রতিষ্ঠানটির [email protected] এই মেইলের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করে পাঠাতে পারবেন।

এছাড়া প্রশিক্ষণের বিজ্ঞপ্তিটি সরাসরি পেতে প্রতিষ্ঠানের এই লিংকটি দেখুন-

http://seip-fd.gov.bd/wp-content/uploads/2018/04/Bangladesh-Pratidin-06-04-2018.jpg

যেভাবে প্রার্থীদের বাছাই করা হবে

আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্যদের ডাকা হবে মৌখিক পরীক্ষার জন্য। মৌখিক পরীক্ষায় দেখা হবে প্রশিক্ষণের বিষয়ে আগ্রহ, যোগ্যতা, ভবিষ্যতে এ কাজে নিজে স্বাবলম্বী হবে কি না বা চাকরিতে কতটুকু আগ্রহ আছে, এসব বিষয়গুলো।

ভর্তির সময় যা লাগবে

ভর্তির সময় সঙ্গে নিতে হবে দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।

সুযোগ সুবিধা

প্রশিক্ষণগুলো একেবারেই ফ্রি। প্রশিক্ষণ শেষে ভাতা পাওয়া যাবে দৈনিক উপস্থিতির ভিত্তিতে। এতে দেয়া হবে যাতায়াত ও টিফিন বাবদ ভাতা। ক্লাসে উপস্থিত থাকলে রোজ ১০০ টাকা যাতায়াত বাবদ এবং টিফিন বাবদ দেয়া হবে ৫০ টাকা। ভাতার এ টাকা কোর্স শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেয়া হবে। সেজন্য প্রশিক্ষণার্থীকে খুলতে হবে মোবাইল ব্যাংক হিসাব।

সফল প্রশিক্ষণ শেষে চাকরির সুযোগ

কোর্স শেষে সফল প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরির সুযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাইওয়া ট্রেনিং ফ্যাসিলিটির জব প্লেসমেন্ট অ্যান্ড ডাটা বেইস সমন্বয়কারী মো. মহসীন আলী জানান, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের সারা দেশের প্রায় তিন হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ রয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নেয়া দক্ষ বেকারদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। প্রথম ধাপে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৭৫১ জনকে খাতওয়ারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। আমরা প্রথম ধাপের মতো দ্বিতীয় ধাপেও প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীদের জন্য ওই প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির ব্যবস্থা করবো।

যোগাযোগ

বাইওয়া ট্রেনিং ফ্যাসিলিটির ওয়েবসাইট www.bletibd.org এবং বাইওয়া ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি, প্যারাডাইস ভবন, ২ ফোল্ডার স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা এই ঠিকানায় ভর্তি ও প্রশিক্ষণসংক্রান্ত যাবতীয় প্রশিক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

এছাড়াও ০১৯৯৮০১৬৭৪৪, ০১৯৯৮০১৬৭৪১ এবং ০১৯৯৮০১৬৭৪২ এই মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে ০২-৯৫৩২৩৭২ নম্বরেও বিভিন্ন তথ্য জানা যাবে।